পরশুরামে পুলিশের টোকেনে চলে সিএনজি ব্যাটারি রিকশার জন্য দিতে হয় মাসোহারা

0
1089

শিবব্রতঃ সব ধরনের অটোরিকশা ও লাইসেন্স বিহীন অবৈধ যান চলাচলের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সড়ক পরিবহন সূত্র থেকে ও এ ব্যাপারে একাধিকবার কঠোর মনোভাব দেখানো হয়েছে এবং পুলিশকেও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য একাধিক নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। আর এখন পুলিশের দেওয়া টোকেন নিয়ে পরশুরাম সহ ফেনী শহরে চলছে সিএনজি সহ অটোরিকসা। এক মাস পর পর নিতে হয় এই নতুন টোকেন। খোঁজ নিয়ে গত প্রায় এক বছররেরও বেশী সময় ধরে টোকেনের খবর পাওয়া গেছে। তবে সিএনজির একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে প্রায় দু বছরেরও বেশী সময় ধরেই পুলিশের টোকেন বানিজ্য চলে আসছে। এর বৈধতা দিচ্ছে পুলিশ। এ সুযোগে পরশুরাম সহ ফেনীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় অবাধে চলছে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ সিএনজি। পরশুরাম সহ ফেনীতে গড়ে ১০ হাজারেরও বেশী ওই সব সিএনজি রয়েছে যা একটিসমর্থিত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে ফেনীর পুলিশ সুপারের এক সূত্র জানায়, টোকেন নিয়ে এ ধরণের কোন সিএসজি চালানোর সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ সিএনজি এর লাইনম্যানের কাছ থেকে এক মাস পর পর বাহারী রংয়ের একটি টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। এই টোকেন গাড়ীর সামনের গ্লাসে লাগানো থাকলে পরশুরাম সহ ফেনী এলাকায় লাইসেন্স বিহীন সিএনজি চালাতে কোন সমস্যা হয় না। সরজমিনে দেখা যায় প্লাস্টিকের পাতলা গোল কাগজের টোকেনে লাল সবুজ ইত্যাদি রংয়ের সংশ্লিষ্ট থানার নাম ও তারিখ লেখা রয়েছে। আর প্রতিমাসে এই টোকেনের জন্য এলাকা ভেদে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা গুনতে হয় ওই সব সিএনজি চালকদের। প্রতিমাসে টোকেনের রং দেখেই লাইসেন্স বিহীন সিএনজি গুলো ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরশুরামের সিএনজি চালক ফরিদ বলেন, আগে যখন সিএনজি নিয়ে বের হতেন তখন ভয়ে থাকতেন কখন পুলিশ ধরে। তিনি (ফরিদ) আরো জানান, টোকেনের জোরে এখন পুলিশই তাদের নিরাপত্তা দেয়। তাই আর ভয় লাগেনা। অপর সিএনজি চালক জাহাঙ্গীর বলেন, লাইসেন্স বিহীন সিএনজি বৈধ নয়। তাই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে টোকেন নিতে হয় সিএনজি মালিক সমিতির লোকজন ও পুলিশ মিলে এই টোকেন তৈরি করে। ওই চালক আরো জানান, টোকেন থাকলে অনুমোদিত থানা এলাকায় সিএনজি চালাতে কোন সমস্যা হয় না। উপস্থিত অন্য চালকেরা জানান, থানা পুলিশ ঠিক থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের কাছে এই টোকেনের কোন মূল্য নেই। তারা ধরলে মামলা দেয় অথবা ছাড়িয়ে আনতে ৬/৭ হাজার টাকা লাগে। মালিক সমিতির কারা টোকেনের সাথে জড়িত এদের নাম ঠিকানা বা ফোন নম্বর জানতে চাইলে সংলিষ্ট চালকেরা তা জানাতে অপারগতা জানান। এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে বলা হয় অবৈধ সিএসনজি কিভাবে চলে সেটা দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। টোকেনের ব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা। এদিকে পরশুরাম বাজার, কালীর বাজার, বিলোনিয়া, গুথুমা ও কাউতলী রোডে প্রায় দুইশত ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চলাচল করে। ওইসব প্রতি অটোরিকসা বাবদ ১০০  টাকা করে প্রতি মাসে থানায় জমা দিতে হয় যা ওই সব রিকসা চালকের সূত্রে জানা যায়।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here