জিয়াউর রহমানঃ
বর্তমান সরকারকে গণমাধ্যমবান্ধব সরকার বলে অভিহিত করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ও গণমাধ্যম একপক্ষ আর জঙ্গিরা শত্রুপক্ষ। কারণ, জঙ্গিরা জনগণ, সরকার, সাংবাদিকসহ সকলকেই আক্রমণ করেছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকের মুখে নির্বাচন-গণতন্ত্রের ওয়াজ জাতির সঙ্গে ঠাট্টা-মস্করা। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধা-দেশপ্রেমিকদের ভেতরেই প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ আয়োজিত “জঙ্গি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিএনপিনেত্রী জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক না হলে অনেক আগেই জঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব হতো। মনে রাখবেন, গণতন্ত্র যারা আগুন দিয়ে পোড়ায় তাদের কাছে গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শাসন, স্বৈরাচার, আগুনযুদ্ধ, হেফাজতের তান্ডব এবং জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে হাসানুল হক ইনু বলেন, শেখ হাসিনার সরকার পোষমানা সাংবাদিক চায় না, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সমালোচনা সহ্য করি, কিন্তু জঙ্গি ও তাদের সঙ্গীদের ওকালতি করবেন না। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যম সাহসী ভূমিকা পালন না করলে জঙ্গিবাদ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করতো। তবে এই আত্মতুষ্টি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হতে হবে। উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর জঙ্গিবাদ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হয়েছে।
এক্ষেত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কেন হটাৎ পরিবর্তন আসে কিংবা অতি ধার্মিক হয়ে ওঠে; তা নিয়েও হতে পারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। সন্ত্রাসবাদের উৎস অনুসন্ধান করে একদিকে যেমন অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে হবে অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের মহাবিপদের মাত্রাও তুলে ধরতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রগতিশীল চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমই মনোজাগতিক চেতনাকে প্রসারিত করতে পারে। তাই গণমাধ্যমকে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাও উপলব্দি করতে হবে। তিনি বলেন, হতাশাচ্ছন্ন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নরা উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। হতাশার উদ্ভব মূলত দুই দিক থেকে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের নিশ্চয়তা না থাকায় সে অর্থ থেকেও হতাশার সৃষ্টি হয়। আবার নুন-ভাতের গ্যারান্টি না থাকার কারণেও অনেকই হতাশ। আরেকটা অংশের মধ্যে এমন চেতনা কাজ করে যে, টাকা দিয়ে কি করবো? তখন তারা ভিন্নদিকে ধাবিত হয়। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ একমাত্রিক সমস্যা নয়, এটি বহুমাত্রিক সমস্যা। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এর চেতনা উৎসারিত হচ্ছে। ইসলাম পছন্দের প্রতিযোগিতা না করে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রতিযোগিতা হলে দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারতো।

সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের বিভিন্ন দাবীর বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দৈনিক বা সাপ্তাহিক বা মাসিক, যে পত্রিকাতেই বা গণমাধ্যমেই কাজ করুন না কেন, সরকারের চোখে সকলেই সাংবাদিক, পত্রিকা বা গণমাধ্যম ভেদে সাংবাদিকদের কোনো ভেদাভেদ নেই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নতুন ওয়েজবোর্ড দেবার পক্ষে, একথা জানিয়ে তিনি বলেন, নবম ওয়েজবোর্ডে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, সেখানে কর্মরতদের স্তর বিন্যাসের বিষয়টিতে তাদের মতামত প্রয়োজন। আগামী বছর এর বাস্তবায়ন হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাসানুল হক ইনু। এছাড়া, দুর্দশা বা বিপন্নতায় সরকারি সহযোগিতা পাবার জন্য তথ্যমন্ত্রী সকল সাংবাদিককে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য হবার জন্য আহ্বান জানান। সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের সাধারণ স¤পাদক এস এম মোরশেদের সভাপতিত্বে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে তার বক্তৃতায় সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকদের পক্ষে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সামগ্রিক জায়গাটা তুলে