ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ নিয়ে কিশালাকারের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ নাটের গুরু স্থপতি ইকবাল হাবিব

0
2957

মোঃ আবদুল আলীমঃ
তাকওয়া মসজিদের অবস্থান প্লট নং ৫৮৫/বি. রোড নং ১২/এ, ধানমন্ডি আর/এ, ঢাকা। মসজিদটি প্রথমে নির্মিত হয় ১০ কাঠা জমির ওপর। পরবর্তিতে ৪/১/১১ ইং তারিখে মসজিদটি সম্প্রসারনের জন্য আরও ১১.৭২ শতক জমি বরাদ্দ দেয় সরকার। ২৩/১২/১১ থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করে মসজিদের সম্প্রসারনের কাজ সম্পন্ন হয় বলে মসজিদ সূত্রে জানা যায়। এটি নির্মানে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লীদের আপত্তি উপেক্ষা করে মসজিদের বহি: অংশ বিদেশী কাঠ দ্বারা সজ্জিত করা, এসকেলেটর লাগানো, এয়ার কন্ডিশন না লাগানো ইত্যাদি স্থাপতি ইকবাল হাবিব একতরফাভাবে করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। বহি: অংশ বিদেশী কাঠ দ্বারা সজ্জিত করতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা। মসজিদ কমিটির যুগ্ন সম্পাদক থাকা অবস্থায় তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থপতি বিন্দু লি: এর মাধ্যমে এসব কাজগুলো করেছেন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে যার ফলে ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। অতিরিক্ত এ খরচের ক্ষেত্রে তিনি নিজে অর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটির অনুমোদন ছাড়া মসজিদের ৫ম তলায় ক্যাফেটারিয়াসহ রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্টা করেন ইকবাল হাবিব যার জন্য অনাহুত ৬৭ লাখ টাকা খরচ হয়। মসজিদের খতিব জুলফিকার জহুর একাজে একতরফাভাবে ইকবাল হাবিবকে সমর্থন করেছেন। মসজিদ কমিটির একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আরও জানা গেছে মসজিদটির জন্য পরবর্তিতে বরাদ্দকৃত ১১.৭২ শতক জমির ওপর বর্ধিত অংশ নির্মানে রাজউক থেকে কোন প্ল্যান পাশ করা হয় নাই। এ ব্যাপারে রাজউক এর সাথে যোগাযোগ করলে এধরনের কোন প্ল্যান পাশ হয় নাই বলে রাজউক থেকে জানানো হয়। ইমারত নির্মান আইন ২০০০ বিধি মোতাবেক ঢাকা শহরে বহুতল ভবন নির্মান করতে রাজউক থেকে প্ল্যান পাশ করতে হয়। এই আইন মসজিদ থেকে সকলের জন্য বাধ্যবাধকতা
রয়েছে। যাঁকাত ফান্ড থেকে রিসোর্স সেন্টার তৈরি করেন ইকবাল হাবিব। ব্যায়বহুল এ রিসোর্স সেন্টারে এমন কার্পেট বসানো হয়েছে যে দাঁড়ালে পায়ের দুই ইঞ্চি দেবে যায়। গোটা দেশের কোন মসজিদে এমন রিসোর্স সেন্টার নেই। রিসোর্স সেন্টারে মাসে ৬ হাজার টাকা প্রতিজনের কাছ থেকে নিয়ে ২৫ জন মহিলাকে প্রশিক্ষন দেয়ার ব্যবস্থা করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব ও খতিব জুলফিকার জহুর। কী বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হয় তা মুসল্লীসহ সংশ্লিষ্টরা অজ্ঞাত। গত ১/১১/১১ ইং তারিখে ডেইলি ষ্টার ও ইত্তেফাকে টেন্ডার নোটিশ দেয়া হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিত্তি স্থাপতির মাধ্যমে। ৫ তলা নির্মান ও রিনোভেশনের জন্য এ টেন্ডার দেয়া হয়। তবে মসজিদ কমিটি ও ভিত্তি স্থাপতির সাথে কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই একতরফাভাবে এ টেন্ডার নোটিশ দেয়া হয়। পিপিপি রুল ২০০৮ অনুযায়ী এধরনের টেন্ডার আহবানে যে নিয়ম থাকা উচিত তা মানা হয় নাই। তাছাড়া কতগুলো টেন্ডার সিডিউল বিক্রি হয়েছে ও কতগুলো টেন্ডার জমা হয়েছে তা কমিটিকে জানান হয় নাই। টেন্ডার ইভেল্যুয়েশন রিপোর্ট (টিইআর) অনুযায়ী টেন্ডার জমাকারীর যোগ্যতা ও কারিগরি বিষয় নির্ধারন করা হয়। অথচ টিইআর কমিটিকে দেয়া হয় নাই। শুধুমাত্র মোনামি ইন্টা: প্রা: লি: এর টেন্ডার ডকুমেন্ট কমিটিকে দেয়া হয় যা ৭, ৩৯, ৯৫, হাজার টাকা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তিতে মোনামি ইন্ট: প্রা: লি: কে ১,৭৫, লাখ টাকা প্রদান করা হয়। তবে বিল, প্রাপ্তি স্বীকার, কাজ সমাপ্তি সনদ ইত্যাদির কোন হদিস নেই। এদিকে হঠাৎ করে মোনামি ইন্টা: কে টার্মিনেট করা হয়। কোন যুক্তিতে টার্মিনেট করা হয় তা অন্ধকারে রয়েছে। চুক্তির ৪৫ ধারা অনুযায়ী টার্মিনেটের ১৫ দিন আগে শো কজ নোটিশ দেয়ার নিয়ম। এ নিয়ম মানা হয় নাই। মোনামি ইন্টা: কে বাদ দিয়ে ভিত্তি স্থাপতি লি: কাজ নেয়। এটা স্থপতি ইকবাল হাবিবের নিজস্ব প্রতিষ্টান।  মসজিদ কমিটি ও ভিত্তি স্থাপতির সাথে কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই ১, ২১, ২৩, ৮২৭ টাকা বেশী খরচ করেন। তাকওয়া মসজিদ নির্মানে স্থপতি ইকবাল হাবিবের একক প্রভাব ও কর্তৃত্ব থাকার কারন হিসেবে একাধিক মুসল্লী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান যে, তিনি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছের ও নিজের লোক বলে পরিচয় দেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে শায়েস্তা করবেন বলে ভয় দেখান। এ ব্যাপারে ইকবাল হাবিবের সাথে তার প্রতিষ্ঠান ভিত্তি স্থাপতিতে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করেন নি। তার সাথে কথা বলার ও তার মতামত নেয়ার জন্য তার প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে যোগযোগ করে গেলেও তিনি এ প্রতিবেদককে এক ঘন্টা বসিয়ে রেখে দেখা করেন নাই। নিয়মিত নামাজ পড়েন এমন অনেক মুসল্লী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, খতিব জুলফিকার জহুর মসজিদের এসি রুমে থাকতেন। শুধু জুমার নামাজের দিন খুতবা দিতেন। অন্যান্য নামাজে তিনি অংশ গ্রহন করতেন না। তিনি মসজিদে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত বক্তব্য দিতেন। একটি সূত্রে জানা গেছে ঢাকা শহরে তার নামে তিনটি আলিশান বাড়ি ও নিজম্ব প্রাইভেট কার রয়েছে। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। তাকওয়া মসজিদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত থাকছে। (চলবে)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here