শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন এক বখাটে । পরে মেয়েটির পেটে বাচ্চা আসলে ক্লিনিকে গর্ভপাত (অ্যাবরশন) করে বলে অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাঞ্চন পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাঞ্চন পাড়া গ্রামের কৃষক নিজাম বেপারীর মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী পিংকি (১৫) ও একই গ্রামের জামাল সরদারের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র মনির হোসেন হিমেল (১৮) পঞ্চপল্লী গুরুরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ালেখা করত। তাদের সাথে প্রথমে বন্ধুত্ব পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। হিমেল বিয়ের প্রলোভনে দেখিয়ে পিংকিকে একাধিক বার ধর্ষণ করে। পরে পিংকির গর্ভে বাচ্চা এলে দুই মাসের বাচ্চাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নার্স দিয়ে গর্ভপাত (অ্যাবরশন) করানো হয়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সালিশরা সালিশ ডাকেন। তখন সালিশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আসলেও হিমেল উপস্থিত না হওয়ায় সে দিন সালিশ পন্ড হয়ে যায়। সেদিন রাতেই স্থানীয় নিয়ামত মৃধা, পিন্টু বেপারী, মোস্তফা সরদার ও নুর ইসলাম সরদারসহ বেশ কয়েকজন সালিশের কাছে মনির হোসেন হিমেলের পরিবার পিংকিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবার শরীয়তপুর সদরে এসে চার লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে কাজি দিয়ে হিমেল-পিংকির সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পরে হিমেল ও তার পরিবার পিংকির খোঁজ খবর না নেয়ায় সালিশদেরকে জানান। সালিশ এ বিষয়ে হিমেল ও তার পরিবারকে জানালে তারা পিংকিকে গ্রহণ করবে না বলে জানান। পরে গত ২০ এপ্রিল চোখে মুখে কিছু না দেখে পিংকির পরিবার এ বিষয়ে নড়িয়া সহকারি জজ আদালতে হিমেল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পরে পিংকিকে গ্রহণ করবে বলে সালিশদের জানান। সালিশরা মামলা তুলে নিতে বললে পিংকির পরিবার মামলা তুলে নেন। যেদিন মামলা তুলেন সেদিনই পিংকিকে ডিভোর্স দিয়ে তার বাড়িতে একটি নোটিশ পাঠান। পরে নড়িয়া সহকারি জজ আদালতে গত ১১ এপ্রিল হিমেলকে জোর করে বিয়ে করিয়েছে বলে হিমেলের পরিবার পিংকির পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।
পিংকির সাথে আলাপকালে জানা যায়, হিমেলের সাথে সম্পর্ক হলে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি বিয়ে করতে রাজি হই। তখন আমাকে বলে তোমার ১৮ বছর এখনো পূর্ণ হয়নি। তোমাকে এখন বিয়ে করা যাবে না। ১৮ বছর পূর্ণ হলেই তোমাকে বিয়ে করবো। হিমেল বলে যেহেতু বিয়ে করবো আমার সাথে থাকলে সমস্যা কোথায়। আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আমাকে অনেকবার ধর্ষণ করে হিমেল। পরে বিয়ে না করে হিমেলের কাকি জোসনা আক্তার, মেরিনা আক্তার ও তার ফুফু জানু বেগম মিলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে নার্স দিয়ে আমার বাবুটাকে ফেলে দেয়।
পিংকি জানান, হিমেল যদি তাকে গ্রহণ না করে তাহলে আত্মহত্যা করবে বলে জানান পিংকি।
পিংকির মা রাশিদা বেগম বলেন, আমরা গরিব লোক। আমার মেয়েকে বিয়ে করবে বলে ধর্ষণ করে । এখন বিয়ে করেও মেয়েকে গ্রহণ করে নিচ্ছে না। মানুষ দিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। গরিব তাই প্রতিবাদ করতে পারছি না। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করলে সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে হিমেল ও হিমেলের পরিবার।
প্রতিবেশী সালমা বেগম, মাহমুদা ও রিমা আক্তার বলেন, হিমেলরা যা করছে এটা অন্যায়। মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা চাই মেয়েটাকে গ্রহণ করে বউর মর্যাদা দেয়া হউক।
এ বিষয়ে মনির হোসেন হিমেলের বাড়িতে গেলে ঘর তালা মারা দেখা যায়। মোবাইল ফোনে হিমেল ও তার বাবা জামাল সরদারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সালিশ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান মাস্টার (সেন্টু মুন্সী), পিন্টু বেপারী, নূর ইসলাম সরদার, মোস্তফা সরদার ও বিঝারি ইউনিয়ন পরিষদ ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য নিয়ামত মৃধা বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সালিশ ডাকি। পরে ছেলের পক্ষ সালিশে না বসায় সালিশ পন্ড হয়ে যায়। সালিশের পরের দিন শরীয়তপুর সদরে গিয়ে কাজি দিয়ে হিমেল-পিংকির সাথে বিয়ে দেয়া হয়। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি দুই পরিবারকে এক করতে কিন্তু পারলাম না।
নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, এ বিষয়ে দু’পক্ষের দুইটা মামলাই কোর্টে হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ আসেনি।
