জঙ্গীবাদের আগ্রাসন থেকে যুব ও ছাত্র সমাজকে বাঁচাতে হবে !

0
2125

আশিকুর রহমান হান্নান ঃ
বাংলাদেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদ একটি আতংকময় সন্ত্রাসের নাম। জঙ্গিবাদ নামক সন্ত্রাসের কালো ছোবল থেকে বাংলাদেশের কোন শ্রেণী-পেশার মানুষ আজ নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যুব ও ছাত্র সমাজ জঙ্গীবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের সূত্রপাত হয়। বাংলা ভাই এবং তার সাগরেদরা সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা করে হত্যা করেছিল শান্ত বাংলার নিষ্পাপ সন্তানদের। উন্নত দেশের ছাত্র ও যুবকরা যেখানে তাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে বিপথগামী ছাত্র ও যুবসমাজ জঙ্গিবাদ নামক আত্মঘাতী ও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়ে জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দেশের কতিপয় দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তি রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের লক্ষ্যে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলাম এর নামে যুব ও ছাত্র সমাজকে বিপথগামী করে বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যা, সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষের চোখে ইসলামকে একটা বর্বর, নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্ম রুপে চিহ্নিত করেছে। এতে সরলমনা যুব ও ছাত্র সমাজের কেউ কেউ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। এই উগ্র জঙ্গিবাদীরা ইসলাম ও মানবতার শত্রু। ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ এবং জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অথচ ইসলাম ও মানবতার শত্রুরা জিহাদের নামে অপব্যাখ্যা করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ নির্বিশেষে নির্বিচারে হত্যা করছে যা ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে গণহত্যা অবৈধ এবং আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু জঙ্গি সন্ত্রাসীরা আত্মঘাতী আত্মহত্যাকে শহীদি মুত্যু বলে অপপ্রচার করছে।
তরুণ ছাত্র ও যুবসমাজ দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। দেশের আশাভরসার স্থল। দেশ ও জাতিকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমে জনসমষ্টিকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে ছাত্র ও যুবসমাজই ভরসা। বর্তমান সময়ের অন্যতম সমস্যা জঙ্গিবাদ। এই জঙ্গীবাদে যুব ও ছাত্র সমাজ যাতে জড়াতে না পারে, সেজন্য জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও সরকারের করণীয় বিষয় গুলো নিম্মে আলোকপাত করা হলোঃ
১/ ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা ও পালনের মাধ্যমে ধর্মান্ধতা ও ধর্মের অপব্যাখ্যা দূরীকরণ।
২/ নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় জঙ্গিবাদের কুফলগুলো তুলে ধরে এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও মানববন্ধন ইত্যাদির আয়োজন করা।
৩/ গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
৪/ আমাদের নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
৫/ শরীরচর্চাসহ দেশি ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় যুব ও ছাত্র সমাজকে নিয়োজিত করা।
৬/ নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসনকে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সহায়তা করা।
৭/ মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী মতামত এবং সঠিক ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে জ্ঞাত করা।
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলার দায়িত্ব পালন করছে। এ কথা ঠিক, মেধা আর যোগ্যতার জোরেই বিশ্ব মানচিত্রের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের নাম। এ দেশের সীমিত সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাবই। কিন্তু দেশের এই তরুণ ছাত্র ও যুব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা সক্রিয় হয়েছে ছাত্র ও শিক্ষিত যুব সমাজকে তাদের জেহাদি কাজে ব্যবহারের জন্য। মাদকাসক্তের মতো জঙ্গি আসক্তিতে বর্তমান ছাত্র ও যুব সমাজ মরণ খেলায় মেতে উঠেছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে সংগঠিত হচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ সংগঠন গুলো তাদের দলে ভিড়াচ্ছে যুব ও ছাত্র সমাজকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা বয়স থাকে যখন তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার করতে ভালোবাসে। অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকে অনেকে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে ভালোবাসে। অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকে তারা একপর্যায়ে অন্ধকার গলিপথে হারিয়ে যায়। এছাড়া উচ্চবিত্ত অনেক পরিবারের সন্তানরা আন্দোলন, সংগ্রাম বা প্রথাগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তেমন একটা ধারণা রাখে না। তাদের সামনে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না। এদের কেউ কেউ বিপথগামীদের পাল্লায় পড়ে ধর্মীয় কারণে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য এ পথে পা বাড়ায়। শুধু তাই নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায়ও গলদ আছে। যেমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তারা দেশের মূল ধারার মানুষের সঙ্গেও মেশার সুযোগ পাচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতা ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই তৈরি হয় না। এ সংকট থেকে উত্তোরণের উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত রাখতে হবে। ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যুবসমাজকে ইন্সপায়ার করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের সামনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে সেই লক্ষ্য অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আনন্দময় পরিবেশ নেই। চিত্তবিনোদনের সুযোগও নেই। ফলে হতাশাগ্রস্থ তরুণরা জঙ্গিবাদী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও বেশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতিটি পরিবারে এক ধরনের উদার মনস্ক ও সুস্থ বিনোদন নির্ভর সংস্কৃতি থাকতে হবে। সন্তানরা কোথায় কার সঙ্গে মিশছে তার একটা ধারণাও পিতা-মাতার থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি ধর্মশিক্ষা দেয়ার সময় তাকে এটা সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে যে, ইসলাম জঙ্গিবাদী কোনো ধর্ম নয়। ইসলাম উগ্র জঙ্গিবাদকে মোটেও সমর্থন দেয় না। পারিবারিক মেলবন্ধন তৈরি করতে পারলে সন্তানদের বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে। এজন্য প্রতিটি পিতা-মাতাকে সন্তানদের বেড়ে ওঠা ও তার সঙ্গী সাথীদের ওপর সচেতনভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবারে জবাবদিহিতার একটা সংস্কৃতিও বজায় রাখতে হবে। লাগামহীন যথেচ্ছাচার চলাফেরা করলে পরিবারে শাস্তি পেতে হবে এমন একটা মানসিকতা সন্তানদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। তাহলেই জঙ্গিবাদের এই বিষবাষ্প থেকে রক্ষা পাবে ছাত্র ও যুব সমাজ, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র। সর্বোপরি মানুষের মহামূল্যবান জীবন এভাবে অকালে ঝরে যাবে না। সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে জীবন বিপন্ন করে দেয়ার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই। কিন্তু তারপরও অনেক তরুণ ছাত্র ও যুবক সে বিপদসংকুল পথে পা বাড়াচ্ছে। সম্ভাবনাময় একেকজন মেধাবী তরুণ ও যুবক মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে অবলীলায়। তারা বলছেন, শুধু ক্রসফায়ার বা আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সমাজের অভ্যন্তরে যেসব গলদ বিস্তৃতি লাভ করেছে তার মূলে যেতে হবে। এখনই তৃণমূল থেকে সমাজের আমূল সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবেই মিলবে কাঙ্খিত সমাধান। নয়তো ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে আরও ভয়ংকর। তরুন ছাত্র ও যুব সমাজ হয়ে যাবে ধ্বংস। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৭ শতাংশ শিক্ষিত বেকার রয়েছে এবং দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ায় চাহিদা মোতাবেক সুষ্ঠু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বেকার সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থ-সামাজিক টানাপড়েন সৃষ্টি হচ্ছে। জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর টার্গেটেও পরিণত হয়েছে এসব বেকার কিন্তু শিক্ষিত যুব সমাজ। যুব সমাজকে জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত থেকে রক্ষার জন্য জাতীয় পর্যায় থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের জনগণ সব সময়ই শান্তির পক্ষে। ইতোমধ্যে এ দেশের সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সন্ত্রাস সম্পর্কে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী হিসেবে অভিনন্দিত হয়েছে বর্তমান সরকার। জীবনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিধানের অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক কাউকে নৃশংস অত্যাচার ও খুন করা স্পষ্টত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চূড়ান্ত পর্যায়। তাদের নির্মূল করা এবং যুব সমাজকে বাঁচাতে যা করণীয় তার সবই করতে হবে সরকারকে। এখন তরুন ছাত্র ও যুব সমাজকে জঙ্গিবাদের মুঠো থেকে বের করে আনা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেই জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মকান্ডকে গতিশীল করার জন্য তরুন ছাত্র ও যুব সমাজকেই কাজে লাগাতে হবে।
তরুন ছাত্র ও যুবসমাজের উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি অবদান রাখতে পারে। আজ যুবসমাজকে একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তা না হলে এক যুবক বোমা মারবে, অন্য যুবক বোমায় মৃত্যুবরণ করবে। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের বিভিন্ন গবেষণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ অনেক কাজে তরুণ ছাত্র ও যুবকদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় উন্নয়ন অর্জন করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন কিছু হচ্ছে না। প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলোতে যেন তরুণরা প্রভাবিত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। প্রযুক্তিকে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করে তরুণরা কীভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে সেটি ভাবতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা করতে পারে। দেশে এখন পাঁচ কোটির বেশি তরুণ রয়েছে। ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণ ধরলে শিশু-কিশোর তরুণের মোট সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তরুণদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মিত হতে পারে। আদর্শ, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এসব শেখানোর বয়স ১৮ নয়। প্রাথমিক স্কুল থেকেই এসব শেখাতে হবে। আমাদেরও কর্মমুখী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তরুণদের সমস্যাকে বড় করে না দেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সেটাতে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব যুবক নিজেদের বিকশিত করাসহ সমন্বিত ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান অবদান রাখতে পারে। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে তরুণদের কাছ থেকে বেশি সক্রিয় অবদান চাইলে যুববান্ধব সমাজ গঠনের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় জঙ্গিবাদ এখন অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল এখন সময়ের দাবি। সেই সাথে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুব ও ছাত্র সমাজকে যেকোন মুল্যে জঙ্গীবাদ থেকে রক্ষা করতেই হবে। জঙ্গীবাদের আগ্রাসন থেকে যুব ও ছাত্র সমাজকে বাঁচাতে হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here