কিশোরগঞ্জের মোবারক আলী সামান্য দর্জি থেকে কোটিপতি নেপথ্যে খুন, ডবল মার্ডার, প্রশাসন নিরব

0
1138

মোজাহারুল ইসলাম, বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী, রংপুর ॥
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার বড়ভিটা ইউনিয়নে উত্তর বড়ভিটা ছিটগাড়াগাঁও (মধ্যপাড়া) দোলার মাঝখানে একটি দ্বীব যে পাড়া বা মহল্লার নাম ছিটগাড়াগাঁও। ওই গ্রামে ১৫/২০টা পরিবারের বাস। তার মধ্যে দর্জি মোবারক আলীর একটি পরিবার। ওই পাড়াটি অনেকের কাছে জামাতিপাড়া বা বিএনপি পাড়া হিসেবে পরিচিত। জিরো থেকে হিরো হয়ে যাওয়া মোবারক দর্জির পিতা মৃত্যু হোসেন মামুদ ওরফে হোসেন আলী। দর্জি মোবারক  পঞ্চম শ্রেনি পাস। সে গ্রাম্য এক মৌলভীর কাছে কাপড় সেলাইয়ের কাজ শেখে। বড়ভিটা বাজারে ছোট একটি চালা ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন দর্জির কাজ। দর্র্জিগিরি করে যে আয় হতো তা’ দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতো। বড়ভিটা তথা গোটা কিশোরগঞ্জ উপজেলার মানুষ তাকে সামন্য দর্জি মোবারক হিসেবেই জানে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পাল্টে গেছে। উত্তর বড়ভিটার দর্জি মোবারকই জিরো থেকে হিরো হয়ে এখন কোটিপতি। শুধু তাই নয়, দেশের রাজনীতির পালাবদলের সাথে সাথে সে জামাত বাদ দিয়ে বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য। মাঝে মাঝে অবস্থাবুঝে আওয়ামীলীগের পরিচয় দেন। তারই বংশের হত্যা মামলার পলাতক আসামী ফরিদ উদ্দিনের (৫০- চিরকুমার) লিখিত অভিযোগে জানা যায়,অবৈধ্য নেশা জাতীয় দ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা করে ফরিদকে হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তার সম্পত্তি দখল করে নেয়। প্রতিবাদ করায় তারই সৎ মাকে হত্যা করে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও প্রশাসনের কাছে প্রচার চালানো হয় যে, সৎ পুত্রের হাতে মাতা খুন। তারপর ফরিদকে পুলিশের হাত থেকে তথা হত্যা মামলা থেকে মুক্তি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়ীতে চার মাস আটকে রেখে তাকে ফাঁকা স্টম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করে। স্বাক্ষর দিতে না চাইলে চিরকুমার ফরিদের পরিবারের এক মাত্র তার ছোট ভাই মোসলেমকে (সৎ মায়ের ছেলে) হত্যা করা হবে এবং ডবল মার্ডারের  মামলায় ফেলে ফরিদকে জেল হাজতের ভয় দেখিয়ে ফরিদের কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নেয়। ফরিদের লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জিরো থেকে হিরো হয়ে যাওয়া দর্জি মোবারকের অতীত বর্তমান জীবনি সম্পর্কে জানতে চাইলেই কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলার হত্যা রহস্যগুলি উৎঘাটন হবে। তিনি কিভাবে এত টাকার মালিক। এর রহস্য কোথায? এই প্রতিবেদক  মোবারকের কাাছে জানতে চাইলে দর্জি মোবারক জানান, ফরিদের কাছ থেকে সকল সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে মালিক। এই গাড়ী বাড়ী এত টাকা কোথায় পেলেন, জানতে চাইলে সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি। এতে বুঝা যায় চিরকুমার ফরিদ উদ্দিন নির্দোষ তার সম্পত্তি হস্তগত করতেই দর্জিৃ মোবারক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। সুুযোগ বুঝে কাজ উদ্ধার ও করেছে। ফরিদের ভাই মোসলেমের সাথে কথা হলে জানান, মোবারকরা আমাকে বলল, আমার মাকে আমার বড় ভাই খুন করে গুম করে রেখেছে। তারপর আমার ভাইয়ের সাথে আর দেখা ও এখন পর্যন্ত কথা হয়নি। তবে আমার বাবা আমার জন্মের পূর্বেই সব সম্পত্তি বড় ভাইয়ের নামে লিখে দেন। দর্জি মোবারক বলে যে, তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনে নিয়েছি। সে আরো জানায়, আমার ভাই শক্তিহীন দুর্বল, অসুস্থ আমার মনে ও বিশ্বাস হয় না যে, ভাই আমার মাকে খুন করেছে। কারণ সংসারে আমার মা, আমি ও (চিরকুমার) বড় ভাই ফরিদ উদ্দিন। তবে মাঝে মাঝে আমার বড় ভাই আমাকে ও মাকে রাগ দেখাত। গোপন সূত্রে জানা যায়, মোবারকেই হচ্ছে ডবল মার্ডার খাইরুল ও মৃনাল হত্যা মূল হোতা ফরিদের মা মরিয়মের হত্যাকারী। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ফরিদকে ধরার জন্য পুলিশ ফোর্স লাগিয়েছেন। দর্জি মোবারকের ধর্মপিতা সৈয়দ আলীর সাথে কথা হলে জানান, হত্যা মামলার বিষয়টি ওদের পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মোবারক হত্যার বিষয়ে তাকে জড়িয়ে পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য এই প্রতিবেদককে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে চান তিনি আরো জানান কিশোরগঞ্জ থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ বজলুর রশিদকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছেন কোন পুলিশ যেন তাকে হযরানি না করে ও হত্যা মামলায় তাকে না জরানোর জন্য ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here