জামাল উদ্দিন স্বপন :
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘মাদকবিরোধী সচেতন নাগরিক কমিটি’র সভাপতিসহ ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মন্নারা বাজারে। এর পর থেকে বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কমিটির সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার বাবুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ সময় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী কমিটির পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার মন্নারা বাজারে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। এতে এলাকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় কমিটির সভাপতি খন্দকার আবুল বাশারসহ অন্য বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৭ মার্চ মন্নারা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়াসহ মাদকবিরোধী কমিটির কিছু সদস্যদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি থানার পুলিশকে বারবার জানানো হলেও তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর আগে ১৪ মার্চ মাদকসহ এলাকার চিহ্নিত দুই ব্যবসায়ী রবি ও রিয়াজকে আটকের পরও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তা ছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা করার অভিযোগ করেন বক্তারা। এসব ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে মন্নারা বাজারে মাদক ব্যবসায়ী আবু ইউছুফ, ইয়াছিন, মানিক, রবি ও খোকনের নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জন মাদকবিরোধী কমিটির সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার, সদস্য ছায়েদুল হক, মনির হোসেন, শহীদ, হিরণ, শাহজাহান, খন্দকার ইসমাইলসহ ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাদকবিরোধী কমিটির সভাপতির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে মন্নারা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে এলাকাবাসী। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা গুটিকয়েক মাদক ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। বারবার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়ার পরও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়পিুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে আমাদের হয়রানি করছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাঙ্গলকোট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, মাদক ও চোরাই মোটরসাইকেলের খবরের ভিত্তিতে চাঁদপুরের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই মো. ইসমাইল (মাদকবিরোধী কমিটির সভাপতির ভাই) লোকজন নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মন্নারার ইয়াসিনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ ঘটনায় ইয়াসিন থানায় অভিযোগ দেয়। এর জেরে মন্নারা বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাত থেকে আটজন আহত হয়। ওসি আইয়ুব আরো জানান, পুলিশ সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে ও মাদক নির্মূলে কাজ করছে।
