এরশাদ সিকদার কেও হার মানায়
মুহাম্মদ জুবাইর: নিরহ মানুষের বুক ফাটা কান্নায় ভারি হচ্ছে বায়েজিদের সোর্স আকাশ, প্রশাসনিক সব দপ্তরে নানা অভিযোগ ও পত্র-পত্রিকায় সংবাদের পরেও আরো বেশি উদ্ধত সোর্স আকাশ ও আটো সামছু, নিরব কেন প্রশাসন এমন প্রশ্ন জনমনে?
এক সময়ের দশ টাকার কুলি থেকে বর্তমানে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক মো. শাহাজান এলাকার জনসাধারণের কাছে সোর্স আকাশ নামে বেশ পরিচিত।
সোর্স আকাশের আরেক সেকেন্ড ইন কমান্ড ভুট্টু গাছের গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত করছে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি।
সোর্স আকাশের ইয়াবা সেক্টর দেখাশোনা করেন ইয়াবা হাসেম ও সাইফুল।
পুরো বায়েজিদ জোন অপরাধের স্বর্গরাজ্য করে রেখেছেন এই সোর্স আকাশ।
সোর্স আকাশ কি বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ জনমতের প্রশ্ন?
অটো সামসু বায়েজিদ বোস্তামী থানা কে দেয় ৫ লাখ টাকা।
রাতে বিক্রি করে ডিম দিনে সাংবাদিক সোর্স আকাশের দুই বডিগার্ড।
আবারো নিরীহদের মিথ্যে মামলায় জড়াতে মরিয়া সোর্স আকাশ।
নোয়াখালীর হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. শাহাজান প্রকাশ সোর্স আকাশ অবহেলা লাঞ্চনা আর বঞ্চনার মধ্যেই এক সময় নোয়াখালীতে দিন যাপন করতেন । একসময় পেটের তাগিদে চট্টগ্রামের অলিগলিতে কখনো রিক্সা চালিয়েছেন আবার কখনো করেছেন দশ টাকার কুলির কাজ। সময়ের সাথে সাথে সোর্স আকাশ হয়ে উঠেছেন নগরীর বায়েজিদ এলাকার এক মুর্তিমান আতঙ্ক। যিনি হাসতে হাসতে মানুষকে মামলা দেন। হয়ে উঠেন বয়েজিদ বোস্তামী থানার হর্তাকর্তা। অসংখ্য লোকের বিরুদ্ধে দিয়েছেন শতাধিক মিথ্যা মামলা। এইভাবে প্রতিনিয়ত কখনও মিথ্যা মামলা দিয়ে আবার কখনও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে পকেট করছেন ভারী। প্রশাসনিক একাধিক দপ্তরে নানা জনের অভিযোগের পরেও এক প্রকার বহাল তবিয়তে মানুষ হয়রানী, দখল বাণিজ্য,মাদক ব্যবসা ভূমি দখল চাদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে চলেছেন সোর্স আকাশ। অপরদিকে একই এলাকার আটো সামছুও কম যায় না, তিনি সোর্স আকাশের যোগসাজসে বায়েজিদ, খুলশি, পাঁচলাইশ ও অক্সিজেন এলাকার অটো রিকশা সম্রাজ্যের ডন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানাকে মাসে পাঁচ লাখ টাকা মাশোয়ারা দিয়ে বায়েজিদ,পাঁচলাইশ খুলশি ও অক্সিজেন এলাকায় করেন অটো রিকশার নিয়ন্ত্রণ।
সূত্র বলছে, অভাবের তাড়নায় বেশিদূর পড়ালেখা করতে না পারা সোর্স আকাশ পেটের তাড়নায় চট্টগ্রাম শহরে রিক্সা চালিয়েছেন একটা সময়। আবার সোর্স আকাশ
ছিলেন ১০ টাকার কুলিও। এক সময় সোর্স আকাশ পঞ্চাশ একশ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করেছিলেন
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার একটি চায়ের দোকানে। চায়ের দোকানে কাজ করার ফাঁকে সখ্যতা হয় বায়েজিদ বোস্তামী থানার কয়েক জন অফিসারের সাথে। এরপর থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আকাশকে। রিকশা চালক বা চায়ের দোকানের কর্মচারি মো. শাহাজান থেকে হয়ে উঠেন সোর্স কাম ক্যাশিয়ার আকাশ হিসেবে।
এক সময়ের গ্রামীণ সহজ সরল আকাশ বায়েজিদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন লাগামহীন ভাবে। ইতিমধ্যে নিজে করেছেন নামে বেনামে ৩ কোটির টাকারও বেশি সম্পত্তি। সোর্স আকাশে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আছে বিশাল দুটি ইলেকট্রনিক শোরুম।আছে বাড়ি গাড়ি অবৈধ টাকার পাহাড়! কিভাবেই এই আকাশের উত্থান এক যুগের কম সময়ে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বায়েজিদ থানায় প্রিটন সরকার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। একটা সময় বায়েজিদ থানায় সোর্স আকাশের কথা ছিল শেষ কথা। সোর্স আকাশের সাথে কথায় না মিললে হাসতে হাসতে দিতেন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। একিভাবে বায়েজিদ এলাকার নিরহ শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে দিয়েছেন অসংখ্য মামলা।
