অপরাধ বিচিত্রাঃ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের দাবী দাওয়া পেশ করেন সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক এস এম মোরশেদ ও সভাপতি মাইনুল হক ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক আবেদনে প্রধান মন্ত্রীর কাছে জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদনের মাধ্যমে তারা সাপ্তাহিক পত্রিকার বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ‘সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ’ দেশের সকল সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকদের ঐক্যবদ্ধ একটি রেজিষ্টার্ড সংগঠন। এই সংগঠনটি দেশের সকল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকার সমস্যা সমাধানই নয় বরং দেশের সকল গণমাধ্যম এর সকল সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনের জন্য অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করে চলছে। দেশের নানা ক্রান্তি লগ্নে এই প্রতিষ্ঠান সভা-সেমিনার, র্যালিসহ বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন করে থাকে। সরকারের ভিষন বাস্তবায়নে, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে, উন্নয়ন ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে সহযোগিতার মাধ্যমে একযোগে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। পুরো সপ্তাহের গুরুত্বপুর্ণ সংবাদগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিনোদন, অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পাঠকপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে এ সেক্টরের ভূমিকা অতিব গুরুত্বপুর্ণ।
এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন দেশব্যাপি সম্পাদক-প্রকাশক, সংবাদকর্মী, বিপণন কর্মী, উৎপাদন কর্মী, সাধারন শ্রমিকসহ একটি বিশাল নেটওয়ার্কে এক কর্মযজ্ঞ জনশক্তি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো যেসকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সাপ্তাহিক পত্রিকার ক্ষেত্রে তা পালন করা হচ্ছে না। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের একজন অভিভাবক। আজকে এই সেক্টরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আমাদের সমস্যা-সীমাবদ্ধতাগুলো শুনে আমাদের টিকে থাকার স্বার্থে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবার কলম সৈনিক হিসাবে একটি যুগোপযুগী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় কাউন্সিল করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব সহকারে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের কাছে এই সেক্টরের সমস্যাগুলো নিয়ে দাবী দাওয়া জানালেও কোন সরকারই সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে কার্যত সারাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো দেশ গঠনে টিকে থাকা এবং যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সারাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর সাথে প্রতিটি থানা ভিত্তিক সংবাদকর্মী, বিপনণ কর্মী, উৎপাদন কর্মী, সাধারন শ্রমিক এবং তাদের পরিবার, সংবাদপত্র ছাপানোর কাগজের ব্যবসা, কম্পিউটার ব্যবসা, তথ্য প্রযুক্তি কর্মী, প্রিন্টিং মেশিন, ডিজিটাল মেশিন, কালি ব্যবসায়ি, আবার কাগজ কালি এবং মেশিন এর সংযোগ শিল্প ব্যাক-আপ- ব্যাংক, বাইন্ডিং, পরিবহন তথা বাস, বিমান, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা, হকার মিলিয়ে আনুমানিক ৫০ লক্ষাধিক লোক জড়িত। এসব সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে নিয়োজিত সংবাদকর্মীগন জীবনের ঝুকি নিয়ে, রাজস্ব ফাঁকিবাজ, চোরাচালানি, মজুদদার, সরকারি ভূমি দখলবাজ তথা ভূমিদস্যু, খাদ্যে ভেজালকারী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মুখোশ উন্মেচন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সকল গোয়েন্দা সংস্থা, রাজস্ব বিভাগসহ, দুদক’কে সহযোগিতা তথা দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে সকল অপরাধীদের জিঙ্গাংসার শিকার হয়ে অনেক সংবাদকর্মী, সাংবাদিক, সম্পাদক, বিভিন্ন