ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারজাহান আক্তারের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন ছিদ্দিকী। স্কুলের ভূমি দাতা কাজী আবদুন নুরের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নোয়াখালী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিন খান বিষয়টি তদন্তের দায়ীত্ব দেওয়া হয়। আগামী ২৫ জুলাই তিনি স্কুলে সরেজমিনে তদন্তে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ পত্রে স্কুলের জমি দাতা কাজী আবদন নুর উল্লেখ করেন, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়ীত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দূূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার অপব্যবহার, অপকর্ম, স্কুলের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও সহকর্মীদের সাথে দূর্ব্যবহার করার মাধ্যমে স্কুলটিকে দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন। তাঁর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি ওই প্রতিবাদকারীকে নানা ভাবে হয়রানি করেন। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য পচন্দের লোকদের নিয়ে স্কুুল পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এ ক্ষেত্রে স্কুলের জমি দাতাসহ এলাকার গন্যমান্য কাউকে তিনি তোয়াক্কা করেননা। বর্তমান স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও নানা ভাবে তাল বাহানা করেছিলেন। উক্ত কমিটির সভাপতিও তার এসব অপকর্ম সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তিনি বিগত ২০ বছর একই পদে থেকে স্কুলের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকারী বেসরকারী দান-অনুদান ভূয়া বিল ভাউচার বানিয়ে আত্মসাত করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।
সেই সব টাকা দিয়ে তিনি প্রায় ১৫ ভরি স্বার্ন ইসলামী ব্যাংক চৌমুহনী শাখার লকারে জমা রেখেছেন। গনিপুরে ২০ লাখ টাকা সম্পত্তির মালিক। গত বছর তিনি স্কুলের পাশে নিজের নামে ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যে ২৮.৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। যার দলিল নং-৯৪৩-১৬। তিনি আগে মাত্র ১৩-১৪ হাজার টাকা বেতন পেতেন। দেড়-দুই বছর হয় তার বেতনের স্কেল কত বেড়েছে তার শিক্ষা ডিপাটমেন্ট জানে।
তিনি স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। গত ৫ এপ্রিল ২০১৭ বিকাল ৩ টায় এটিইও স্কুল ভিজিট করে উনাকে পাননি। ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে স্কুল চলাকালিন সময়ে তিনি স্কুলের পাশে শশুর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করেন। সেদিনও এটিইও সাহেব ভিজিট করে উনাকে স্কুলে পাননি। তাছাড়া তিনি প্রায় সময় সকালে স্কুল শুরু সময়ের পরে বিকালে স্কুল ছুটির আগে চলে আসেন। যা প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। তিনি পঞ্চম শ্রেনী উত্তির্ন শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। যে কোন পরীক্ষা ফি, সমাপনী ডি.আর এর সময় শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে বাড়তি টাকা আদায় করেন। প্রতি বছর জানুয়ারী মাসে ভর্তির সময় ১০০-২০০টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। অথচ সরকার বিনামূলে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যবস্থা করেছে। তার বাড়ি স্কুলের পাশে হওয়ায় তিনি সহকর্মীদের নানা ভাবে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন। তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, বখাটে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়। তিনি অফিস কক্ষে বহিরাগত পুরুষদের এনে আড্ডা দেন। যা অত্যান্ত দৃষ্টি কটু। তিনি নিজে অফিস কক্ষে ও ক্লাস রুমে বসে বসে ফেসবুক চালান। যা শিক্ষাদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটনায়। তার কাছে শিক্ষার্থীরা আর কি শিক্ষা আশা করতে পারে। তার স্বেচ্ছ্বাসারিতা, অব্যবস্থাপনার কারণে স্কুলে অনেক জাতীয় দিবস পালন করা হয়না। তিনি গত বছর স্কুলের মাঠ ভরাতের পর মাটি ঠিকাদারের টাকা না দিয়ে না সন্ত্রাসী দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়ায় ঠিকাদার নুরুল হক নুরু তার বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তিতে এডিপিও মো: শাহিনুল ইসলাম মজুমদার বিষয়টি তদন্ত করলেও রহস্যজনক কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। তিনি তদন্ত কালে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে তদন্ত কালে ব্যঘাত ঘটান। উক্ত প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাসারিতা, অব্যবস্থাপনার কারণে স্কুলটি ধ্বসের ধারপ্রান্তে উপনিত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলে সব শ্রেনী মিলিয়ে মাত্র ৮০-৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ সরকার প্রতি মাসে শিক্ষকদের পেছনে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারজাহান মাত্র এইচ,এস.সি পাশ। তিনি ঠিক মতো তয় শ্রেনীর অংক ও ইংরেজি পারেননা। তার আচার-ব্যবহার ৮ম শ্রেনীর পাশ কোন লোককেও হার মানায়। তার অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে অভিভাবকরা তাদরে সন্তানদের ওই স্কুলে দিতে চাননা। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী শুন্য হচ্ছে স্কুলটি। এভাবে চলতে থাকলে একদিন স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যাবে। তার এমন অপকর্মের কারণে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত নরোত্তমপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারজাহান আক্তারের বক্তব্য নেয়ওয়ার জন্য তার মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়
বর্তমানে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: জসিম উদ্দিন খান এর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, দায়ীত্ব পাওয়ার পর আমি তদন্ত শুরু করেছি। যেটা সত্য তাই রিপোর্ট দেয়া হবে।
