নাটোরের ডিসি’র, নানা অকর্মের অভিযোগ

0
1035

নাটোরের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ম্যাসেঞ্জারে নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানি ও গোপনে বাংলোতে ডাকার অভিযোগ পৌঁছেছে সরকারের উচ্চ দপ্তরে। এছাড়া অন্য নারীদেরও কুপ্রস্তাব ও ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর কথোপথনেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

Advertisement

 

অপর দিকে কর্মচারীকে মারপিট এবং সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন সরকারি এই কর্মকর্তা। নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দেয়ায়, ভুক্তভোগি ওই ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া শিশুপার্ক দখল করে লেডিস ক্লাব নির্মাণ করায় শহরবাসীর কাছেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য যোগদানকারী নাটোরের জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমান। এদিকে প্রজাতন্ত্রের এই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নাটোরের মানবাধিকার ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। তার এমন নানা আচরণের প্রমাণও মিলেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৯ই অক্টোবর নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন গোলামুর রহমান। বিসিএসএসের ২০তম ব্যাচের এই ক্যাডার অফিসার সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন শিপিং করপোরেশনের ম্যানেজার হিসেবে। সম্প্রতি ডিসি হিসেবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। তবে যোগদানের পর থেকেই সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ। জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমান যোগদান করার পর তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠে নারী ম্যাজিস্ট্রটকে যৌন হয়রানির বিষয়টি।  সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কার্যালয়ের এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার এবং মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব দেয়। জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমানের এই অনৈতিক প্রস্তাবে  রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে হয়রানি করেন তিনি। পরে ভুক্তভোগি ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবগত করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তবে মান-সম্মানের ভয়ে ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেট গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। শুধু নারী ম্যাজিস্ট্রেট নয়, জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আর্ট কলেজের এক ছাত্রীকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলামুর রহমান বলেন, আমরা এখন এমন একটি পরিস্থিতিতে আছি যখন সবাইকে হ্যারেসমেন্ট করার একটা প্রচেষ্টা চলবে। যেন আমরা মেইন ট্র্যাক থেকে সরে যাই তবে আমরা সতর্কতার সঙ্গে যাচ্ছি। তিনি বলেন, কখনও কখনও তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়। কেউ হ্যাক করে এই কাজগুলো করে থাকতে পারে। ফেসবুক আইডি হ্যাক হলেও আপনি আইনি ব্যবস্থা নেননি কেন বা কোনো ধরনের স্ট্যাটাস দেননি কেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলে। তবে আমি ফেসবুকের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। কোনো কর্মচারীকে মারপিটের ঘটনা নেই বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে, নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানি, কর্মচারীকে মারপিট এবং সরকারী দপ্তরের বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতাসহ ৬ দফার একটি গোপন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। গোপন ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বিরোধ উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচনে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী প্রতিকার চাইলে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here