বেলায়েত হোসেনঃ নিরাপদ খাদ্যে ভরবো দেশ, সবাই মিলে গড়বো সোনার বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২ ফ্রেব্রয়ারী দেশব্যাপী পালিত হলো নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৮। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় এবং মাঠ পর্যায়ে সকল জেলা ও উপজেলা সমূহে একযোগে দিবসটি পালিত হয়েছে।জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হতে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত একটি র্যালির আয়োজন করা হয়।র্যালি শেষে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এমপি।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, এমপি; খাদ্যমন্ত্রী এ্যাড. মো. কামরুল ইসলাম, এমপি; মো. আব্দুল ওয়াদুদ দারা, এমপি ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস,এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ। শাহবুদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি, দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন করা এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে দেশের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ১০ অক্টোবর ২০১৩ সালে যুগান্তকারি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে। আইনটি ১ ফেব্রয়ারী ২০১৫ তারিখে কার্যকর হয় এবং ২ ফেব্রয়ারী ২০১৫ তারিখে একটি জাতীয় বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ গঠিত হয়। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর। তবে ভেজালমুক্ত খাবার রোধ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সরকারের পাশাপাশি জনগণের দেশাত্ববোধ দরকার। খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার হতে বেরিয়ে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন হতে খাবার টেবিল পর্যন্ত খাদ্যকে জনগণের জন্য নিরাপদ করা খুবই জরুরী। এক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পর্যায়ে সমস্যাবলী এবং চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নত করে উত্তোরণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশে মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য সংস্থানের মাধ্যমে এসডিজি’র অভীষ্টসমূহ অর্জনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিয়োগ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের কার্যক্ষেত্র সম্প্রসারণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলের নিরাপদতার মান উন্নয়ন, তদারকি আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের পরিবল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ আত্নপ্রকাশ করবে এবং দেশের সকল মানুষের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে- এ লক্ষ পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা দু’দিনব্যাপী আয়োজিত নিরাপদ খাদ্য মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। অনুরুপভাবে সকল জেলা ও উপজেলায় র্যালি,দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, নিরাপদ খাদ্য ও ভেজাল বিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ সভা, মাইকিং, ভিডিও প্রদর্শনী ও অন্যান্য প্রচারনামূলক কার্যক্রম পালিত হয়েছে।

