নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ৩৪২/১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা এই দপ্তরে সাদা পোশাকধারী সিপাহী, পিয়ন, ব্যাক্তিগত সহকারী, ডিলিং সহকারী, কম্পোজার, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (পরিদর্শক), রাজস্ব কর্মকর্তা (সুপার), সহকারী কমিশনার (এসি) পুরুষ এই লেভেলের প্রায় পদবীধারী কর্মচারী, কর্মকর্তাগন কিভাবে ব্যবসায়ীদের ফাইল আটকিয়ে নতুন অজুহাত তৈরী করে টাকা হাতরিয়ে নিচ্ছে এবং সময়ক্ষেপন করছে তা দেখার কেউ নেই। এদের মধ্যে একজনের কথা না বললে নয়। সে হচ্ছে সহকারী কমিশনার-কাস্টমস (এদিব বিল্লাহ), সার্বক্ষনিক হেড ফোন লাগিয়ে অফিস সময়ে ওয়াজ ও গান শোনা এবং ফেইস বুক, ইউটিউব, বাইবার নিয়ে ব্যস্ত থাকা তার কাজ। সকলেই তাকে জংগী এবং তালেবান হিসেবে চিনে। যেখানে জংগী নিধনে সরকারী পদক্ষেপ সেখানে এই জংগী কিভাবে দ্রিব্রি চাকুরী করে। অভদ্র প্রকৃতির এই কর্মকর্তা। ভদ্রতার ছোয়া তার মধ্যে নেই বললেই চলে। ২৯ তম বিসিএস এর মাধ্যমে তার চাকুরী। গোয়েন্দা প্রতিবেদন মনে হয় টাকা দিয়ে তার পক্ষে নিয়েছে। তা না হলে এই খারাপ আচরণ, ব্যবহার এবং রুক্ষ স্বভাবের ব্যক্তি কিভাবে বিসিএস ক্যাডারে চাকুরী করার সুযোগ পায়। তাও আবার জনগুরুত্বপূর্ন কাস্টমসের বন্ড কমিশনারেটের মত দপ্তরে। যারা এই ধরনের কর্মকর্তার কর্মস্থল নির্ধারন করেন তারা আসলে ভেবে চিন্তে করেন কিনা জানি না। দাঁড়ি রেখেছেন ঠিকই, নামাজ কালাম পড়েন কিনা আদৌ তা প্রতীয়মান হয়নি। কৌশলে টাকা হাতিয়ে থাকে। টাকা না দিলে ঐ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ দাড় করানো তার চিরাচরিত স্বভাব। এমনি বাস্তবে তার লেবাস দেখে কেউ তার অভদ্রতা, রুক্ষ ব্যবহার, অভদ্র আচরণ এবং কুটবুদ্ধি সম্পর্কে বুঝতে পারবে না। চাটুকারিতা এবং তোষামদ করে চেয়ার আখড়িয়ে রাখা তার একমাএ লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের সেবা দেওয়া তার মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। অথচ এরা প্রজাতনের কর্মচারী ! কমিশনার ফৌজিয়া ম্যাডাম এই অভদ্র প্রকৃতির কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন নতুন বন্ড লাইসেন্স সহ অন্যান্য কিছু গুরু দায়িত্ব (যার নথি নং ২(৭) ৮২/বন্ড কমি:/আদেশ/২০০১/পাট-০১/২০০৯/২৭৯৬ তারিখ:২৯-০৩-২০১৭ইং)। যে লোক কাজেই বুঝে না তাকে দিয়ে বসেছে এই ধরনের দায়িত্ব। তার থেকে অনেক চৌকশ ও মেধাবী অনেক কর্মকর্তা রয়েছে যাদের সেবা পেয়ে ব্যবসায়ীসহ সকলেই খুশী হয়েছিল। ঐ অফিসের সকল কর্মচারীও তার (এদিব বিল্লাহ) এধরনের আচরনে ক্ষিপ্ত। যে কোন সময়ে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিলাস বহুল গাড়ী ছাড়া তাকে ফ্যাক্টরী পরিদর্শনে নেওয়া অসম্ভব। সে বুঝে না কাজ, তার পর আবার হামাঘুড়ি। ব্যবসায়ীরা সেবাতো পায়ই না বরং হয়রানী। আর কমিশনার শীতাতপ নিয়ন্রিত কক্ষে বসে থেকে ইন্টার কমের মাধ্যমে খোজ নিয়ে পার। কমিশনারও তার অনেক ব্যক্তিগত কাজ তার একান্ত অনুসারীদেরকে কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা দিয়ে করিয়ে থাকেন, যা সরিজমিনে গোপন পরিদর্শনে ধরা পড়বে। এই কারনে কমিশনার বড় কথা বলতে পারে না। ফৌজিয়া বেগম কমিশনারেরও দুনম্বরী কাজের একমাএ মধ্যস্থাকারী জনৈক এক সাবেক সহকারী কমিশনার। ইতোমধ্যে রাজউক পূর্বাচল থেকে প্রায় ৭.৫০ কাঠার একটি প্লট ও হাতরিয়ে নিয়েছেন কমিশনার এই ফৌজিয়া বেগম। গুরুত্বপূর্ন এই দপ্তরের কাজ ফেলে তার আস্তাভাজন কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা প্রদান করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ সেরে নেন। কারন তার চাকুরী আর বেশীদিন নেই। মাথায় হেজাব, নামাজ কালাম শুধুই লোক দেখানো। কত টাকার মালিক কেউ বলতে পারে না। অথচ অনেক মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছে তাদেরকে ঐ সমস্ত গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব প্রদান করলে ব্যবসায়ীরা এই ধরনের হয়রানী, সময়ক্ষেপণ থেকে অনেকটা স্বস্তি পেতো। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালূ করার জন্য বারবার তাগিদ দিলেও এই দপ্তর নীরব।
অফিসের প্রধান প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজনকে ঢুকতে না দিয়ে গোপনে এবং নীরবে ফাইল আটকিয়ে জিম্মি করে প্রচুর টাকা হাতরিয়ে নিচ্ছে। বলার কেউ নেই, দেখারও কেউ নেই। টাকা ছাড়া বাংলাদেশের সকল জায়গায় কাজ করতে পারলেও এই দপ্তরে সম্ভব নয়। বিশ্বাস না হলে সরেজমিনে তদন্ত করলে বাস্তব দৃশ্যপট দেখা যাবে। অথচ নাম পড়ে পুলিশ এবং ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কোথায় পুরষ্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক, দুদক, কোথায় প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাসমূহ! অন্যান্য সরকারি অফিসে এই ধরনের জিম্মি করে ফাইল প্রতি উৎকোচ নেওয়ার ঘটনা বিরল। রাষ্ট্রের সিংহভাগ রাজস্ব এসে থাকে এই পোশাক শিল্পখাত থেকে। অথচ সময়ক্ষেপন এবং অর্থের দৌরাত্ব্যের কাছে আজ গার্মেন্টস শিল্পের ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সময়মত বন্ড লাইসেন্স না পাওয়া, চিঠিপত্রের জবাব ও কম্পিউটার এবং অটোমেশান শাখার সেবা যথাসময়ে না পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের জন্য যে কত ক্ষতিকর এবং অসস্তিকর তা সেগুন বাগিচা বন্ড কমিশনারেট অফিসের শীতাতপ নিয়ত্রন কক্ষে বসে বুঝা সম্ভব না। বায়ার হারানোতো আছেই। সংশ্লিষ্ট সকলেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এর আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
পরের সংখ্যায় আরো বিস্তারিত
