নাঙ্গলকোটে অপরিকল্পিত মাছ চাষ সড়কের বেহাল দশা!

0
917

জামাল উদ্দিন স্বপন,(কুমিল্লা):-
অপরিকল্পিত মাছ চাষ করায়  আধা কিলোমিটারের বেশি পাকা ও ব্রিক সলিংসহ ৩৩১ মিটার কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কুমিল্লা’র নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়ন পশ্চিম এর অর্ন্তগন্ত কান্দাল মাস্টার পাড়ার সংলগ্ন কান্দাল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশের আঠিয়া ও কান্দাল পূর্বপাড়া’র আঞ্চলিক সড়কটির বেহাল দশা। বর্তমানে এই সড়কে কোন যানবাহন চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে। এসব সড়কগুলো দিয়ে কোন ভারি যানবাহন চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মৎস্য চাষ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অংশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সড়কের বেহাল অবস্থা হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। ফলে সড়কগুলোর কোন সংস্কার হচ্ছে না।কিন্তু একটিভ  পরিকল্পনা গ্রহণ করলে সড়কগুলোও মজবুত হতে পারে মাছ চাষের জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
সম্প্রতি সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায়, মুনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি প্রভাবখাটিয়ে সরকারী জায়গা ও রাস্তার পাশ নষ্ট করে চলছে প্রথম থেকেই। ভারি বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে যাওয়ায় মুনু মিয়া পাঁকা সড়কের মাঝখান কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করে। এই কারনে কোন যানবাহন চলাচল তো দুরে থাক- স্কুল পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীরা এই ক্ষতির সম্মুখীত হতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠান গুলোতে হাজার শিক্ষাথী রাস্তা পার হয় প্রতিদিন- সোন্দাইল উচ্চ বিদ্যালয়, সোন্দাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দাল পূর্বপাড়া আর্দশ ইসলামিয়া কিন্ডার গার্টেন, কান্দাল দাখিল মাদ্রাসা, কান্দাল নুরানী মাদ্রাসা, কান্দাল প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কান্দাল মানব কল্যান কিন্ডার গার্টেন সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একমাত্র সংড়ক এটি।
গত দু বছর আগে এলাকার মানুষের দুভোগের শেষ ছিলো না। আ,লীগ ক্ষমতায় আশার পর এই এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার পরির্বতন ঘটে। এসব এলাকার মৎস্য খামারের মালিকরা সরকারী পাকা রাস্তা, ব্রিক সলিংসহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্মিত রাস্তা মাছের খামারের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে অতি সহজেই মাছ চাষ করে আসছে। মৎস্য চাষে ব্যবহৃত সড়কের দুই পাশে সব সময় পানি থাকার ফলে খামারের সকল মাছ রাস্তার মাটির গায়ের সাথে ঘেঁষে রাস্তার মাটি নরম করে পানির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিবছর প্রায় ৫০কিলোমিটারেরও বেশি আঞ্চলিক সড়ক নষ্ট হয়ে যাছে। ফলে ওইসব সড়কগুলোতে সকল প্রকার ছোট-বড় যানবাহনসহ এলাকাবাসীর চলাফেরা বন্ধ হয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।এ বিষয়ে এআবু কালাম, এড, আবুল কালাম, মহিউদ্দিন, মাস্টার বাহার উদ্দিন উপস্থিত আরো বেশ কিছু এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি মুনু মিয়াকে অনেক বার শতর্ক করেছি কিন্তু সে আমাদের কথাগুলো শুনেনি। আর আমরা এই রাস্তার জন্য কতকষ্ট করেছি তা বুঝানোর কোন ভাষা জানা নেই।
এ বিষয়ে অত্র এলাকার বৃদ্ধ একজনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা- এ এলাকার রাস্তাগুলোর কথা স্বরণ করে চোখের জল ফেলে দেন। তিনি বলেন আমরা যদি দেশপ্রেমি হয়ে থাকি তাহলে এই অনিয়মগুলো আমাদের কে দেখার প্রয়োজন আছে।
এই বিষয়ে অত্র দুই এলাকার আ,লীগের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাইলে আ,লীগ নেতা ও সাবেক মেম্বার জহিরুল হক বলেন: বিষয়টি আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি এবং তাকে এই বিষয়ে শর্তক করেছি।
আইয়ূব আলী মজুমদার বলেন; এই বিষয়ে আমি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে এ বিষয়ে কোন পরামর্স দেয়নি।
এ ব্যাপারে দৌলখাঁড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার সিরাজুল আলম (স্যার) এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক মাছের খামারীরা প্রতিবছর নষ্ট করে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাদেরকে শর্তক করা হয়েছে যাতে ওইসব এলাকায় মৎস্য চাষীরা পরিকল্পিতভাবে খামারের পাড় তৈরী করে নেয় । তিনি আরও বলেন আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে, এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবগত করব।
এব্যাপারে কুমিল্লা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী কে অবগত করলে তিনি জানান,যে সকল খামারীদের খামার পাকা বা ব্রিকসলিং অথবা রাস্তাসংলগ্ন রয়েছে রাস্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করে মাছ চাষ করা জন্য তাদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ ছাড়া  যে সমস্ত খামার মালিক মাছ চাষ করে রাস্তা নষ্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here