মাহমুদুল হাসানঃ
এক যুগে ১৪ বার বিজ্ঞপ্তি জারি করেও ভাইস প্রিন্সিপাল (উপাধ্যক্ষ) নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর ফাজিল মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। সর্বশেষ জাতীয পত্রিকায় যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় তার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৬ নভেন্বর। এখনও নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়নি। চলতি মেয়াদে আদেও নিয়োগ হবে কিনা তা কেউ বলতে পারছেনা। ভালুকঘর মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সদস্য সোহরাব হোসেন জানান, ২০০৪ সালে তৎকালীন উপাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতার মেয়াদ পুর্ণ হওয়ার ৯ মাস আগে মনগড়া বোর্ড গঠন করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন। এর পর থেকে উপাধ্যক্ষের পদ শুন্য রয়েছে। এপর্যন্ত মোট ১৪ বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় না। এবারও হয়ত তাই হবে। অত্র মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক আজগর আলী জানান ২০১১ সালে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছিল কিন্তু অধ্যক্ষ এবং তৎকালীন সভাপতির বিরুদ্ধে তঞ্চকতার অভিযোগ ওঠায় নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়। এর পর আরো ৭ বার বিজ্ঞপ্তি জারি করে অন্যান্য পদে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে কিন্ত উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের প্রক্তন ছাত্র আব্দুল খালেক সানাসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ বাতিল হওয়া বোডের্র শফিকুল নামে ছাত্রশিবিরের এক প্রার্থীর কাছ থেকে অধ্যক্ষ এবং তৎকালীন সভাপতি বড় অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন যা এখনও পরিশোধ করেননি। তাকে তিনি উপাধ্যাক্ষ পদে নিয়োগ দিতে চান। ঘটনাচক্রে শফিকুল এবার আবেদন করতে পারেননি। তাই তিনি এবার বোর্ড গঠন না করে ফের বিজ্ঞপ্তি জারি করার ছলচাতুরি করছেন। প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সার্কুলারে শুন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেয়ার তাগিদ রয়েছে। সেখানে উপাধ্যক্ষের মত একটি প্রশাসনিক পদে ১২ বছরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারা অধ্যক্ষ তথা কতৃপক্ষের গাফিলতি এবং অযোগ্যতা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, গত ২৭ সেপ্টম্বর গর্ভণিংবডির সর্বশেষ সভায় উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেনর ওপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করা হয়। গর্ভণিংবডির সভাপতি মিজানুর রহমান মির্জা বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য অধ্যক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হলে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। অধ্যক্ষ মাও, মোশারফ হোসেন বলেন, স্থানীয় এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর অনুমেতি ছাড়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি অনুমতি চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, প্রতিমন্ত্রীকে তিনি বিষয়টি জানাতে পারেননি। তবে দু-দিন আগে কেশবপুরের ইউএনওকে বলেছেন। এব্যপারে ইউএনও শরীফ রায়হান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসা কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরো আগে প্রতিমন্ত্রীকে জানানো উচিত ছিল। তার পক্ষে নিয়োগ সংক্রান্ত কোন ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রীকে জানাননো সম্ভব নয়।
