গাছ কেটে সেই জায়গায় পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

0
1061

সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মৌজার শিমরাইল ও কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পারে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বনায়ন করেছে সরকার। এই বনায়নের গাছ কেটে সেই জায়গা পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

Advertisement

 

নদীর সীমানা পিলারের ভেতরেই অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে পাথর ও বালুর ব্যবসা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাঁটার রাস্তা (ওয়াকওয়ে)। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) নিজস্ব জায়গা শীতলক্ষ্যা নদীতীরের ওয়াকওয়ের পাশে বনায়ন করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বিআইডাব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিন মাস ধরে রাতের বেলা তাঁর লোক দিয়ে ওই বনায়নের অনেক গাছ কেটে ফেলেন। পরে ওই সব জায়গা ভাড়া দিয়েছেন। সেসব জায়গায় চলছে পাথর ও বালুর ব্যবসা। ট্রলার থেকে ওই সব জায়গায় বালু-পাথর নামানো-ওঠানোর সময় বালু-পাথর পড়ে গিয়ে শীতলক্ষ্যার তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে শীতলক্ষ্যার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযান করেও লাভ হচ্ছে না। আগের মতোই নষ্ট হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদীর পরিবেশ। এভাবে চললে একসময় ওয়াকওয়েটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনো রাতে সেখানে বনায়নের গাছ কাটা হয়। অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গাড়ি চুরির অভিযোগে তাঁকে আটক করেছিল। ২০০৯ সালের জুন মাসে হাইকোর্ট শীতলক্ষ্যাসহ রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী চারটি নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডাব্লিউটিএকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক বছরে শীতলক্ষ্যার তীর রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ অংশে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে সাত কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বনায়ন করা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীর শিমরাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীতে অবাধে সিলেকশন বালু (সিলেটি বালু) ও পাথর নদীর সীমানা পিলারের ভেতরের বনায়নের জায়গায় রাখা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাটে সারি সারি বালু ও পাথরভর্তি নৌযান দাঁড়িয়ে আছে। বনায়নের জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে টয়লেট ও দোকানপাট। রাখা হয়েছে অসংখ্য ট্রাক। সেখানে খালি ঘরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গদিঘরও রয়েছে। মেসার্স আতরবানু ট্রেডার্স (মালিক মনির হোসেন), মেসার্স শীতলক্ষ্যা এন্টারপ্রাইজ (মালিক আনোয়ার হোসেন চাঁন মিয়া), মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজ (মালিক মুক্তার হোসেন), খাজা বাবা ফরিদপুরী (মালিক জাহাঙ্গীর), ফিরোজ এন্টারপ্রাইজ (মালিক ফিরোজ), মেসার্স সতেজ এন্টারপ্রাইজ (মালিক মো. আবুল কাশেম), সেভেন বিল্ডার্স (মালিকের নাম জানা যায়নি) ও সালাহউদ্দিন ওরফে লাদেন সালাহউদ্দিন গদিঘরের বালু ও পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিকরা জানায়, প্রতিদিন ভোর থেকে ট্রলারে বালু ও পাথর ওঠানো-নামানো শুরু হয়। চলে দিনভর। মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ গদির জায়গাটি নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আমাদের মালিক মুক্তার হোসেন ভাড়া নিয়েছেন।’ মেসার্স মুক্তার এন্টারপ্রাইজের মালিক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে এ জায়গাটি যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা করছি। এ ছাড়া কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছি।’ স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নজরুল ইসলাম চার লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে ও ৪০ হাজার টাকা করে ভাড়া দিয়ে ওই জায়গায় ব্যবসা করতে দিয়েছেন। অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শীতলক্ষ্যা নদীর পেপার মিলস এরিয়া থেকে তাজ জুট মিল পর্যন্ত ঘাট ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছি। আমি কোনো গাছ কেটে ব্যবসা করছি না।’ বিআইডাব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, শিমরাইল এলাকায় নজরুল ইসলাম নামে একজন বিআইডাব্লিউটিএর জায়গা ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন। আমাদের লোকজন শিমরাইলে গিয়ে ওই স্থানের ছবি উঠিয়ে নিয়ে এসেছেন। আমরা নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here