মনপুরা দ্বীপে নারীর বস্ত্রহরণ! গনধর্ষণ করে ক্যাডারদের নিয়ে উল্লাশ করলো পুলিশ

0
1567

ভোলা প্রতিনিধিঃ
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় এক হতদরিদ্র নারীকে তুলে নিয়ে গনধর্ষন শেষে ক্যাডারদের নিয়ে উল্লাশ করেছে পুলিশ। উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে ওই গৃহবধুর উপর যৌন নিপীড়নের পর ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের নাটকীয়তা ভোলার কারাগার পর্যন্ত পৌছায়। মনপুরা হাজীর হাট এলাকার প্রভাবশালী আবদুল হকের ছেলে পুলিশ সদস্য (বর্তমানে বরিশাল পুলিশ লাইনে কর্মরত) রুবেলের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার গনধর্ষনের এমন ঘটনা ঘটায়। চলতি বছরের ১৪ জুলাই সকাল ১০টায় হাজীর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা ওই নারী মনপুরা থানায় মামলা করতে গেলে তার মামলা নেয়নি ওসি। উল্টো ধর্ষকদের দেয়া মিথ্যা চুরি মামলায় দেড় মাস ভোলা কারাগারের অন্ধপ্রকষ্টে থাকতে হয়েছে ধর্ষিতাকে। অদ্ভুত  বিষয় হল, কারাগার থেকে ১মাস পর ডাক্তারী পরীক্ষা করতে হয়েছে ধর্ষিতাকে। বর্তমানে সুবিচারের দাবীতে এলাকার গন্যমান্যসহ প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ছে ধর্ষিতাসহ তার পরিবারের লোকজন। আদালতের মামলা সূত্রে ও ধর্ষিতা নারগিছ সাংবাদিকদের ক্যামারার সামনে জানান, সাকুচিয়া ইউনিয়নের দিনমজুর মোঃ রফিকের কন্যা নারগিছ আক্তার কল্পনার রূপ যৌবনের উপর লোলপ দৃষ্টি পরে হাজীর হাট এলাকার প্রভাবশালী আবদুল হকের ছেলে পুলিশ সদস্য (বর্তমানে বরিশাল পুলিশ লাইনে কর্মরত) রুবেল ও আবদুল হকের পালিত ক্যাডার আকাশের। তারা বিগত দিনে নারগিছকে ভোগ কারার জন্য পথে ঘাটে বিভিন্ন ভাবে উক্তোত্য করত। এ ব্যাপারটি নারগিছের বাবা এলাকার গন্যমান্যদের একাধিকবার অবগত করলেও কোন প্রকার সু-ফল মেলেনি নারগিছের ভাগ্যে। কিছুদিন যেতে না যেতে নারগিছের ভাগ্যে নেমে আসে এক অনাকাঙ্খিত ঘুর্ণিঝড়। যার ছোবলে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় সম্ভাবনাময় গৃহবধু নারগিছের সকল স্বপ্ন, আশা আকাঙ্খা। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই সকাল ১০টার দিকে নারগিছ কেনাকাটার জন্য স্থানীয় বাংলাবাজার যেতে রওয়ানা করলে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা পুলিশ সদস্য রুবেল ও তার আরেক বখাটে বন্ধু আজগর, আকাশ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক নারগিছকে মোটর সাইকেলে তুলে হাজীর হাট এলাকায় তাদের পাটাতন ঘরে এনে আটক করে। এর পর পাষন্ডরা নারগিছকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পাষন্ডদের অমানুষিক নির্যাতনের পর নারগিছকে তারা অচেতন অবস্থায় পুনরায় বাংলাবাজার এলাকায় ফেলে রেখে। পরে খবর পেয়ে তার বাড়ীর লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দুঃখের বিষয় নারগিছের পরিবার এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে এলে মামলা নেয়নি মনপুরা থানার ওসি। পরবর্তিতে মনপুরা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা করতে গেলে এক অদৃশ্য ইশারায় সেখানেও মমলা নেয়নি আদালত। ধর্ষণের পর নারগিছ এলাকার গন্যমান্য, মনপুরা থানা ও কোর্টকাচারীতে বিচারের দাবীতে ঘুরে ঘুরে অধিক সময় নষ্ট করে, গত ১৯জুলাই ভোলা নারী শিশু আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৫২১/১৬। এ মামলায়  আদালত এফআইআর নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন মনপুরা থানা ওসিকে এবং নারগিছের ধর্ষণের আলামত নির্নয়ের জন্য ডাক্তারী পরীক্ষার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে এ মামলার খবর শুনে ধর্ষকরা নারগিছকে ফাঁসানোর জন্য একটি মিথ্যা চুরির মামলা দায়ের করে মনপুরা কোর্টে। যে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে নারগিছ ধর্ষকদের বাড়ীতে কাজ করত। সে নাকি রাতের অন্ধকারে লাখ-লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়েছে। অথচ সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, ধর্ষিতা নারগিছ কোনদিনও ধর্ষকদের বাড়ীতে কাজ করতে যায়নি। সেই মামলায় সেদিনই মনপুরা কোর্ট নারগিছের নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। সবচেয়ে অবাক কান্ড হলো, ধর্ষণের পর নারগিছও মামলা করার জন্য গিয়েছিল মনপুরা থানা ও কোর্টে কিন্তু সেখানে তার মামলাটি আমলে নেয়নি এ দুই অফিসের বড় কর্তারা। ধর্ষকদের দেয়া মিথ্যা মামলায় নারগিছ কিছু দিন পালিয়ে থাকার পর মনপুরা কোর্টে হাজির হতে এলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে করাগারে পাঠায়। অবশেষ নারগিছ জেলে থাকাকালিন গত ১৪ আগষ্ট ধর্ষণের একমাস পর তাকে মেডিকেল টেষ্টের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। ধর্ষণের ১মাস পর ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল কতটুকু পাওয়া যাবে সে বিষয়ও বর্তমানে দুশ্চিন্তা করছেন নারগিছের পরিবার। এদিকে মনপুরা থানার ওসি অনেক বিলম্ব করে মামলার এফআইআর নিয়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেনি। জানা গেছে, আসামীরা পুলিশের নাকের ডগায় বীরদর্পে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে ধর্ষকরা মামলা তুনে নেয়ার জন্য নারগিছের পরিবারের উপর হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে। আদৌ এ মামলায় আসামীরা গ্রেপ্তার হবে কিনা এবং সমাপ্তিটা কেমন হবে এ বিষয়টি দেখার অপেক্ষায় আছে নারগিছের পরিবারসহ মনপুরার বিচার প্রার্থী সাধারণ জনগন। এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিন খান জানান, নারগিছের দেয়া মামলার এজাহার নেয়া হয়েছে, এটা তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে ধর্ষক পুলিশ সদস্য রুবেলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে সাংবাদিকদের সাথে যথেষ্ট খারপ ব্যবহার করে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here