হাউজিং শিল্প প্রতিবেদক ঃ
পুষ্পধারা হাউজিং এর নাম শুনলে যে কেউ লোভনীয় এ নামের প্রতি আকৃষ্ট হবার কথা। যেন এ হাউজিং শিল্পে ঘর বাড়ি বানালে পুষ্পেরধারা প্রবাহিত হবে আর ঘরবাড়ি পুষ্পের গন্ধে মৌ মৌ করবে। বাস্তবে নামের এ সুন্দর আবরনে ছলচে পুষ্পধারার বিপরিতে সুন্দর সাবলিলভাবে অপ্রতিরোধ্যভাবে নিরব প্রতারণা। যেনদেখার কেউ নেই। কিন্তু অপরাধ বিচিত্রার চোখ ফাকি দিয়ে তো আর সম্ভব নয়। ধরা পড়ে গেল অনুসন্ধানী চোখের জালে। পুষ্পধারার সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিগন এক সময় মনে করেছিলেন এটি পুষ্প নামের সাথে মিল রেখেই নির্ভেজাল নিষ্কন্টক হাউজিং ব্যবসা চালিয়ে যাবে। কিন্তু পুষ্পধারার এমডির কালো মনের ভাষা তখন কেউই বুঝতে পারেনী। ফলে সবাই মিলে পুষ্পের মতই কলঙ্কহীন মনে করে কাজ করছিল। নিজেদের আত্বীয় স্বজনদের পুষলিয়ে পুষ্পধারায় প্লট ক্রয়ে উদ্ভুদ্ধ করেছিল। কিন্তু বিধিভাম কয়েকদিন না যেতেই পুষ্পধারার এমডির আসল চেহারা উন্মোচিত হতে লাগল। জমি নাই ৫বিঘা আর প্লট বিক্রি করছে হাজার হাজার।
পুষ্পধারা হাউজিং এর প্রতারনার কৌশল। এ মন ভুলানো লিফলেট দিয়ে গ্রাহকদের প্রভাবিত করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে।
হাউজিং শিল্পে প্রতারণা যেন থামছেইনা। এ যেন সবার গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। হাউজিং শিল্পে এক প্রকার মন্দাভাব চলছে। তবুও থেমে নেই প্রতারণা। নিত্যনতুন প্রলোভনে নত্য নতুন কোম্পানী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। যেমন আশিয়ান সিটি, শাপলা সিটি, ওশান গ্রুপ, স্বপ্ন ধারা, পুর্বাচল সিটি, সহ নাম জানা অজানা এমন শতাধিক হাউজিং কোম্পানী প্রকাশ্যে রাজধানীতে আলীশান অফিস স্থাপন করে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এ যেন দেখার কেউ নেই। যদিও এগুলো দেখভাল করার কথা রাজউকের। কিন্তু রাজউক চেয়ারম্যান যেন পিঠে বেদেছে কুলো, কানেদিয়েছে তুলো। অবস্থা দেখে এমনই মনে হয়। আবার এমন হবার কারনই বা কি, তাও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন। অনেকেরই মন্তব্য রাজউকের শেল্টারেই এসব কোম্পানীগুলো এমন সব প্রতারণা করে চলছে। রাজধানীর পুষ্পধারার প্রতারণা নিয়েই এবারের প্রতিবেদন।
এখনতো অবস্থা এমন হয়েছে না পারছে আত্বীয় স্বজনকে জানাতে, না পারছে প্লট বুঝিয়ে দিতে, না পারছে টাকা ফেরত দিতে। এমন ত্রিশঙ্কুল অবস্থায় কর্মকর্তা, উপদেষ্টো, সহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিগন পড়েছেন বিপদে। আবার এসব কর্মকর্তা গন এসব প্লট বিক্রয়ের থেকে কমিশনও নিয়েছেন। আর এমডি বিনা পুজিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবেই সহজ সরল ক্রেতাদের ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কিন্তু দেখবে কে বা রুখবে কে। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও নাকি দায়িত্ব নিয়েছেন সংবাদপত্রগুলোকে ম্যানেজ করে রাখার জন্য, আর এর বিনীময়ে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডাইরেক্টর হিসাবে। এভাবেই প্রতারণা চলছে কয়েক বছর যাবৎ। এ পর্যন্ত নাকি ৫ হাজার প্লট বিক্রয় করেছেন। নানা বিশেষন সংযুক্ত ২, ২.৫, ৩, ৪, ৫, ১০ কাঠার নানা নামে উত্তর দক্ষিন নানা সুবিধা সংবলিত প্লটের নাম দিয়ে অধিক মুল্যেও প্লট বিক্রয় অব্যাহত রেখেছেন।

পুষ্পধারা প্রফাটিজ এর এমডি সৈয়দ আলীনুর ইসলাম পুষ্পধারা প্রফাটিজ ব্যবসা শুরু করার পুর্বেও অন্য কোম্পানীর নামে এধরনের প্রতারণা করে এখন নতুন নামে এব্যবসা শুরু করেছেন। সেখান থেকে প্রতারণা করে নতুন নামে ঢাকায় মালিবাগে অফিস খুলে শুরু করেছেন এ প্রতারণা ব্যবসা। পুষ্পধারার এ প্রকল্পের নাম দিয়েছেন পদ্মা ইকো সিটি। সাইনবোর্ড নির্ভর জায়গা ভাড়া নিয়ে তার এই প্রতারণা ব্যবসাব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের টার্গেট করেই তার এ ই ব্যবসা চলছে। কিস্তিতে প্লট বিক্রয়ের নামে কিস্তিতে টাকা নিয়ে এক সময় উদাও হয়ে যাবার পরিকল্পনা করেই এ ব্যবসা শুরু করেছে। সৌদি, মালয়েশিয়া, দুবাই, কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যর প্রবাসিদের কাছে বিক্রয় করে প্রতারণা করেই তার প্রতারণা চলছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর মৌজায় ১৭৯৭ নং খতিয়ান ৭৮৬ নং আর এস দাগ নং ১৭৯৭/৮২ নাল জমি। এর পরিমান ১৮ শতাংশ এবং ১১৪ শতাংশ। সৈয়দ আলী নুর কখনো ডিজিএফইএর উধ্বতন কর্মকর্তাগন তার আত্বীয়, প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরের লোকজন তার আত্বীয়, নানা সাংবাদিক এর নাম ভাঙ্গিয়ে আলী নুর প্রভাব খাটাচ্ছে। কথনো র্যাব প্রধান তার আত্বীয়, পুলিশে তার বড় ভাই এ ধরনের নানা মিথ্যা কথা বলে সে গ্রাহকদের কাছে নিজেকে হাই লাইটস করছে। অনেক উর্ধ্বতন লোক তার এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছে বলেও সাধারন গ্রাহকদের সে প্রভাবিত করছে। পুষ্পধারার সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে পরিবেশ সাটিফিকেট, জেলা প্রশাষকের অনুমতি পত্র, বা প্রয়োজনীয় কোন অনুমতি ব্যতিরিকেই প্রতারক আলীনুর এ ব্যবসা চারিয়ে যাচ্ছে।


