প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করন, দেশের সকল গনমাধ্যম কর্মীর মত প্রকাশের স্বাধিনতা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং সকল হত্যার বিচার, সংবাদপত্র সংক্রান্ত মামলা প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক নিষ্পত্তি করতে হবে ……এস এম মোরশেদ

0
862

জঙ্গি প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে
সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক।

Advertisement

mg-08

* সাপ্তাহিক পত্রিকাই গনমাধ্যম কর্মিদের সুতিকাগার
* ডিক্লারেশন দেয়ার সাথে সাথেই দুটি এক্রিডিটেশন কার্ড
দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন করতে হবে।
* প্রচার সংখার নিরিখে বিজ্ঞাপন দিতে হবে।
* এ শিল্পের জন্য শিল্প প্লট ও দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দিতে হবে।

spp-1

* প্রতিবৎসর ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবস রাষ্ট্র কতৃক পালন এবং ঐদিন সারাদেশের সকল সাংবাদিক সংগঠন সহ সাংবাদিকদের নেতৃবৃন্দ ও সকল পত্রিকার প্রতিনিধিদের সাথে কাউন্সিল করে তাদের সমস্যা সমাধান মতবিনীময়, কর্মপন্থা ও দিক নির্দেশনা, পুরস্কৃত করতে হবে।

সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত জঙ্গি প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  মাননীয়  তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মঞ্চে উপবিষ্ট বিশেষ অতিথি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি  বিশিষ্ট সাংবাদিক শাবান মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও লক্ষিপুর সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার সভাপতি  মাহফুজুর রহমান, উপস্থিত বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সম্পাদক সাংবাদিকবৃন্দ বিভিন্ন চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, সুধিবৃন্দ ্আসসালামুআলাইকুম। এ অনুষ্ঠানে এসে অনুষ্ঠানকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য সবাইকে আন্তরিক  ধন্যবাদ  ও  আশেষ অভিনন্দন ।

