নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পরিচয় দানকারী হাজী ইয়াছিন মিয়া তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছে বলে জানা গেছে। এলাকায় গিয়ে খোজ খবর নিয়ে জানা যায় হাজী ইয়াসিন মিয়া নারায়নগঞ্জে সেভেন মার্ডার মামলার প্রথম এজাহারের দুই নম্বর আসামী ছিলেন। নারায়নগঞ্জ সদরের এমপি শমীম ওসমানের হস্তক্ষেপের বদৌলতে পুলিশের চার্জসিট থেকে তার নাম বাদ পড়ে। এই মামলার কারনে সে বেশ কিছুদিন পলাতক ছিল। মামলার চার্জসিট থেকে তার নাম বাদ পড়ার পর সে এলাকায় ফিরে এসে এক সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশের একটি টিম সানারপাড়, মিজমিজি ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাহিনীর বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তার কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। অনেকের মুখে শোনা যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে তাকে বাদ দেয়া হবে। কিন্তু এখানেও এমপি শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে সে রক্ষা পেয়ে যায়। এরই মধ্যে তার বাহিনীর মাধ্যমে সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটের ৮নং ও ১৩ নং ভবন সস্ত্রাসী কায়দায় আওয়ামীলীগের দোহায় দিয়ে জোর পূর্বক দখল করে নেয়। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে মিতালী মার্কেটের ভবন দুইটি দখল করে নিয়ে প্রায় ৪৫০ দোকান মালিককে জোড় পূর্বক উচ্ছেদ করে বিগত ১৪ মাস ধরে এসব দোকানের ভাড়া ১৫০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া তার সন্ত্রাসী বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। ইহাতে দেখা যায় যে ইয়াসিন বাহিনী প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা, ভাড়ার টাকা নিয়ে যাচ্ছে। তাহলে গত চৌদ্দমাসে ১,৪৪,০০,০০০ টাকা নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সে দোকানদারদের উচ্ছেদ করে প্রতি দোকান ভাড়া দিয়ে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম হিসেবে নিয়েছে। এ সুবাধে সে আরও প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দোকান মালিকগন অন্যান্য এলাকার লোক হওয়ায় তার বাহিনীর ভয়ে কোন কথা বলতে পারছে না। তারা মিতালী মার্কেট সমিতির নিকট বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে। মার্কেট সমিতি আজ কাল মিমাংসা করে দিবে বলে তাদেরকে আশ্বাস দিলেও তারাও ইয়াছিন বাহিনীর নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। দোকান মালিকগন উপায়ান্ত না দেখে তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সন্ত্রাসীদের মার্কেটে দেখতে পায়। পুলিশ দেখে সন্ত্রাসী বাদশা ও মাসুম গংরা দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। দোকান মালিকদের অভিযোগটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস,আই সামসুল হক তদন্ত করছে বলে অভিযোগকারীদের একজন জালাল মিয়া জানায়। তবে অজ্ঞাত কারনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এখনও মামলা নেয়নি। সেভেন মার্ডার মামলার ২নং আসামী হাজী ইয়াছিন মিয়া চার্জসিট থেকে নাম কাটিয়ে পলাতক অবস্থা থেকে বাড়ী ফিরেই তার বাহিনী নিয়ে মাদানীনগর মাদ্রাসার জমি দখল করতে যায়। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্দ হয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে ঘেড়াও করলে তারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে কোন রকমে জীবন রক্ষা করেছে। সন্ত্রাসী ইয়াছিন বাহিনী কিছু দিন পূর্বে সাহেব পাড়ায় কবীরের নির্মানাধীন বাড়ীতে এসে ২০ লাখ টাকা চাদা দাবী করে। বাড়ী ওয়ালা কবির হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করলে সন্ত্রাসী ইয়াছিন হাজীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সেভেন মার্ডার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া আসামী আনোয়ার হোসেন (আসিক) গ্রেফতার হয়ে এখনও জেল হাজতে আছে। সন্ত্রাসী ইয়াসিনের ক্যাডার রঘুনাথপুরের কমর আলীর ছেলে বাদশা ও ইয়াবা ডিলার মাসুম। মাসুম ইয়াছিন হাজীর ছত্রছয়ায় সিদ্ধিরগঞ্জে একমাত্র ইয়াবা ডিলার। মাসুমের মাধ্যমে সারা নারায়নগঞ্জে ইয়াবা সাপ্লাই দেয়া হয়। এছাড়া মাসুম সাইনবোর্ড মিতালী মার্কেট এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকাতেও ইয়াবা সাপ্লাই করে। টেকনাফ থেকে সরাসরি ইয়াবা সাইনর্বোডে মাসুমের নিকট আসে এবং এখান থেকে সে তার নিয়োজিত লোকদের মাধ্যমে সানারপাড় হয়ে ডেমরার ষ্টাফ কোয়াটার দিয়ে গুলশান-বনানীসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলে সাপ্লাই করে থাকে। বাদশা মাসুমকে এ সকল বিষয়ে সহযোগিতা করে। এছাড়া বাদশা ও মাসুম সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ফ্লাটবাড়ীতে যুবতী মেয়েদের রেখে দেহ ব্যবসা করায়। এ সুবাধে তার সাথে আন্ডার ওয়ার্ন্ডের লোকদের সাথে তার যোগাযোগ বেশী। এলাকাবাসীরা জানায় ইয়াছিন হাজী বাদশা ও মাসুমকে কেস, মামলা ও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করে দেয়। সিদ্ধিরগঞ্জের বিখ্যাত সন্ত্রাসী নুর হোসেন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলে থাকায় ও সেভেন মার্ডার মামলায় তার ফাসির আদেশ হওয়ায় নুর হোসেনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের এলাকা এখন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। কমিশনার নজরুলকে হত্যা করায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এদিক ওদিক কেহই নেই। ফলে হাজী ইয়াসিন মিয়া বর্তমানে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে সকল এলাকার নিয়ন্ত্রন নেয়ার চেষ্টা করছে। কিছু কিছু এলাকা তিনি সরাসরি য়িন্ত্রন করছেনও। এলাকাবাসীর দাবী এখনই যদি ইয়াসিন হাজীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের রাস টেনে ধরা না হয় তাহলে সে অতি তাড়াতাড়ি নুর হোসেনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। নারায়নগঞ্জের আওয়ামীলীগ যদি ইয়াছিন হাজীকে আরেকটু মাঠে থাকার সুযোগ দেয় তাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এর ফল হাতেনাতে পাবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করে।