সূত্র আরো বলছে, ২০২১ সালে সোর্স আকাশ নিরহ লিটন নামে এক তরুনকে থানায় ডেকে এনে হত্যা মামলার আসামী করে ফাঁসিয়ে দেন। একিপাথে ২০২১ সালের পূর্বের অস্ত্র, মারামারি সহ আরও তিন মামলার আসামী করেন এই লিটনকে। লিটন ও তার পরিবারের দাবী সোর্স আকাশের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতে একের পর এক মিথ্যা মামলার আসামী লিটন।
লিটনই শেষ নয় সোর্স আকাশ লিটনের মত জাবেদ নামে এক ব্যবসায়ী তরুনের বিরুদ্ধে করেছেন ছয় ছয়টি মিথ্যা মামলা। জাবেদ চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় হাসতে হাসতে তার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো ঠুকে দেন আকাশ। মামলার ভার সইতে না পেরে জাবেদ ও লিটন দিশেহারা পরিবারসহ ঘুরছেন পথে পথে।
শুধু লিটন কিংবা জাবেদ নয়, অনুসন্ধানে এমন অন্তত শতাধিক নিরীহ মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যাদের বিনা অপরাধেই বায়েজিদ থানার কিছু অসাধু পুলিশের যোগসাজসে বিভিন্ন মামলার মিথ্যা আসামী বানিয়েছেন সোর্স আকাশ ।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে সোর্স আকাশের বিরুদ্ধে উঠে আসে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় বেশ ফলো করে ছাপানো হয়। জানা যায়, বায়েজিদ এলাকার এক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী রাজিব থেকে সোর্স আকাশ বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইন্টারনেট সেবা নিতেন। চলতি বছরের চার মে ইন্টারনেট সেবা বাবদ পাওনা ষোল হাজার আটশত টাকা সোর্স আকাশের কাছে চাইতে গেলে সোর্স আকাশ টাকা না দিয়ে রাজিবের উপর হামলা চালায় । হামলার পর রাজিব আকাশের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অভিযোগ করলে আকাশ আরো বেশি উদ্ধত আচরণ করেন রাজিবের সাথে।
এমনকি রাজিবকে ইয়বা, মাদক, অস্ত্র ও নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। নীরহ ব্যবসায়ী রাজিব জীবন বাঁচাতে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিটেড আদালতে আকাশের বিরুদ্ধে সি আর মামলাসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, নিরহ লিটনের পুরো জীবটা এলোমেলো করে দিয়েছে সোর্স আকাশ। এমনকি সোর্স আকাশ লিটনকে থানায় ডেকে নিয়ে করেছেন হত্যা মামলার আসামী। এছাড়া জড়িয়ে দিয়েছেন পূর্বের দুই দুটি মামলায়। লিটন অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে প্রতিবেদককে জানান, ২০২১ সালের ৭ মার্চ আকাশ আমাকে থানার সামনে ডেকে নিয়ে হাসতে হাসতে হত্যা মামলার আসামী বানিয়ে দেন। এছাড়া অস্ত্র ও অপহরের পূর্বের দুই মামলায় আসামী করে আমার জীবনকে নরকের আগুনে নিক্ষেপ করেছে। তার মিথ্যা মামলার কারণে আজ আমি ও আমার পরিবার পথে বসেছি।
এদিকে লিটনের বোন প্রতিবেদককে আক্ষেপের সাথে জানান, আমাদের জায়গা নিজের দখলে নিয়ে আমাদের সর্বশান্ত করার দীর্ঘদিনের পরিকল্পক সোর্স আকাশের। আমাদের জায়গা নিজের নামে করে নিতে আমার ভাই লিটনকে তিন তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছে সোর্স আকাশ। তিন আরো বলেন আমাদের জীবনের সব ইনকাম, সহায় সম্ভল লিটনকে বাঁচাতে শেষ হয়েছে। সোর্স আকাশের হয়রানীর কারণে আজ আমরা সর্বসান্ত।
একিভাবে সোর্স আকাশ জাবেদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে দিয়েছের চুরি অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সোর্স আকাশের নানা অপকর্মের মাঝে সব চেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে তার নারী লিপসা। সম্প্রতি এমনি এক নারী সংক্রান্ত ঘটনায় ৫ লাখ টাকায় দফারফা করেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও বায়েজিদ থানায় সোর্স আকাশের আচরন দেখলে যে কারো মনে হবে সে জেন থানার মূল কর্তা।