ধরতে হবে। এই চেতনাটা কারা ছড়ায়, কিভাবে ছড়ায়, বিচার হলে কারা বাঁধা দেয়; তা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমের কোন কোন প্রতিষ্ঠানে উগ্র সাম্প্রদায়িতকার চর্চা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটা অদ্ভুত প্রজন্ম তৈরি করছি, যাদের কোন আশা নেই, স্বপ্ন নেই। জঙ্গিবাদ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে এখন নতুন ধরণের বিট তৈরি হচ্ছে। কেন একটা ছেলে বা মেয়ের মধ্যে হটাৎ পরিবর্তন আসে তা নিয়ে আরও অনুসন্ধান করা দরকার। তিনি আরো বলেন, সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের দাবী-দাওয়া যৌক্তিসঙ্গত। আমি আশা করি মন্ত্রী সাপ্তাহিক পত্রিকার সমস্যাগুলো বিবেচনা করে আশার বানী দিবেন। তার বক্তব্যে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের জন্য বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স একটি স্থান বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছে দাবী জানান।
সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে “জঙ্গি প্রতিরোধে মিডিয়ার ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এম এ মোতালিব হোসেন। এসময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড প্রতিরোধে বিশদ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে এবং তা এখনই করতে হবে। অন্যথায় সন্ত্রাসবাদের বিপদ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা কঠিন হবে। গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সমগ্র দেশ ও জাতি কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধর্ম, গণতন্ত্র ও সভ্যতাও। এই অবস্থায় এ দেশের সকল প্রগতিশীল গণতন্ত্রকামী দেশেপ্রেমিক জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য স¤পর্কে সমগ্র দেশ ও জাতিকে একটি দিক-নির্দেশনা দেয়া অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যিক কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালনে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের পাশাপাশি সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের উৎস অনুসন্ধান করে একদিকে যেমন অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে হবে অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদের মহাবিপদের মাত্রাও তুলে ধরতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিইউজের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, মাদ্রাসার ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে রাখার কারণে তাদের অনেকে জঙ্গি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সাহসী ভূমিকা পালন না করলে জঙ্গিবাদ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করতো। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে চাইলে শিক্ষাব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে শিক্ষাব্যবস্থায় আসল জায়গা। আর গণমাধ্যমও এক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা রেখে চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক এস এম মোরশেদ বলেন,
আমাদের দেশের হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রীষ্টানসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক, উদারপন্থী এবং গণতান্ত্রিক চেতনাসম্পন্ন। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তারা একত্রে অংশগ্রহণ করে আসছে। কোন ধর্ম সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদকে সমর্থন করেনা। মানবতাবিরোধী কাজের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে প্রত্যেক ধর্মে। ইসলাম ধর্র্মে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। জাতিধর্ম নির্বিশেষে এই দানব শক্তিকে রুখে শান্তিময় বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বজ্রকঠিন শপথ নিতে হবে।
আশার কথা জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটনে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সফলও হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের নীতিনির্ধারনী মহল প্রতিনিয়ত জঙ্গি বিরোধী বক্তব্য দিয়ে সারা দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন। র্যাব, পুলিশ বা অন্যান্য গোয়েন্দা সদস্যদের পাশাপাশি সচেতনতা সৃষ্টিতে দেশের সংবাদপত্রসেবিরা সাম্প্রদায়িকতা এবং জঙ্গি প্রতিরোধে ব্যপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা পাচ্ছে স্বীকৃকি এবং সুবিধা। তাদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা দ্বিগুন করেছে সরকার। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গি প্রতিরোধ, দেশ গঠন এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে সরকারের অন্যান্য সংস্থার ন্যায় গণমাধ্যম কর্মিদের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাদের জীবনের ঝুকিই বেড়ে চলেছে। কিন্তু আর্থিক সুযোগ সুবিধা আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে।