জেলা, থানা পর্যায়ে নিজের জীবন বিসর্জন পর্যন্ত দিয়েছেন। প্রকারান্তরে সে সকল সাংবাদিকের হত্যার বিচার আজও হয়নি। অনেক সময় অপরাধীদের প্রভাবে সম্পাদক বা সাংবাদিকের নামে হয় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা বা হয়রানীমূলক নানা ধরনের মিথ্যা মামলায় অনেকেই আজো হয়রানী হচ্ছে। আবার এত কিছুর পরও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের খবর এসকল সংবাদপত্রগুলো নিয়মিত দেশবাসির সম্মূখে তুলে ধরছে। সরকার এ খাতটিকে যথাযথ সহযোগিতা না করায় এ শিল্পটি আশানুরুপ বিকশিত হতে পারছে না। ফলে দেশের প্রায় সকল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকাগুলো ভর্তুকি দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। এক সময় কাগজ দিয়ে, সুষ্ঠু বিজ্ঞাপন বন্টনের মাধ্যমে, ক্রোড়পত্র দিয়ে এ শিল্পকে সহযোগিতা করা হতো। বলতে গেলে সে শুষম ব্যবস্থাপনা এখন আর নেই বরং তার পরিবর্তে কাগজ না দিয়ে, সুষ্ঠু বিজ্ঞাপন বন্টন না করে, স্বজনপ্রীতি, হয়রানীর মাত্রা বৃদ্ধি হয়েছে। এ শিল্পের মত এত হ-য-ব-র-ল অবস্থা আর কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছেনা।
তাই প্রেস বান্ধব সরকার হিসাবে পরিচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র কাছে এসব সমস্যা সমাধানে আকুল আবেদন জানাই।
সংবাদপত্র শুধু রাষ্টের চতুর্থ স্তম্ভই নয়। এটি এখন বর্তমান সরকার কর্তৃক ঘোষিত একটি শিল্প। তাই এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখা আবশ্যক। জাতির বিবেক হিসাবে খ্যাত এই শিল্প খাতকে বাদ দিয়ে বা এড়িয়ে গিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ নয়, বরং এর সঠিক প্রণোদনা ও পরিচর্যার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আর এ জন্য প্রথমেই প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী শক্তিশালীকরণ করতে হবে। সারা দেশে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের সংগঠন বিরাজ করছে। ঠিক কতগুলো সংগঠন দেশে রয়েছে, কতগুলো সংবাদপত্র বের হচ্ছে, কতজন সাংবাদিক দেশে রয়েছেন, এসব সাংবাদিক এর অধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা, এদের কর্মের পুরস্কার বা অপরাধের তিরস্কার; এর মানসম্মত কার্যত কোন পদক্ষেপ নেই। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত এসকল সাংবাদিকগনকে মানহানীর মত মামলায়ও চোর, ডাকাত, খুনি অপরাধীদের সাথে আদালতে দাঁড়াতে হয়। এ সেক্টরে সারা দেশে কত সাংবাদিক কাজ করছে, কত সংগঠন রয়েছে এর প্রকৃত কোন তথ্য চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয় বা তথ্য অধিদফতর বা কোন দায়িত্বশীল সংস্থার কাছে নেই। এ মুহুর্তে যার যার কাছে যে ধারণা রয়েছে বা যে রেকর্ড রয়েছে তার চিত্রই তিনি দিতে পারবেন। এটি প্রকৃত চিত্র নয়। দেশে কয়টি পত্রিকা বের হচ্ছে, কোথায় থেকে বের হচ্ছে, এর সঠিক চিত্র ডিএফপিতেও নেই। এমন অনেক পত্রিকা দেখা যায় জেলা প্রশাসক এর দপ্তরে আছে, ডিএফপি’র প্রকাশিত তালিকায় নেই। এছাড়াও সাংবাদিক সংগঠনগুলো কেউ রেজিষ্ট্রেশন বিহীন, কেউ সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়েছেন আবার কেউবা জয়েন্ট ষ্টক রেজিষ্টার অব ফার্মস থেকে রেজিষ্টেশন নিয়েছেন। কিন্তু কেউই তথ্য অধিদপ্তর বা প্রেস কাউন্সিলের কাছে নিবন্ধন করেন নাই বা করতে হবে এমন কোন নীতিমালাও নেই। দেশের অন্যান্য সেক্টরে এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থা বোধ হয় আর নেই। আমরা মনে করি, সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগঠনগুলোরও একটি শৃংখলা থাকা আবশ্যক। সে জন্য উক্ত সংগঠনগুলোরও নিবন্ধন পদ্ধতি, বিধিমালা প্রনয়ন সহ জাতীয় নীতিমালা আবশ্যক। এ নীতিমালা না থাকায় অনেক অপেশাদার ব্যাক্তি যেমন-পান দোকানদার, মাদক ব্যবসায়ী, ডিম বিক্রেতা, ভূমিদস্যুগন, কালোবাজারী, নারী শিশু পাচারকারী সহ নানা পেশার নানা অনৈতিক লোকজন এখন সাংবাদিকতার কার্ড বহন করে সাংবাদিক সেজেছেন। এমনকি গাড়িতে প্রেস/সাংবাদিক ষ্টিকার লাগিয়ে রাজপথে ট্রাফিকদেরও দাপটের সাথে প্রভাব খাটিয়ে চলছেন। এতে করে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। ফলে এ পেশায় এক প্রকার নৈরাজ্য চলছে। বিভিন্ন পেশায় যেমন রেজিষ্টেশন থাকা বাধ্যতামুলক, তেমনি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নৈতিকতা, বাধ্যবাধকতা, দায়বদ্ধতা থাকা আবশ্যক। তা না হলে ভবিষ্যতে এ পেশায় চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। যা জাতির বিবেক হিসাবে পরিচিত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকেই নয় এ শিল্পেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। যা সংঙ্গত কারনে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।