এদিকে এলাকার আরেক ডন অটো সামছু। যিনি ইতিমধ্যে নিজেকে বায়েজিদ, খুলশী,পাঁচলাইশ ও অক্সিজেন এলাকার অটো রিকশা হত্তাকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠ করেছেন। টোকেন বানিজ্যের মূল হোতা অটো শামসু করেন চাদঁাবাজি ও টোকেন বাণিজ্য। অটো সামশুর দেওয়া তথ্য মতে তিনি প্রতিমাসে বায়েজিদ থানায় পাঁচ লক্ষটাকা মরোয়ারা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে টোকেন বাণিজ্য। তাকে সহযোগীতা করেন তার ছেলে ও শ্যালক তার অন্যতম সহযোগী মাথা ফাটা এনাম । সূত্র আরো বলছে অটো শামসুর চাঁদাবাজি ও নিরীহদের জিম্মি করে টাকা আদায় গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। আটো সামসুর ছেলেও কম জাননা। ইত্যমধ্যে অটো সামসুর ছেলের বিরুদ্ধে নগরীর আকবরশাহ থানায় হয়েছে ধর্ষণ মামলা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মো. শাহাজান প্রকাশ সোর্স আকাশ নোয়াখালী সুধারামপুরের এক হতদরিদ্র কৃষকের ছেলে। চট্টগ্রামের বায়েজিদে এসেই যেন হাতে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। থানা এলাকার জুয়ার আসর,ফিটিং মামলা ভূমি দখল কিশোর গ্যাং পাইকারি ও খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা থেকে শুরু করে ভাঙ্গারি দোকান, অবৈধ তেলের দোকান এমনকি রাস্তার ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকেও নিয়মিত চাঁদা তোলেন আকাশ। ব্যবসার বৈধতা অনুপাতে চাঁদা আদায়েরও ভিন্নতা আছে তার। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকাও চাঁদা দিতে হয় তাকে। আর এসব চাঁদার টাকা তোলা হয় থানা বায়েজিদ বোস্তামী পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে। অনুসন্ধান বলছে, মাসে অন্তত প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা কালেকশন করে সে।
আবার সম্প্রতি ফিল্মি স্ট্যাইলে জিয়া নামে এক যুবক অস্ত্র হাতে মোহড়া দেওয়ার দৃশ্য। কথিত আছে সোর্স আকাশের আরেক সেকেন্ড ইন কমান্ড তিনি। একটা সময় আকাশ চাঁদা তুললেও এখন চাঁদা তুলেন জিয়াও ভুট্টু । এ ছাড়াও মাদক ব্যবসা, দখলবাজিসহ নানা অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও।
সোর্স আকাশ, সামশু মাথা ফাটায় নাম ইয়াবা হাসেম ও জিয়ার ত্যাচার থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসীরা। এইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর বেশকিছু ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন সোর্স আকাশ ও সামশু নানা অপকর্ম তুলে ধরে।প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটায় দাবী, দ্রুত তদন্ত করে আকাশ ও সামশুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোর্স আকাশের নানা অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদক মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চালছে তিনি পরিচয় গোপন করে ছোট ভাইয়ের পরিচয়ে কথা বলেন ভাই ব্যস্ত আছেন পরে যোগাযোগ করেন। এরপর বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করতে চাইলে তিন ফোন উঠাননি।
এই বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার্স ইনচার্জ সঞ্জয় কুমার সিনহার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি থানায় নতুন যোগদান করেছেন বলে এই বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সোর্স আকাশ ও সামশুর নানা অপকর্ম নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা এই ধরনের অপকর্মকে কখনো প্রশ্রয় দিয়না। অভিযোগ থাকলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিব।