‘সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ’ দেশের সকল সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকদের ঐক্যবদ্ধ একটি রেজিষ্টার্ড সংগঠন। এই সংগঠনটি দেশের সকল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্রিকার সমস্যা সমাধানই নয় বরং দেশের সকল গণমাধ্যম এর সকল সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনের জন্য অতন্দ্র প্রহরীর মত কাজ করে চলছে। দেশের নানা ক্রান্তি লগ্নে এই প্রতিষ্ঠান সভা-সেমিনার, র্যালিসহ বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন করে থাকে। সরকারের ভিষন বাস্তবায়নে, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধিতে, উন্নয়ন ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে সহযোগিতার মাধ্যমে একযোগে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। পুরো সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিনোদন, অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পাঠকপ্রিয়তাও অর্জন করেছে। রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে এ সেক্টরের ভূমিকা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।

এ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন সম্পাদক-প্রকাশক, সংবাদকর্মী, বিপণন কর্মী, উৎপাদন কর্মী, সাধারণ শ্রমিকসহ একটি বিশাল নেটওয়ার্কে এক কর্মযজ্ঞ জনশক্তি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো যেসকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সাপ্তাহিক পত্রিকার ক্ষেত্রে তা পালন করা হচ্ছে না।
মাননীয় মন্ত্রী, আপনি আমাদের অভিভাবক। আজকে এই সেক্টরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আমাদের সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের সবাইকে নিয়ে একটি জাতীয় কাউন্সিল করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব সহকারে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারের কাছে এই সেক্টরের সমস্যাগুলো নিয়ে দাবী দাওয়া জানালেও কোন সরকারই সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি। কার্যত সারাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো দেশ গঠনে টিকে থাকা এবং যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোতে নিয়োজিত সংবাদকর্মীগন জীবনের ঝুকি নিয়ে, রাজস্ব ফাঁকিবাজ, চোরাচালানি, মজুদদার, সরকারি ভূমি দখলবাজ তথা ভূমিদস্যু, খাদ্যে ভেজালকারী, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মুখোশ উন্মেচন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সকল গোয়েন্দা সংস্থা, রাজস্ব বিভাগসহ, দুদক’কে সহযোগিতা তথা দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে সকল অপরাধীদের জিঙ্গাংসার শিকার হয়ে অনেক সংবাদকর্মী, সাংবাদিক, সম্পাদক, বিভিন্ন জেলা, থানা পর্যায়ে নিজের জীবন বিসর্জন পর্যন্ত দিয়েছেন। প্রকারান্তরে সে সকল সাংবাদিকের হত্যার বিচার আজও হয়নি।

অনেক সময় অপরাধীদের প্রভাবে সম্পাদক বা সাংবাদিকের নামে হয় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা বা হয়রানীমূলক নানা ধরণের ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় অনেকেই আজো হয়রানী হচ্ছেন। সরকার এ খাতটিকে যথাযথ সহযোগিতা না করায় এ শিল্পটি আশানুরুপ বিকশিত হতে পারছে না। ফলে দেশের প্রায় সকল সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকাগুলো ভর্তুকি দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে কোন রকমে। এক সময় কাগজ দিয়ে, সুষ্ঠু বিজ্ঞাপন বন্টনের মাধ্যমে, ক্রোড়পত্র দিয়ে এ শিল্পকে সহযোগিতা করা হতো। এখন কাগজ না দিয়ে, সুষ্ঠু বিজ্ঞাপন বন্টন না করে, উল্টো স্বজনপ্রীতি, হয়রানীর মাত্রা বৃদ্ধি হয়েছে। এ শিল্পের মত এত হ-য-ব-র-ল অবস্থা আর কোথাও পরিলক্ষিত হয়না।
তাই প্রেস বান্ধব সরকার হিসেবে পরিচিত মাননীয় মন্ত্রী’র কাছে এসব সমস্যা সমাধানে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
