মৌলভীবাজার সংবাদ দাতাঃ
মানুষের জীবনে টাকার য়োজন আছে ঠিক, তবে এটা যদি হয় কারো মাকে, কারো বোনকে বিক্রি করে? এমন ঘৃন্য অসামাজিকতা ও নোংরামি করে টাকা অর্জন করে কি সামাজিক মর্যাদা পাওয়া যায়? মানুষ বলে থাকে টাকাতো মেথরেরও আছে-এর জন্য সে কি ডিসি-এসপির সামনে গিয়ে চেয়ারে বসতে পারে? তবে হ্যাঁ, এমন অনেক টাকাওয়ালা নিজেদের জাহির করার জন্য মাঝেমধ্যে লোকসমাজে কিছু খরচ করে থাকে। মানুষও বলতে থাকে ‘এই দেখো মেথরের টাকা হয়েছে। নিজেকে জাহির করছে। আরে সেতো মেথরই। এই বেটার টাকা থাকলেই কি আর না থাকলেই কি ?’ ঠিক এমনই একজন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যে মেথর নয়, তবে নারী ব্যবসায়ী করে আজ কোটিপতি বনেছে। আর তার নাম আবদুল করিম। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ডিমাই গ্রামের করিম নব্বইয়ের দশকে সিলেট অঞ্চল থেকে দুবাইয়ে নারী পাচার করে বিভিন্ন হোটেলে সাপ্লাই দিতো। আর সেখানে সেই নারীরা ইচ্ছের বিরুদ্ধে নিজের দেহ বিলিয়ে দিতে হতো সেখানকার হোটেলের খদ্দেরদের, আর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা পেয়েছে করিম। আজ সে কোটিপতি ও নিজের এলাকায় একজন ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে পরিচিত। এলাকায় করেছে অনেক সম্পদ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, অত্যন্ত নিচু পরিবারে জন্ম নেয়া আবদুল করিম নব্বই দশকে দিকে বাড়ির জমি বিক্রি করে জীবিকার তাগিদে লেবার ভিসায় কাতার যায়। সেখানে ভালো কোনো কাজ না পেয়ে পরবর্তিতে দুবাই চলে যায়। সেখানে সে চাকরি করে এবং দেশ থেকে যাওয়া অনেক নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। সেই নারীদের ফুসলিয়ে দুবাইয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে সাপ্লাই দিয়ে বেশ কিছু টাকা কামিয়ে নেয়। পরবর্তিতে সে কিছুটা পুঁজি জমিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে আগর বিক্রি করতো। একপর্যায়ে ১৯৯৭ সালে সে তার স্ত্রী-সন্তানদের দুবাইয়ে নিয়ে যায়। শুরু করে সিলেট অঞ্চল থেকে দুবাইয়ে নারী পাচার। কুলসুম (ছদ্দনাম) নামের এক চল্লিশোর্ধ নারী জানিয়েছেন, ২২ বছর বয়সে করিম তাকে দুবাইয়ে ভালো কাজের কথা বলে ভিসা করিয়ে দেয়। সেখানে যাওয়ার পর একটি ফ্ল্যাটে দেখতে পায় তার মতো আরো ১০/১৫ জন যুবতী। পরে জানতে পারে ওরা সবাই সিলেটের বিয়ানীবাজার, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কুলাউড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের কোম্পানীতে চাকরি দেয়ার কথা বলে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কোনো চাকরি না থাকায় এদের বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির বাসায় কাজ করতে দেয়া হয়। আর সেখানে কাজের নামে বাবা-ছেলে মিলে লুটেপুটে খেয়েছে তাদের দেহ। ঠিক এভাবে কয়েকশ নারীর জীবন নষ্ট করে করিম কামিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। একপর্যায়ে সে তার গ্রামে ও উপজেলা শহরে নিজেবে একজন ভালো ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতে নতুন প্রজন্মের সামনে রূপ পাল্টায়। নিজেকে একজন সমাজসেবী হিসেবে জাহির করে। বড়লেখায় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, যারা প্রবীণ বা মধ্য বয়সী লোক তারা করিমের আসল চরিত্র জানে। দেশে থাকাকালীন সে অনেক নারী কেলেংকারি, অর্থ কেলেংকারির সাথে জড়িত ছিল। তবে বর্তমানে এসব ঢাহা দিতে সে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিকে নিজেরে পকেটে রেখেছে। যারা সবসময় তার পক্ষে গুনগান করার জন্য রেখেছে।
সূত্র: ঃরসবংনধৎঃধ২৪.পড়স

