স্টাফ রিপোর্টার ঃ
পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মমিন আকন্দকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে একই উপজেলার প্রজাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। জানাগেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও প্রজাপাড়া গ্রামের মৃত কমর উদ্দীন আকন্দ’র পুত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মমিন আকন্দ’র সাথে একই উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিন থেকে দন্দ চলে আসছে। যার দরুন নজরুল ও তার বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেন (বকুল) মমিন আকন্দকে সমাজে হেয়প্রতিপ্রন্ন করার লক্ষে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়। যার ফলে প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা মমিন আকন্দ’র ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে যে সে একজন প্রকৃত গেজেটপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা যাহার গেজেট নং-৩৬৮, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৩০৬০০১১। বর্তমানে সে পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছে। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গেজেটধারী একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার গেজেট নম্বর ২৪৪৬। মুক্তিবার্তা নং-০৩০৮১৩০২২৩, বাবার নাম মৃত ডাঃ নুর হোসেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার একজন গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা। দ্বৈত গেজেটে তার নম্বর ৩৮৭। মুক্তিবার্তা নং-০৩১৩০৬০০১২। বর্তমানে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা ভাতা হিসেবে মাসিক দশ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগও পেয়ে থাকেন। এ সব সুযোগ-সুবিধা বেশি করে পেতেই মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম দ্বৈত গেজেটভুক্ত হয়েছে। কিন্তু কথায় আছে মিথ্যা বাতাসের আগে ধেয়ে যায়। আসলে ব্যস্তবে হলো ও তাই। বিষয়টি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে দ্বৈত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নজরুল ইসলামকে চিহ্নিত করে কমান্ডার মমিন আকন্দ রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্বৈত গেজেটধারী হিসেবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর ২০১৪ সালে এপ্রিল মাসে তার ভাতা বন্ধ করে দেয়। এবং নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে ভাতা উত্তোলনের নিদের্শ দেয়। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে মনিন আকন্দ’র নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশ করে মনিন আকন্দ’র ব্যাক্তিগত, পারিবারিক সুনাম নষ্ট করাসহ পেশাগত চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলেন, দ্বৈত গেজেটের সুবিধা নেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে এটা আশা করা যায় না। ফেইসবুকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের দায়ে ২৬ নভেম্বর মনিন আকন্দ বাদী হয়ে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে ৫৭ ধারায় পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছে। একজন প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধার নামে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ ও ফেইসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় পীরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যসহ এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