সংবাদপত্র শুধু রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভই নয়। এটি এখন বর্তমান সরকার কর্তৃক ঘোষিত একটি শিল্প। তাই এ শিল্পের উন্নয়নে সরকারের যথোপযুক্ত ভূমিকা রাখা আবশ্যক। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত এই শিল্প খাতকে বাদ দিয়ে বা এড়িয়ে গিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ নয়, বরং এর সঠিক প্রণোদনা ও পরিচর্যার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আর এ জন্য প্রথমেই প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী শক্তিশালীকরণ করতে হবে। সারা দেশে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের সংগঠণ বিরাজ করছে। ঠিক কতগুলো এমন সংগঠণ দেশে রয়েছে, কতগুলো সংবাদপত্র বের হচ্ছে, কতজন সাংবাদিক দেশে রয়েছেন, এসব সাংবাদিক এর অধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা, এদের কর্মের পুরস্কার বা অপরাধের তিরস্কার; এর মানসম্মত কার্যত কোন পদক্ষেপ নেই। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত এসকল সাংবাদিকগণকে মানহানীর মত মামলায়ও চোর, ডাকাত, খুনি অপরাধীদের সাথে আদালতে দাঁড়াতে হয়। এ সেক্টরে সারা দেশে কত সাংবাদিক কাজ করছে, কত সংগঠণ রয়েছে এর প্রকৃত কোন তথ্য চিত্র তথ্য মন্ত্রণালয় বা তথ্য অধিদফতর বা কোন দায়িত্বশীল সংস্থার কাছে নেই। এ মুহুর্তে যার যার কাছে যে ধারণা রয়েছে বা যে রেকর্ড রয়েছে তার চিত্রই তিনি দিতে পারবেন। এটি প্রকৃত চিত্র নয়। দেশে কয়টি পত্রিকা বের হচ্ছে, কোথায় থেকে বের হচ্ছে, এর সঠিক চিত্র ডিএফপিতেও নেই। আমরা মনে করি, সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগঠণগুলোরও একটি শৃংখলা থাকা আবশ্যক। সে জন্য উক্ত সংগঠণগুলোরও নিবন্ধন পদ্ধতি, বিধিমালা প্রনয়ন সহ জাতীয় নীতিমালা আবশ্যক। এ নীতিমালা না থাকায় অনেক অপেশাদার ব্যাক্তি যেমন-পান দোকানদার, মাদক ব্যবসায়ী, ডিম বিক্রেতা, ভূমিদস্যুগন, কালোবাজারী, নারী শিশু পাচারকারী সহ নানা পেশার নানা অনৈতিক লোকজন এখন সাংবাদিকতার কার্ড বহন করে সাংবাদিক সেজেছেন। এতে করে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে দারুন ভাবে। ফলে এ পেশায় এক প্রকার নৈরাজ্য চলছে। বিভিন্ন পেশায় যেমন রেজিষ্টেশন থাকা বাধ্যতামূলক, তেমনি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নৈতিকতা, বাধ্যবাধকতা, দায়বদ্ধতা থাকা আবশ্যক। তা না হলে ভবিষ্যতে এ পেশায় চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। যা জাতির বিবেক হিসাবে পরিচিত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকেই নয় এ শিল্পেরও ব্যাপক ক্ষতি হবে। যা সংঙ্গত কারণে রাষ্ট্রেরও ক্ষতির সমূহ আশংকা থাকে। এর পাশাপাশি তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকার বিষয়ে বিভিন্ন দাবী দাওয়া মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। দাবীগুলো হল…..
১. ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন কমিটি এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের মনোণীত অন্তত দু’জনকে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. সকল সাপ্তাহিক পত্রিকা সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা মোকদ্দমা প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সমাধান করতে হবে।
৩. সকল জাতীয় দিবসে সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলোকে ক্রোড়পত্রের বরাদ্দ দিতে হবে।
৪. সকল সাপ্তাহিক পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট যুক্তিসঙ্গতভাবে বৃদ্ধি করে যুগোপযুগি করতে হবে।
৫. টেন্ডার বিজ্ঞাপনসহ সকল বিজ্ঞাপনের ৫০ ভাগ সাপ্তাহিক পত্রিকার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। সকল সরকারী বেসরকারী, ব্যাংক বীমা, আর্থিক লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন বরাদ্দ দিতে হবে।
৬. বিজ্ঞাপন এর বিল থেকে সার্ভিস চার্জ ব্যতিত সকল ভ্যাট ট্যাক্স কর্তন বন্ধ করতে হবে এবং বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও হয়রানী বন্ধ করতে হবে।
৭. সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকার জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা এবং ছাপাখানা আইন যুগোপযোগী ভাবে তৈরি করতে হবে।
৮. প্রতি বছর একটি জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রচার সংখ্যার নিরীখে মূল্যায়ন বা প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।
৯. প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নূন্যতম এইচ এস সি পাস হলে সংবাদদাতা এবং ডিগ্রি পাশ হলে সম্পাদক হবার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হবে।
১০. মিডিয়া পল্লী সৃষ্টি করে পত্রিকাগুলোকে অফিস, প্রেস করার জন্য প্লট, ফ্লাট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
