কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিয়ের অফিসে আনসার ও দালাল চক্রের ঘুষ বানিজ্য চরমে

0
719

স্টাফ রিপোর্টার:
ঘুষ দিলেই ফাইলে স্বাক্ষর, না দিলেই হয়রানী করতে করতে বছর পার। ঘুষ দিলেই পাওয়া যায় নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিষ্ট্রিশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুটপারমিট সহ যে কোন নবায়ন কপি। সরকার নির্ধারিত ফি এর চাইতে আরো অতিরিক্ত তিন/চার গুন টাকা বেশী দিলেই মিলবে সেবা। তানাহলে ঘুরতে হবে বছরের পর বছর। সাধারনত তিনটি স্তরে এই অবৈধ ঘুষ বানিজ্য লেনদেন হয়ে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া বিআরটিয়ের অফিসে। অফিসে মুল গেইটের বাইরে রয়েছে দালাল চক্র, ভেতরে আনসার বাহিনী এবং অফিসের ছোট কর্মকর্তা থেকে বড় অফিসার পর্যন্ত সবাই। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ হাজার গুনতে হয় গ্রাহকদের। সাথে রয়েছে বোনাস হয়রানী। তবে টাকা বেশী দিলে বোনাস হয়রানী কিছুটা কম করা হয় বলে জানায় গ্রাহকরা। এছাড়াও সেবা গ্রহীতাদের সাথে করা হয় নানা রকমের প্রতারণা।

Advertisement

জানা গেছে, ইকুরিয়া বিআরটিয়ের অফিসের গেইটের বাইরে রয়েছে অন্তত আড়াই শতাধিক দালাল, আর অফিসের ভেতরে কর্মকর্তাদের সহকারী ২২ জন আনসার সদস্য এবং অফিস পরিচালনায় ৩০ জনের মতো বিভিন্ন গ্রেডের ছোট বড় কর্মকর্তা। আর এই চক্রটি ভাগাভগি করে সেবা গ্রহীতাদের নিকট থেকে অবিরাম গতিতে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। দালাল মুক্ত করার অজুহাতে অফিসের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও বর্তমানে দালাল চক্রটি অবস্থান নিয়েছে মুল গেইটের বাইরে। পাওয়ার ফুল দালাল ছাড়া বাকীরা এখন আর সরাসরি অফিস কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করে না। তারা এখন দুরদুরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদেরকে গেইটের বাইরে থেকেই কব্জা করে নিয়ে যায় আনসার সদস্যদের নিকট। আর আনসার সদস্যরা কাগজপত্র প্রসেসিং করে নির্ধারিত টাকায় বিভিন্ন টেবিলে টেবিলের সই স্বাক্ষর করিয়ে এনে তাদের কাজ ডেলিভারী দেয়। একেক জন আনসার সদস্যের আন্ডারে রয়েছে কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ জন করে দালাল। আর আনসার সদস্যদের লিডার হলো আনসার কমন্ডার আশরাফুল। মুলত কমান্ডার আশরাফুলের নিয়ন্ত্রনে চলছে সাধারণ আনসার সদস্য ও দালাল চক্রটি। এতে ভ্রাম্যমান ম্যাজিষ্ট্রেটের হয়রানীর শিকার হতে হয় না ভেতরের অফিসারদের। তারা এক রকম ঝামেলা মুক্ত হয়ে নির্ভয়েই ঘুষের টাকা হাতে পেয়ে যায়। আনসারদের থাকার ঘরের ট্রাংক সুটকেস বা তোষকের নিচে খোজ করলে প্রতি সদস্যের কাছে অন্তত ৫০ জন করে গ্রাহকের কাগজপত্র সহ বিভিন্ন নথি পাওয়া যাবে। যা তাদের কাছে থাকারই কথা নয়। দুরদুরান্ত থেকে কোন ব্যক্তি গেইটের সামনে আসা মাত্রই দালাল চক্রটি চার দিক থেকে ঘিরে ধরে-‘কি লাগবে ভাই’? এরপর গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পরিমান টাকা চুক্তি করা হয় অল্প সময়ে কাজ করে দেয়ার জন্য। যদি কোন লোক দালালদের সাথে চুক্তি না করে সরাসরি নিজেরাই নিজেদর কাজ করার জন্য অফিসের ভেতরে ঢুকে তাহলে তাদেরকে বিভিন্ন টেবিলে টেবিলে ঘুরে ঘুরে মাসের পর মাস কাটিয়ে আবার সেই দালালদেরই দ্বারস্থ হতে হয়। তখন আরো বেশী টাকায় চুক্তি করে কাজ বুঝে নিতে হয়। অফিসের বড় কর্তরা লাল টেলিফোনের কারনে দুইয়েক জনের কাজ করে দেয় ঠিকই, তবে বেশী ভাগ লোককে হয়রানীর শিকার বানিয়ে পাঠিয়ে দেয় দালালদের কাছে। কারন তারা সরাসরি গ্রাহকের নিকট থেকে ঘুষ চাইতে পারে না অথবা গ্রহনও করে না। একারনে তারা বিশ্বস্ত আনসার সদস্যের মাধ্যমেই ঘুষ নিয়ে থাকে। এই সিষ্টেমে সাপ মরে, তবে লাঠি ভাঙ্গে না। পরবর্তী প্রতিবেদেনে আসছে দালাল চক্রের মুল হোতা আনসার কমান্ডার আশরাফুলের ঘুষ বানিজ্যের বিস্তারিত চিত্র। সেই পর্যন্ত সাথেই থাকুন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here