মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে জুয়ার আসর থেকে এক জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করেছে থানাপুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বালুর গ্রামে। গ্রেপ্তার কৃত ব্যাক্তির বাড়ি উপজেলার দাঁতভাঙ্গা গ্রামের মৃত জহুর আলীর পুত্র নজরুল ইসলাম (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রতিদিন জুয়া খেলা হয়ে থাকে এই অঞ্চলে। কিন্তু কেউ সাহস করে জুয়ারীদের প্রতিবাদ করতে পারে না। তবে এ বিষয় স্থানীয় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এবং বড় অংকের টাকার মাধ্যমে জুয়াখেলার অনুমতি দেয়। এখানকার স্থানীয় জুয়ারিরা বিভিন্ন কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন যায়গায় জুয়া খেলার আসর বসিয়ে থাকে।
জুয়া খেলা হচ্ছে এমন তথ্য প্রদান করে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানান এলাকাবাসি। পরে তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকের দল ঘটনা স্থলে পৌঁছালে দেখতে পারে জুয়া খেলার সেই চিত্র।
ঘটনা স্থল (জুয়ার আসর) থেকে রৌমারী থানাপুলিশকে অবগত করলে ব্যবস্থা নিবে জানান। কিন্ত দুই ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা না নিয়ে জুয়ারিদের ডেকে বড় অংকের টাকায় রফাদফা করে ঘটনা স্থল থেকে চলে যায়। কিন্তু অবশেষে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জুয়া খেলা ও স্থানীয় থানাপুলিশ টাকা নিয়ে জুয়া খেলার অনুমতি দিয়েছে এমন প্রশ্ন করলে তাৎক্ষনিকভাবে জুয়ারিদের গ্রেপ্তার করার আদেশ দেন পুলিশ সুপার। পরে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে জুয়ারিদের গ্রেপ্তার করে দায়িত্বরত পুলিশের টহলদল এ এস আই মানশ চক্রবর্তী ও এ এস আই মোশারফ হোসেন।
গ্রেপ্তারের বিষয় জানতে চাইলে দায়িত্বরত টহলদলের এ এস আই মানস চক্রবর্তী বলেন, জুয়ার আসর থেকে একজন জুয়ারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত ব্যাক্তির কাছে জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও কিছু টাকাসহ আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ছামছুল হক’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে নিয়মিত ভাবে জুয়া খেলা হয়ে থাকে আমি এর আগে মাসিক মেটিংকে উপস্থাপন করেছি। কিন্তু কি কারণে জুয়া খেলা বন্ধ করে না তা এই বিষয় নিয়ে মাসিক মেটিংকে আবার উপস্থাপন করবো। তবে আমাদের ইউপির সকল গ্রাম্য পুলিশকে বলা রয়েছে যে কোন স্থানে জুয়াখেলা হলে জুয়ারিদের আটক করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
জুয়া খেলার বিষয় জানতে চাইলে রৌমারী থানা’র ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি) রুহানি জানান, জুয়া খেলা’র বিষয় যেখান থেকে তথ্য দিচ্ছে সেখান থেকে জুয়ারিদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হচ্ছে। এমন প্রশ্নে জবাবে বলে জুয়া খেলা বিভিন্ন যায়গায় হচ্ছে বললে থানা ইনচার্জ বলেন কেন আপনারা জুয়া খেলা ধরতে পারেন না। শুধু আপনারা আমাদের কে কাজের সময় বিরুক্ত করছেন। জুয়ারি নজরুল ইসলামের বিষয় নিয়ে মামলা না ভ্রাম্যমান করা হবে তা জানতে চাইলে তিনি বলে আপনারা কি রির্পোট করেন করেন। এ বিষয় রৌমারী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সিরাজুল ইসলাম জানান, জুয়ারিদের গ্রেপ্তার করেছে কিনা তা আমার জানা নেই। জানালে আইনগত ভাবে ব্যবস্তা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম জানান, স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে জুয়া খেলা বিষয় জানালে তাৎক্ষনিক ভাবে রৌমারী থানায় জুয়া খেলার ব্যবস্তা নিতে বলা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে জুয়া ও মাদক কারবারীর সঙ্গে যুক্ত যারা তাদের তালিকা করা হচ্ছে।