১১. সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিকদের আবাসনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্লট, ফ্লাট বরাদ্দ করতে হবে।
১২. অবসর ভাতা, অস্বচ্ছল ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে।
১৩. প্রকাশিত প্রতিবেদনের বদৌলতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের থেকে একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বা পত্রিকার জন্য
বরাদ্ধ দিতে হবে।
১৪. প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক দেশের সকল সাংবাদিক এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিবন্ধন করতে হবে, এর নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১৫. প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযুগি করা। দেশের সকল সাংবাদিক ও সংগঠণগুলোর যাবতীয় তথ্যাদি প্রেস কাউন্সিলের ওয়েব সাইটে অন্তর্ভুক্ত করা।
১৬. রাষ্ট্র কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকার সম্পাদকদের আমন্ত্রত জানাতে হবে।
এছাড়া ও উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ডিইউজের সাংবাদিক নেতা ফিরোজ আলম, এশিয়া বার্তা সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাপ্তাহিক উদয়ের পথের সম্পাদক সৈয়দ আফজাল বাকের, ঢাকাস্থ সেনবাগ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি গোলাম ছারওয়ার রিপন, সাধারণ সম্পাদক ভিপি সালাহউদ্দিন, সাপ্তাহিক কালের দিগন্তের বাদল হাওলাদার, মাসুদুর রহমান মানিক, সাপ্তাহিক আলোরতরীর এইচ এম মিকাঈল ইসলাম রাজ, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী, সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের খলিলউল্লাহ, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটির সভাপতি এ এস এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি উত্তরার সভাপতি জসিম হায়দার চৌধুরী, বিজয় টিভি’র আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসমাইল হোসেন, নজির আহম্মাদ, মোশারেফ হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাকের আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা, দৈনিক মুসলিম টাইমস ও গণজাগরণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ওমর ফারুক জালাল, সাপ্তাহিক নবজাগরণ এর সম্পাদক মোঃ আবু তাহের পাটোয়ারী, আতাউর রহমান খান, এস এম জহিরুল ইসলাম, বদরুল আলম, শরীফ উদ্দিন মোল্লা, লায়ন মেহেদী হাসান, সেলিম রেজা, গিয়াস উদ্দিন খন্দকার সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিভিন্ন সংগঠণের নেতাকর্মীরা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি আবার মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ আজ কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্যে একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশ এই সন্ত্রাসবাদের মর্মান্তিক শিকারে পরিণত হয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কিছু উগ্রবাদী দল এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে, আবার এমন দৃষ্টান্তও আছে। যে রাষ্ট্রীয়ভাবেই সন্ত্রাসী তৎপরতা চালান হয়েছে। চূড়ান্ত ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকেই যে কোন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় সব সময়ে তা কিন্তু যথেষ্ট কারণ নয়। সে যখন বিশ্বাস করে যে সংহিসতার মাধ্যমেই কেবল তার দৃষ্টিতে সমাজের যে সব অন্যায় আছে, তার অবসান ঘটানো যাবে, তখনই সে সিদ্ধান্ত নেয় যে তার সহিংস কাজের মধ্য দিয়ে একটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। সন্ত্রাসবাদের হোতারা অনুসারীদের এই বলে উজ্জীবিত করে যে, তাদের সহিংস কাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হবে এবং এর মধ্য দিয়ে তারা তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠায় অনেকদূর এগিয়ে যাবে। যারা সহিংস কাজে লিপ্ত হয় তাদের মগজ ধোলাই এমনই হয় যে, তারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে। আজকের বাংলাদেশ ভূখন্ডে জঙ্গিবাদ এসেছে সাম্প্রদায়িকতার হাত ধরে। ইংরেজ আমলে এদেশে সাম্প্রদায়িকতা তেমন ছিল না এবং তা বিকাশের সুযোগ পায়নি, কারণ তখন সমাজে সাম্প্রদায়িক সংহতি অত্যন্ত প্রবল শক্তিশালী ছিল। পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িকতা বিস্তার লাভ করে। কিন্তু সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তান আমলে সাম্প্রদায়িকতার তুলনামূলকভাবে অনেক কম ছিল। কিন্তু এমন তো হবার কথা ছিল না। