দুর্নীতি যেন পিছু ছাড়ছে না খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ডকে। সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাধে ভর করে এক শ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করে চলছে। মন্ত্রী এমপি সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে আবার কখনো কখনো অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসাধু কর্পোরেট ব্যবসার ছদ্মাবরনে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তেমনি খান ব্রাদার্স নামের এক কর্পোরেট গ্রুপের এমডি তোফায়েল কবির খান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর আশির্বাদ আদায়ে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে অর্থমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রভাব খাটিয়ে, নৌ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারের অর্থ বাচানোর মুখোশে দেশীয় শিল্প দেখিয়ে খান ব্রাদার্স কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সুচতুর এমডি তোফায়েল কবির খান এভাবেই নানান চাল-চাতুরির সাথে মন্ত্রীদের দোহাই দিয়ে, কাষ্টমস ইন্সপেক্টর খায়রুল কবির খান এর সহযোগিতায় অবৈধ উপায়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। মহাজোট সরকারের আমলে হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, পদ্মা সেতু দুর্নীতি সরকারের ভীত নড়বড়ে করে দিয়েছে। সম্প্রতি জাতিয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কোন অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। যেমন ছাড় দেয়া হয়নি ছয় হাজার আঃলীগ নেতা কর্মীকে যারা এখন জেল হাজতে। এমনকি সাভার ট্র্যাজেডির রানাকেও জেল হাজতে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তেমনি এক কাষ্টমস ইন্সপেক্টর এর দুর্নীতি, দুর্নীতির টাকায় কি করে দশটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দশটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি, কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার না থাকা স্বত্ত্বেও কি করে বিআইডব্লিউটিসিতে অকেজো ফেরী সরবরাহ করে, ওয়ান ব্যাংক এবং ব্যাংকের থেকে কি করে টাকা জালিয়াতী করে শত শত কোটি টাকা জালিয়াতি করেছে, শুল্ক মুক্ত জাহাজ শিল্পের মালামাল কি করে খান ব্রাদার্স গ্রুপের ইমারত নির্মানে লাগানো হচ্ছে, চট্রগ্রামে পোষ্টিং হওয়া স্বত্ত্বেও কাষ্টমস ইন্সপেক্টর খায়রুল কবির চট্রগ্রামে অফিস না করে কি করে সার্বক্ষনিক খান ব্রাদার্স গ্রুপের এক লক্ষ টাকা বেতনে চাকুরি করেন, অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে সদা সর্বদা নিজকে নিয়োজিত রেখে আলাউদ্দীনের প্রদীপের ন্যায় কিভাবে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছে রূপকথার কাহিনীকেও যে হার মানিয়েছে তার সেসব ফিরিস্তি তুলে ধরতে অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে থাকছে নিয়মিত। ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকায় একটি অননুমোদিত হাউজিং কোম্পানী খুলে ভূমিদস্যুতাও শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অপরাধ বিচিত্রায় খান ব্রাদার্স এর সংবাদ প্রকাশ করায় ফোন করে প্রতিবেদককে অশ্লিল ভাষায় গাল্গাালি, আবারো সংবাদ প্রকাশ করলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে এ কোম্পানী। অপরাধ বিচিত্রার ঈগল টিমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে এ সকল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অর্থমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে খান ব্রাদার্স গ্রুপের কোটি কোটি টাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ৩০০ (তিনশত) বিঘা জমীর উপর খান ব্রাদার্স গ্রুপের খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ড স্থাপন করা হয়। তাদের এই নির্মিত শিফইয়ার্ডে কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। সূত্রে আরো জানা যায়, সমগ্র বাংলাদেশে প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা অবস্থায় সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ডে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়। যেখানে প্রধান মন্ত্রী সাধারন জনগনকে গ্যাস দিতে না পারায় দীর্ঘ দিন যাবত সংযোগ বন্ধ রাখে সেখানে একটা ফ্যাক্টোরিতে অবৈধভাবে গ্যাস দিয়ে হাজার হাজার সাধারন গ্রাহককে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অনেকে মন্তব্য করেন। খান ব্রাদার্স গ্রুপ থেকে জানা যায়, তাদের এই শিফইয়ার্ড বাংলাদেশের অন্যতম শিফইয়ার্ড হিসেবে নির্মান করেছে কিন্তু গ্যাস সংযোগের অভাবে সেটা কোন ভাবেই পরিপূর্ন রূপ দেওয়া যাচ্ছিল না। তখন খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ডকে পরিপূর্ন রূপ দেওয়ার জন্য অনেক মন্ত্রী মহোদয়ের দরজায় নক করে কিন্তু কারো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মাননীয় অর্থ মন্ত্রী সহযোগিতায় তারা গ্যাস সংযোগ পায়। তিতাস গ্যাস এন্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানি সূত্রে জানায়, তারা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয় নাই। কিন্তু যদি কেউ কোন ভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পেয়ে থাকে তাহলে আমাদেরকে কোন ভাবে অবগত করলেই আমরা সেটাকে তদন্ত করে অবৈধ হলে সেটার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ইতি মধ্যে অপরাধ বিচিত্রার একটা প্রতিবেদনে আমরা পেয়েছি খান ব্রাদার্স গ্রুপের খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ড’ এ অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে মাননীয় অর্থ মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশে