প্রতারণার আখড়া বানিয়ে ফেলেছে কতিপয় ভুয়া আইনজীবী, দালাল, মুহুরি ও তাদের সহযোগীরা

1
1944

মানুষের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্ট। ন্যায় বিচারের আশায় মানুষ সেখানে যায়। কিন্তু দুঃখজনক যে, এই জায়গাটিকেও প্রতারণার আখড়া বানিয়ে ফেলেছে কতিপয় ভুয়া আইনজীবী, দালাল, মুহুরি ও তাদের সহযোগীরা।

Advertisement

 

অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এদের প্রতারণা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এসব প্রতারকদের নির্মূলের দাবিতে গত বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় এক মানববন্ধন করেছে টাউট দালাল নির্মূল আন্দোলন। এই কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া। তিনি জানান, ভুয়া সনদ দেখিয়ে আইনজীবী পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারকরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রতারককে ধরে থানায় সোপর্দ করেছেন টাউট দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেতারা। এদেরকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্মূল করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে গত ১ মে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক টাউটকে আটক করে থানায় দিয়েছে আইনজীবী সমিতি। আটক টাউটের নাম মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী সোহাগ। গত ৫ মে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে মোসাম্মৎ মৌ নামের এক ভুয়া নারী আইনজীবীকে আটক করে টাউট উচ্ছেদ আন্দোলন কমিটি। তিনি সাত বছর ধরে নিয়মিত আদালতে প্র্যাকটিস করছেন। অনেক বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। ৮ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণাকারী এক নারীকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। তার নাম তানজিমা তাসকিন আদুরি। বাড়ি রাজশাহী। তিনি বলেন, ওই নারী নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিচারপ্রার্থীদের বিভ্রান্ত করে আইন পেশার মানহানি করেছেন। শুক্রবার (১০ মে) মির্জা সাইফুল ইসলাম সুমন নামে এই সাংবাদিক তার ফেসবুক পেজে প্রতারকদের অনেকগুলো ছবি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন। দেখা গেছে, প্রত্যেকের বুকে সাদা কাগজে লেখা আছে ‘আমি ভুয়া আইনজীবী, কারও বুকে লেখা ‘আমি টাউট, কারো বুকে লেখা ‘আমি প্রতারক’। তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘জ্বি এটাই বাংলাদেশ! এই ছবিগুলোর মহান ব্যক্তিদের নিয়ে আমার আপনার প্রিয় বাংলাদেশ! দেশের সুপ্রিম কোর্টের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ভুয়া আইনজীবীর তকমা লাগিয়ে দিব্যি চালিয়ে গেছে অবৈধ কর্মকাণ্ড! সুপ্রিম কোর্টের মতো আর কোথায় নেই ভুয়া কর্মকাণ্ড? প্রতারিত হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রেই সাধারণ জনগোষ্ঠী! যেকোনো প্রতারণার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তিশালী স্বচ্ছ নীতি বাস্তবায়নের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে ?

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here