এ প্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তাবনা সমুহ নিম্নরুপ:
১। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের মনোনিত অন্তত দু’জনকে সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
২। সকল সাপ্তাহিক পত্রিকা সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা মোকদ্দমা প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সমাধান করতে হবে।
৩। সকল জাতীয় দিবসে সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে ক্রোড়পত্রের বরাদ্দ দিতে হবে।
৪। সকল সাপ্তাহিক পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট যুক্তিসঙ্গতভাবে বৃদ্ধি করে যুগোপযুগি করতে হবে।
৫। সকল বিজ্ঞাপনের ৫০ ভাগ সাপ্তাহিক পত্রিকার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। যেহেতু টেন্ডার বিজ্ঞাপন সাপ্তাহিক পত্রিকার জন্য বরাদ্দ নেই; তাই এ শিল্পের জন্য সকল সরকারী বেসরকারী, ব্যাংক বীমা, আর্থিক লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন বরাদ্দ দিতে হবে।
৬। বিজ্ঞাপন এর বিল থেকে সার্ভিস চার্জ ব্যাতিত সকল ভ্যাট ট্যাক্স কর্তন বন্ধ করতে হবে এবং বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও হয়রানী বন্ধ করতে হবে।
৭। সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকার জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা এবং ছাপাখানা আইন যুগোপযোগী ভাবে তৈরি করতে হবে।
৮। প্রতি বৎসর একটি জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রচার সংখ্যার নিরীখে মূল্যায়ন বা প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।
৯। প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা। নূন্যতম এইচ এস সি পাস হলে সংবাদদাতা এবং ডিগ্রি পাশ হলে সম্পাদক হবার যোগ্যতা নির্ধারন করতে হবে।
১০। মিডিয়া পল্লী সৃষ্টি করে পত্রিকাগুলোকে অফিস, প্রেস করার জন্য প্লট, ফ্লাট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
১১। সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকদের আবাসনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্লট, ফ্লাট বরাদ্দ করতে হবে।
১২। অবসর ভাতা, অস্চ্ছল ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা।
১৩। প্রতি বৎসর সারা দেশের সাপ্তাহিক পত্রিকার অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা।
১৪। প্রকাশিত প্রতিবেদনের বদৌলতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের থেকে একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বা পত্রিকার জন্য করতে হবে।
১৫। প্রেস কাউন্সিল কতৃক দেশের সকল সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিবন্ধন করতে হবে, এর নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১৬। প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযুগি করা। দেশের সকল সাংবাদিক ও সংগঠনগুলোর যাবতীয় তথ্যাদি প্রেস কাউন্সিলের ওয়েব সাইটে অন্তর্ভুক্ত করা।
১৭। রাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকার সম্পাদকদের আমন্ত্রিত করতে হবে।
তাহলেই সরকার ঘোষিত জাতির বিবেক এ শিল্প সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর সমস্যার সমাধান হবে এবং জাতি গঠনে এবং মধ্যম আয়ের দেশ গঠনে আরো জোরালো ভূমিকা রেখে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে এবং এ শিল্পের ব্যাপক বিকাশ লাভ করবে।
আমাদের প্রত্যাশা, অত্র সংগঠনের যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ চির কৃতজ্ঞ থাকবে।
