বাবারে- এত বয়স হইল কি পাপ করছি জানিনা কিন্তু আজ পুলিশ আমাকে যে অপমান আর ইজ্জতহানি করল- এ লজ্জা আমি কি করে লুকাই” – এতটুকু বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মোছা: ছকিনা বেগম (৫২)। গত ২৩-০৩-২০১৭ইং রাতে আনুমানিক ১.০০ ঘটিকায় সদলবলে আসেন দক্ষিণখান থানার এস আই কাওছার। বিনাঅনুমতিতে ভেতরে ঢোকেন তিনি সাথে কথিত ইনফর্মার কয়েকজন। প্রথমেই ধরে ফেলেন ছকিনা বেগমের একমাত্র সন্তান সাদ্দাম (২৬)কে। বল- “মাল কোথায়” বলে লাথি মেরে ফেলে দেন ইনফর্মার’রা। পা দিয়ে মাড়িয়ে দেন সাদ্দামের মুখ ও হাত পা। দৌড়ে আসেন সাদ্দামের মা ছকিনা বেগম। এস আই কাওছার ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাকে। বল-“মাল কোথায়”? মাল কি বাবা! আমরা ওই সব কখনো দেখিও নাই, চিনিও না। বাঁধ সাধে সাথে থাকা সাদা পোষাকধারী ইনফর্মার’রা। ওই বেটির শরীরে ইয়াবা আছে। এস আই কাওছার শুরু করে মা স্বরূপ বৃদ্ধা মহিলার শরীর তল্লাশি। একে একে খুলে ফেলেন শরীরের কাপড়। খুজঁতে থাকেন ছকিনার শরীরে ইয়াবা। কিছুই না পেয়ে ছেড়ে দেন তাকে। বৃদ্ধ মা কাঁদতে থাকেন একসময় জ্ঞান হারানোর অবস্হা। অপরদিকে সাদ্দামের উপর চলছে পাশবিকতা। তার মুখের দু পাশের ঠোঁট টেনে ধরেন সাদা পোষাকি কথিত ইনফর্মাররা। আর মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে খুঁজতে ইয়াবা থাকেন এস আই কাওছার। কিছু না পেয়ে আবার শুরু করেন লাথি, ঘুষি ও টর্চার। গার্মেন্টস কর্মী সাদ্দামের সহধর্মিনী দিশেহারা হয়ে বুকের কাপড় নিতে গেলে হুংকার দেন এস আই কাওছার- “এক পা কোথাও যাবিনা”। বুকের ওড়নাটাও নিতে দেয়া হয়নি তাকে। হাত দিয়ে কোনরকম বুকটা ঢেকে কান্না জড়িত কন্ঠে ক্ষমা ভিক্ষা চান তিনি। কিন্ত কোন কিছুই না পেয়ে ঘরের মালামাল ও মোবাইল ভাঙ্গায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন এস আই কাওছার ও তার বাহিনী। অবশেষে সাদ্দামের একমাত্র শিশু মেয়ের জন্য জমানো ২৫০০ টাকা সহ সাদ্দামকে নিয়ে বেড়িয়ে যান এস আই কাওছার ও তার বাহিনী। সাদ্দামকে নিয়ে যাওয়া হয় আরেক ব্যক্তি মোঃ হযরত আলী (৩০), গাওয়াইর এলাকার মিয়াজ উদ্দিনের বাসায়। সেখানেও ঘুমন্ত হযরতকে ডেকে তুলে কিছুই না পেয়ে ঘরের মালামাল ভাঙ্গা শুরু করেন এস আই কাওছার ও তার দল। দুজনকেই ধরে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে যাত্রা শুরু করেন দক্ষিণখান থানার দিকে। পথে তাদেরকে হ্যান্ডকাপ লাগনো অবস্হায় রেখে বিয়ার (ক্যান) পান করে যাত্রা বিরতি পালন করেন এস আই কাওছার ও তার বাহিনী। গভীর রাতে ফোন করা হয় সাদ্দাম ও হযরতের বাসায়, চাওয়া হয় বিশাল অংকের টাকা। সকাল ৯.০০টায় সাদ্দামের বৃদ্ধ, দিনমজুর বাবা নগদ ৪০০০ টাকা মুসলেকা দিয়ে নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন সাদ্দামকে অপরদিকে অসহায় হযরত টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রেরণ করা হয় কোর্টে। আহত সাদ্দাম এই প্রতিবেদককে জানান- “থানার গারদে এতটুকুও জায়গা ছিলনা। সারারাত টয়লেটের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। গলা ব্যথায় কিছুই খেতে পারছিনা”। সে