mg-07
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ প্রথম একজন অভিভাবক সাপ্তাহিক পত্রিকার সমস্যা, সম্ভাবনা, ও ভবিষ্যত কর্মপন্থাকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের একজন  তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যোগদান করায় মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন।
মধ্যম আয়ের দেশ বা উন্নত দেশ গঠনের প্রতিবন্ধকতা জঙ্গি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট পরিচালনায় এবং দেশের উন্নয়নে যেমনি একজন সফল ব্যক্তি, তেমনি আমাদের তথ্যমন্ত্রী প্রতি মহুর্তে, প্রতি দিন জঙ্গি প্রতিরোধে যে বক্তব্য রেখে দেশ ও জনগণকে উজ্জিবিত করেছেন, যে জনমত সৃষ্টি করেছেন সে হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর পরেই যে নামটি আসে তিনি হচ্ছেন সরকারের দ্বিতিয় সফল মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি প্রতিদিন প্রতিমুহুর্তে যেভাবে জঙ্গি বিরোধী বক্তব্য রাখছেন সেটাকে মনে প্রাণে ধারন করে আমরাও প্রতিটি কলম সৈনিক প্রতিদিন সে জঙ্গিবিরোধী লেখা প্রকাশ করছি জনজগণের মাঝে। যেমনি স্বরাষ্ট মন্ত্রী যেকথা প্রতিদিন বলেন পুলিশও সেভাবে আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে কাজ করে। আমরাও আমাদের অভিভাবক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে উজ্জিবিত হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি।
সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে, জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন দ্ধিগুন করেছেন। সরকারের পাশাপাশি সারাদেশের সকল গনমাধ্যম কর্মি বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি চব্বিশ ঘন্টাই অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ
করে চলছে, জঙ্গি বিরোধী কর্মকান্ডের কথা প্রচার করছে, তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলছে, কিন্তু সরকার তাদের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে কোন কর্মসুচি গ্রহন করেনি। মধ্যম আয়ের দেশ গঠন কি সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকাকে এড়িয়ে গিয়ে, তাদের বাদ দিয়ে মোটেও সম্ভব নয়?। কারণ তারাও জীবনের সর্বোচ্ছ ঝুঁকি নিয়ে দেশ গঠণে,  ও উন্নয়নে কাজ করছে একযোগে। তাই সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকদের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে বিজ্ঞাপন রেট যুগোপযুগি করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
আগে সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে কাগজ দেয়া হতো। এখন মিডিয়াভুক্ত পত্রিকাগুলোকে কাগজতো দিচ্ছেই না উপরন্ত বিজ্ঞাপন না দিয়ে স্বজনপীতি, দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে মিডিয়াভুক্ত সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে হয়রানী করা হচ্ছে অত্যন্ত নির্মমভাবে। সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলো ভর্তুকি দিতে দিতে এখন দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার একে শিল্পকে ঘোষণা দিলেও শিল্পের গুরুত্বও মর্যাদা আজও না দেয়ায় এ শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ৫০ লক্ষ লোক পথে বসতে যাচ্ছে। তাই এ শিল্পের উন্নয়নে ও এবিপুল সংখ্যক মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে ৫০ ভাগ বিজ্ঞাপন, সকল ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন বরাদ্দ করতে হবে।
সারা দেশে সাংবাদিকগণ মিথ্যা মামলা, হামলায় অযথা হয়রানী হচ্ছেন। আমরা বস্তু নিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে গেলেই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানী হচ্ছি প্রতিনিয়ত। মিথ্যা হয়রানী মুলক মামলায় আমাদের সাংবাদিকগণ বা সম্পাদকগণ একদিন চট্টগ্রামে, আরেকদিন নিলফামারি, অন্যদিন খুলনায়, সারাদেশে মামলার হাজিরা দিতে দিতে ব্যাস্ত থাকলে বস্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করবে কিভাবে?। তাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায় সময়ই শুনি যে হলুদ সাংবাদিকতার কথা। হলুদ সাংবাদিকতা যেন না হয় সে পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব সরকারের। এ জায়গায় সরকারের ভূমিকার অনেক অভাব রয়েছে। সরকার ইলিশ মাছ  উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক জেলেদের বিষয়ে খাদ্য কর্মসুচি গ্রহন করেছে। ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, বিভিন্ন পেশার সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, ইলিশ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক জেলেদের রক্ষায় ভর্তুকি দিয়ে মৌলিক চাহিদা পুরণ করেছে। পাশাপশি আইনীভাবে কঠোর হয়ে জেলেদের আইন অমাণ্যকারীর জেল জরিমানার ব্যবস্থা করেছে। তেমনি হলুদ সাংবাদিকতা না হবার জন্য আগে পরিবেশ সৃষ্টি করুন, পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে  আরো শক্তিশালী করে হলুদ সাংবাদিকতা যারা করে তাদের জেল জরিমানা সহ শাস্তির ব্যবস্থা করুন। আমরা সংবাদদাতারা বাসা ভাড়া যদি না দিতে পারি, বাজারের  টাকা-পয়সা যদি তার না থাকে, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া ও ভরন পোষন যদি না করতে পারে তাহলে হলুদ সাংবাদিকতা না হয়ে বস্তুনিষ্ঠতা আসবে কোত্থেকে?।
সারা দেশে সকল পেশার মানুষের মধ্যে যে শৃংখলা রয়েছে এ পেশার মত এমন বিশৃংখলা আর কোন পেশায় নেই। এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থা আর কোথায়ও দেখা যায়না।
সাংবাদিকদের সকল মামলা প্রেস কাউন্সিল এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। এ যাবৎকাল যত সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে, তার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে, এবং সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে।
* সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও সুশৃংঙ্খলবদ্ধ  করতে হবে। কেউ সমাজ কল্যাণ থেকে, কেউ জয়েন্ট ষ্টক অব রেজিষ্টার থেকে আবার কেউ প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হয়ে এমন সব কাজ করছে ফলে এ শিল্পে একটি বিশৃংঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। আবার এ সকল সংগঠণ রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে এমন কথাও সাংবাদিকতার কোন আইনে লেখা নেই। অথ্যাৎ যে যার মত করে কাজ করছে। ফলে বিশৃংঙ্খলা ও দলাদলি, সুযোগ সন্ধানী হয়ে অপসাংবাদিকতা বাড়ছে। যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। তাই শৃংঙ্খলা আনার জন্য প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে এ শিল্পে বা এ পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং শৃংঙ্খলা ফিরে আসবে।
* সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর সমস্যা, মামলা মোকদ্দমা, নানান কর্মকান্ডকে শৃংঙ্খলিত করতে প্রেস কাউন্সিল পরিচালনা বোর্ডে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের মনোণীত ব্যক্তিগণকে সদস্য করতে হবে।
* প্রতিবৎসর ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবস রাষ্ট্র কর্তৃক পালন এবং ঐদিন সারাদেশের  সকল সাংবাদিক সংগঠণ সহ সাংবাদিকদের নেতৃবৃন্দ ও সকল পত্রিকার প্রতিনিধিদের  সাথে কাউন্সিল করে তাদের সমস্যা সমাধান মতবিনীময়, কর্মপন্থা সহ দিক নির্দেশনা, পুরুস্কৃত করতে হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here