সে ব্যাপারে আমরা ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমরা ব্যবস্থা নিব। মেঘনা ঘাট সূত্রে জানা যায়, খান ব্রাদার্স গ্রুপের খান এন্ড ব্রাদার্স শিফইয়ার্ড’ এর নির্মিত ৩০০ (তিনশত) বিঘা জমি ভূমিদস্যুতা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মেঘনা ঘাট এলাকার বিভিন্ন লোকের অভিযোগ বিভিন্ন লোকের জমি জোর পূর্বক জবর দখল করে খান ব্রাদার্সের এই ফ্যাক্টোরি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন ব্যাক্তি বলেন, খান ব্রাদার্স এর লোকেরা কাউকে অস্ত্রের মুখে কাউকে সন্ত্রাসী দিয়ে ও কাউকে ১০ লক্ষ টাকার জায়গায় ১ লক্ষ টাকা দিয়ে সব জবর দখল করে নেয়। এই ফ্যাক্টোরির কারনে এলাকাটি বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরে। এই ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে এলাকার অনেকে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের ক্ষমতার কাছে কেউ টিকতে পারে না বলে অভিযোগ করেন এলাকার সাধারন লোকজন। এই জমির মূল্য কমিয়ে দিয়ে সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব ফাকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খান ব্রাদার্স নামে এই গ্রুপ অব কোম্পানীর বিরুদ্ধে হলমার্কের মত শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু এ গ্রুপের দুর্নীতির কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ হতে না হতেই অপরাধ বিচিত্রার দপ্তরে ফোন করে হুমকি ধমকি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে খান ব্রাদার্স এর র্দুবৃত্তরা। অথচ তাদের দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানে বাব বার অফিসে ধর্না দিলেও খান ব্রাদার্স এর অফিসে এমডি, চেয়ারম্যান থাকা স্বত্ত্বেও বিষয়টি আড়াল করতে এ অনুসন্ধানী দলের সাথে কথা বলেননি তারা। অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারিদের কেউই এমডি চেয়ারম্যান এর নাম্বার দেননি, তাদের কাছে নাই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রুড় কন্ঠে। এ গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি ফাইলও খোলার খবর রয়েছে বলে জানান একটি সূত্র। এ ভাবেই খান ব্রাদার্স গ্রুপ সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে ধোকাবাজী করে অর্থ হাতিয়ে নেয়। খান ব্রাদার্স জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ডেফার্ড এলসি/লোকাল এলসি এবং ভূয়া মর্টগেজের মাধ্যমে ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাত, বন্ড লাইসেন্সের অপব্যবহার, আয়কর এড়িয়ে চলা, ওভার ইনভয়েসিং ও বিদেশে অবৈধ ভাবে কালো টাকা পাচাঁরের অভিযোগ উঠেছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, খান ব্রাদার্স গ্রুপ এর সহযোগী ১০ (দশ) টি প্রতিষ্ঠান সহ উক্ত কোম্পানীর মালিক যথাক্রমে চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল কবীর খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক-তোফায়েল কবীর খান, পরিচালক-ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাকিরুল কবীর খান, পরিচালক-মোঃ রুহুল কবীর খান রাষ্ট্রের বানিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও ঋণ জালিয়াতি করেছে। উক্ত ব্যক্তিবর্গ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করার মানসে ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে পরস্পর যোগ সাজসে ভূয়া মর্টগেজ উপস্থাপন সাপেক্ষে নিজস্ব একাধিক কোম্পানীর মধ্যে ডেফার্ড এলসি/ লোকাল এলসি এবং ভূয়া মর্টগেজের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা শিল্প ঋণ নিয়েছে এবং ঋনের শর্ত অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবসায়িক কাগজপত্র ও দলিলাদি জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়। খান ব্রাদার্স গ্রুপ শুধু ব্যাংকের টাকাই আত্মসাত করেনি বিগত সরকারের আমলের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকের কালো টাকাও খান ব্রাদার্স গ্রুপের তহবিলে নিরাপদে রক্ষিত আছে। এনবিআর এর আওতাধীন ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে অনেক গুলো বন্ড লাইসেন্স থাকায় বন্ডের অপব্যবহার করে ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা এই গ্রুপ বিদেশে পাচার করেছে। এনবিআর এর চাকুরি করে ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ক্ষমতা ব্যবহার করে পরস্পর যোগ সাজসে ৬ (ছয়) টি বন্ড লাইসেন্স হাসিল করেছে। এই ৬ (ছয়) টি বন্ড লাইসেন্স এর অপব্যবহার করে পলি প্রোপাইলিন, রেজিন, নীট সামগ্রীসহ শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানি করে তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া ক্যাপিটাল ম্যাশিনারিজ ও স্পেয়ার পার্টস আমদানিতেও তারা জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। এই সমস্ত পন্যের অপঘোষনা দিয়ে বিলাস বহুল অনেক পন্যাদি আমদানি করে তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে থাকে। কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও তাদের আয়কর নথির অবস্থা অত্যান্ত নাজুক বলে জানা যায়। এছাড়াও আরো অনেক কাষ্টম কর্মকর্তা অনৈতিক সুযোগ সুবিদা দেয়া এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। খান ব্রাদার্স গ্রুপের সমস্ত বিষয়ের উপর অপরাধ বিচিত্রার বিশেষ অনুসন্ধান চলছে। পরবর্তী সংখ্যায় অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী টিম খান ব্রাদার্স গ্রুপ এর ৩০০ বিঘা জমির ভূমিদস্যুতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এই বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী টিমের ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে।

