স্টাফ রিপোর্টারঃ-
সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকার খুলনা বিভাগীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদক সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীনের নামে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর প্রধান রাজু কর্তৃক একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।গত ৫ই জুন রূপসা উপজেলায় নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী এসএম হাবীব ও পরাজিত প্রার্থী কাপ পিরিচ প্রতীক সরদার ফেরদাউস আহমেদ এর অনুসারীদের মধ্যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে অত্র অঞ্চলের মামলাবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর প্রধান রাজু কর্তৃক পূর্ব শত্রুতার জেরে রিয়াজউদ্দীন নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকের এর নামে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ই জুন উপজেলা নির্বাচন শেষে রূপসার জাবুসা এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীর অনুসারীরা পূর্বের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সচল রাখতে যেভাবে বাইক নিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাস সৃষ্টি করে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এসেছে ঠিক সেভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু বাহিনীর নেতৃত্বে এবারও উপরি মহলের নির্দেশে কয়েকটি মোটরবাইকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে যায়।
স্কুল মাঠ সংলগ্নে পৌঁছে তারা পরাজিত প্রার্থীদের গালমন্দ করে মারধর করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিজয়ী প্রার্থীর অনুসারীরা পরাজিত প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করতে গেলে দু’প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষই বেশ গুরুতর আহত হয় এবং বর্তমানে দু’পক্ষের আহতরা খুমেকে ভর্তি আছে। আর তার-ই জের ধরে বিজয়ী প্রার্থী এসএম হাবিব এর অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী রকিবুল ইসলাম রাজু রূপসা থানায় একটি মামলা করে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ইতিপূর্বে স্থানীয় সাংবাদিক রিয়াজউদ্দীন এর বাড়ীতে গত ০৮/০১/২৪ ইং তারিখ থেকে প্রায় ছয় (০৬) মাস যাবৎ জাবুসা এলাকা ছেড়ে খুলনা শহরে বসবাস করেন। যা বিগত দিনের স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত। রূপসা থানায় জিডি, অভিযোগ এবং জাবুসার কতিপয় সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক আদালতে মিথ্যা মামলা দ্বারা প্রতীয়মান হয়েছে।
সর্বপ্রথম তিনি এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর কতিপয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত হয়ে পরিবার সহ ঐ এলাকা ছেড়ে চলে এসেছে। যা বিভিন্ন মাধ্যমে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। তারপরেও একজন নির্ভীক সংবাদ কর্মীকেও রাজু বাহিনী ছাড় দেননি। একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হামলা করে হয়রানি করার তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক রিয়াজউদ্দীন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে নিউজ করেছি। যার ফলে ২ বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ০৬ মাস পূর্বে আমাকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। বর্তমানে অসহায় অবস্থায় আমি পথে পথে ঘুরছি। এই চক্রের কাছে এলাকাবাসীর কেউ নিরাপদ নয়। তাছাড়া গতকাল রাজু বাহিনীর করা মামলায় খুলনা বিজ্ঞ আদালত সকলকে জামিন মঞ্জুর করলে তারা বলেন, ঘটনাস্থলে সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীন ছিলেন না। রাজু বাহিনী কর্তৃক তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে শুধু শুধু হয়রানি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এর মদদে তার পিএস পরিচয় দানকারী শামছুল আলম বাবু’র সহযোগিতায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু ও রনির নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী চক্র অত্র অঞ্চলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি, ছিনতাই,চোর সিন্ডিকেট, মাদক কেনাবেচা তাদের প্রধান কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তাদের রয়েছে সখ্যতা। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলে মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়।
গ্রামবাসী এটাও বলেন, এমপি সাহেবের লোকজন সকলেই যে খারাপ তা নয়। তবে এমপির পত্নী এই বাবুকে অবৈধ কর্মকান্ডের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। জানিনা এতে তাদের স্বার্থ কি? ধানের ভেতর যেমন আগাছা থাকে সেটা পরিষ্কার না করলে যেমন ধান ভালো হয়না তেমনি এই ২/১ জন লোকের কারণে এমপি সাহেবের মান সম্মান ব্যাপকভাবে ঘাটতি হচ্ছে। যা ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য বড় একটা অশনি সংকেত।
আর প্রশাসন কিভাবে যাচাই-বাছাই না করে একজন সংবাদ কর্মীকে মিথ্যা মামলার জালে ফাসালো। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব খুলনা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে খুলনা মহানগর শাখার সদস্য সাংবাদিক রিয়াজউদ্দীনকে অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যহতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

