ভোলায় চালের চালান নিয়ে দুর্নীতি ! গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ করলেন ডিলাররা

0
1258

ভোলা প্রতিনিধিঃ
সরকার ঘোষিত ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা মূল্যের বরাদ্ধকৃত চাল নিয়ে ভোলায় শুরু হয়েছে চালাকি। বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্ধারিত ডিলারগন সদর গোডাউন থেকে দরিদ্রদে চাল উত্তোলন করতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তারা জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কাছে ভোলার গুদাম কর্মকর্তা (ঙঈওঝউ) উমর ফারুক নয়নের বিরুদ্ধে ওজনে চাল কম দেয়ার অভিযোগ করেছেন। ডিলাররা বলেছেন, গুদাম কর্মকর্তা নয়ন আপাদ মস্তক একজন দুর্নীতিবাজ বলেই হতদরিদ্রদের চাল সু-কৌশলে আত্মসাত শুরু করেছেন। ফলে গ্রামের তালিকাভুক্ত গরিব মানুষগুলোকে সঠিক মাপে চাল সরবরাহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর বাজারে সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে চাল বিক্রি কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার তানজিল ও সিরাজের সাথে কথা হয়। তারা বলেন, গুদাম র্কমকর্তা ওমর ফারুক নয়ন ওজনে চাল কম দেয়ায় টন প্রতি ১৫/২০ কেজি করে চালের কোন প্রকার হদিস মিলছেনা। ভেদুরিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার আবু ইউসুফ এ প্রতিবেদককে জানান, গুদাম থেকে চাল নেয়ার পর তার সর্বমোট ২৪০ কেজি চাল কম হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত ৮জন হতদরিদ্রকে ওই চাল কিনে দিতে হয়েছে। গুদাম কর্মকর্তা ওজনে কম দেয়ার কারনেই এমনটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজাপুর ইউনিয়নের ডিলার ইব্রাহিম খলিল ও আবদুস সাত্তারের সাথে কথা বললে তারাও গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের আঙ্গুল তুলেন। এদিকে চাল ক্রয়ের পরে শিবপুরের কয়েকজন ভোক্তার সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবপুরের এমন চারজন দরিদ্র ব্যক্তি জানান, ৩০ কেজি চালে তাদের কেউ ২৮ আবার কেউবা পেয়েছেন ২৯ কেজি চাল। এদের দুজনের কেনা চালগুলো বাজারের একটি দোকানে মাপার পর চাল কম থাকার সত্যতা খুজে পাওয়া যায়। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে, চাল ওজনে কম পেলেও ভোক্তারা মুখ খুলতে চাননা। কারন খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দিবেন। ফলে কম টাকায় কম চাল পেলেও সন্তষ্ট থাকতে হচ্ছে ভোলার গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলোকে। ওদিকে গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সহকারি সচিব নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী টিম ভোলায় এসেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এই টিমের সদস্যরা চালের দুর্নীতি খুজতে সদর উপজেলার উওর দিঘলদী ও শিবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা অনন্ত কুমার জানান, মন্ত্রনালয়ের এই টিমের সদস্যরা গ্রামের তালিকাভুক্ত দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গোপনে তত্ত্ব-তালাশ করছেন। অপরদিকে ওজনে চাল কম  দেয়ার ব্যাপারে ভোলা সদর গুদাম কর্মকর্তা উমর ফারুক নয়নের সাথে কথা বললে তিনি সংবাদ কর্মীদের বলেন, আমি ওজনে কম দিচ্ছিনা। প্রয়োজনে একবার নয়, ডিলারগন তিনবার করে চাল মেপে নিক তাতেও আমার আপত্তি নেই। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা অনন্ত কুমার জানান, গুদাম কর্মকর্তা কিম্বা কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির লেশমাত্রা পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিবেন। সদর গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত ডিলারদের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, গুদাম কর্মকর্তা উমর ফারুক নয়নের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সরকারীভাবে ধান ক্রয়কালেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কৃষককদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও ভোলা শহরের জনৈক রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গির আলমের সাথে যোগসাজসে অন্য জেলা থেকে চোরাই পথে নিম্মমানের ধান এনে মোটা দাগের বানিজ্য করেছেন বলেও কৃষকগন বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। সেই ঘটনাটিও গুদাম কর্মকর্তার কারসাজিতে ধামাচাপা পড়ে গেছে। তাছাড়া ওই গুদামে ডিজিটাল ওজন পরিমাপক থাকলেও গুদাম কর্তা রহস্যজনক কারনে মান্দাতা আমলের এনালক পদ্ধতির পরিমাপক দিয়ে চাল গমের মাপঝোক করছেন বলেও বিভিন্নজনের অভিযোগ রয়েছে। ভোলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও সচিবগন গুদাম কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মেদের কাছে একাধিকবার অনিয়মের অভিযোগক করেন। এর ভিত্তিতে তিনি জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here