আরো জানায়- “বাবা ৪০০০ টাকা না দিতে পারলে আমাকে ইয়াবা সহ চালান দেয়া হতো। যেমন হযরতকে চালান দেয়া হলো। তার কাছেও কিছুই পায়নি। অথচ ইয়াবা সহ তাকে কিভাবে চালান দেয়া হলো। তাহলে কি থানায় ইয়াবা বানানোর ফ্যাক্টরী আছে?” এক প্রশ্নের জবাবে সাদ্দাম জানায়-আমি শুধু চার জনকে চিনতে পেরেছি। (১) এস আই কাওছার (২) মিজান, পিতা অঞ্জাত,উত্তরখান, (৩) ফরহাদ, পিতা-আবুল,পেয়ারা বাগান, গাওয়াইর, (৪) সুমন, পিতা-অঞ্জাত,দঃখান। তারা নিজেরাই বিভিন্ন মাদক ও নারী ব্যবসায় জড়িত বলে সাদ্দাম দাবী করে। উত্তরখান-দক্ষিণখান থানা প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ জানালে প্রশ্ন করা হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন কুমার সাহাকে। তিনি এ বিষয়ে কিছুই অবগত নন বলে জানান আর কয়েকবার ফোন করেন এস আই কাওছারকে। বেশ কয়েকবার মোবাইলে রিং হওয়ার পর এস আই কাওছারের মোবাইল সুইচ অফ হয়ে যায়। তবে তিনি আস্বাস দেন যে-ঘটনাটি আংশিক সত্য হলেও তিনি এর উপযুক্ত বিচার করবেন। মুঠোফোনে এস আই কাওছারের কাছে ঘটনাটির সত্যতা জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন। উল্লেখ্য সাদ্দাম গাওয়াইর স্কুল রোডস্হ চৌধুরী বাড়ীর ভাড়াটিয়া। দীর্ঘদিন ধরে সে স্ত্রী, সন্তান ও বাবামা সহ ওই বাড়ীতেই ভাড়া আছেন। সাদ্দামের বাবা একজন দিনমজুর, মা মানুষের বাসায় কাজ করে আর সে নিজে একজন গাড়ীর হেলপার। সাদ্দামের বাড়ীর মালিক চৌধুরী সাহেব জানান-তিনি সাদ্দামকে ছোট থেকেই চিনেন। কখনো কোন মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল কি’না তা তার জানা নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন-নিরহ মানুষ ধরে টর্চার ও টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। জনগণের বন্ধু পুলিশ-কিন্তু পুলিশের ভয়ে জনগণই আজ আতঙ্কিত। তিনি পুলিশের এহেন কর্মকান্ডে ঘৃণা প্রকাশ করেন। আরেক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-একজন এস আই যদি এত ক্ষমতাবান হয়, ইনফর্মারদের কথায় যদি থানা চলে-তাহলে ওসি সাহেবের দরকার কি? আগেও এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে-এর একটা বিহীত করা দরকার। সাদ্দামের মা কান্নায় বুক চাপড়ে চাপড়ে বলেন-আমি একজন মা। দেশের প্রধানমন্ত্রীও একজন মা। আমার ইজ্জতহানির কষ্ট তিনি বুঝবেন। তিনি অবশ্যই বিচার করবেন এস আই কাওছার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের। তিনি আইন ও বিচার বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত সাদ্দাম ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে আছেন এস আই কাওছার আর তার গুন্ডা বাহিনীর ভয়ে। কারণ ইনফর্মার সুমন প্রকাশ্যে হুমকি প্রদর্শন করেন সাদ্দামের বাবা আঃ করিমকে, আর নাম না জানা একজন থানার অফিসার রাস্তায় হুমকি দেন সাদ্দামকে। জনমনে প্রশ্ন-সব পুলিশ খারাপ নয় তবে রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, আমরা কার কাছে গিয়ে দাঁড়াব, কার কাছে পাবো একটু আইনের আশ্রয়। বিষয়টি সরকারকে ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞ মহল।