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্টান, বাঙালি-আদিবাসী নৃগোষ্ঠী সকলের মিলিত রক্তস্রোতে ১৯৭১ এ যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার চার নীতির অন্যতম ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা-চেতনাগতভাবে যা অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্মনিরপেক্ষতা যে ধর্মহীনতা নয়- একথাটা সে সময়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে বোঝাতে সক্ষম হয়নি। হয়তো সেকুলারিজমের বাংলা ধর্মনিরপেক্ষতা করা ঠিক হয়নি। ধর্ম সকলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান প্রণেতারা যা চেয়েছিলেন, তা হচ্ছে ধর্মীয় আচরণ হবে মানুষের ব্যক্তিগত। রাষ্ট্র কোন ধর্মের প্রাধান্য দেবে না বা পৃষ্ঠপোষকতাও করবে না। ধর্মকে রাষ্ট্র বা রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতে হবে। সাম্প্রদায়িকতাকে চিরদিনের মত কবর দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। কিন্তু তা ছিল সাময়িক। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বন্দুকের সামনে ধর্মের কোন বাচবিচার ছিলনা। বাঙালী মাত্রই ছিল তাদের শত্রু। অবশ্য হিন্দু হলে তার অপরাধ ছিল দ্বিগুণ। শেষ পর্যন্ত ইসলাম রক্ষার নামে পাকিস্তানীরা ও তাদের এ দেশীয় দোসর আল-বদর, আল-শামস এবং জামায়াতে ইসলামীর মত ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকেই হত্যা করেছে বেশি। ১৯৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার পর যখন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হল, তখন মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি আবার মাথা ছাড়া দিয়ে উঠল। ধর্মকে রাজনীতিতে অপব্যবহার করা হল। সাম্প্রদায়িকতা বাংলাদেশে তার হিংস্র থাবা বিস্তার করতে শুরু করল। সাম্প্রদায়িক শক্তি ও এক সময়ে সরকারের মদতে জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে বিকাশ লাভ করল। আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদী শক্তিগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপিত হল। দীর্ঘদিন ধরে পত্রপত্রিকায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণের সংবাদ বহু প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভোট নষ্ট হবার ভয়ে অতীতের কোন সরকারই জঙ্গি নির্মূলে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ তখন যদি এখনকার মত কঠোর পদক্ষেপ রষ্ট্রিয়ভাবে নেয়া হত, তাহলে জঙ্গি তৎপরতা এত বৃদ্ধি পেত না। একটা কথা আমাদের সকলকে স্বীকার করতে হবে যে, কেবল অস্ত্র দিয়ে আজকের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা যাবে না। সকল সামাজিক শক্তির মিলিত উদ্যোগে মানবিক চেতনা জাগ্রত করেই কেবল এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আজ যেটা সবচেয়ে জরুরি, তা হচ্ছে একে অন্যকে বোঝা, সংলাপে প্রবৃত্ত হওয়া, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। কল্পিত শত্রুর পেছনে ধাওয়া না করে অন্য ধর্ম, অন্য সংস্কৃতির মানুষকে জানার চেষ্টা করতে হবে। তার জন্যেই প্রয়োজন আন্তঃসংস্কৃতি, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ। বাঙালির জীবনাচরণে হাজার বছরের যে অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য, তাকে যদি আমরা আবার ফিরিয়ে আনতে পারি, তবে কিন্তু সমাজ থেকে এইসব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূর করা সহজ হবে। এখানে আমার ব্যক্তিগত জীবনের দুটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বঙ্গবন্ধু কেবল মুখে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা বলতেন না, জীবনাচরণে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা করতেন। নেতারাই তো পারেন উদাহরণ সৃষ্টি করতে। একথা দিবালোকের মত ¯পষ্ট যে জঙ্গিবাদীরা আমাদেরকে আবার অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। বিশ্বব্যাপী ইসলামিক স্টেট, তালেবান ও আল কায়েদার মত জঙ্গি গোষ্ঠী দেশে দেশে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। প্রাচীন সভ্যতার পুরাকীর্তি, জাদুঘর, গ্রন্থাগার সব ধ্বংস করছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-দীক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি সব ধ্বংস করে ওরা বিশ্বকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়? এ সহজ কথাটা কী আমরা বুঝতে পারিনা? বাংলাদেশেও আজ আমাদের সকল শুভ অর্জণ ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করে আমাদেরকে আবারো সেই তমসাচ্ছন্ন যুগে ফিরিয়ে নিতে মৌলবাদী গোষ্ঠী তৎপর। এই সকল অপশক্তিও চক্রান্তকারীদের বিষয় সমগ্রজাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করতে হবে।


