কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেটে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব দুর্নীতিবাজরা নিজেরা প্রতিবাদ না করে নাটেরগুরু বানিয়েছেন কমিশনারকে প্রতিবাদে দুর্নীতির কথা স্বীকার

0
1106

অপরাধ বিচিত্রার তিনটি সংখ্যায় পরপর এ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনটি সংখ্যায় দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হলেও কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে মাত্র একটি সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমিশনার এর পক্ষে উপকমিশনার মোঃ মশিউর রহমান।
তিনি প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেছেন, গত ১৪মে ২০১৮ ইং তারিখে প্রকাশিত অপরাধ বিচিত্রায় “সেগুনবাগিচাস্থ কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেটে চলছে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দুর্ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, জটিল সমস্যা সৃষ্টি, কারণ দর্শানোর মহোৎসব-রপ্তানি স্থবির’’ “প্রকাশিত সংবাদটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এর নজরে এসেছে। ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি নাকি সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। যা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এর সুনামকে ক্ষুন্ন করেছে। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদান করে আসছে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সুদক্ষতায় কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সেবার পরিবেশ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Advertisement

 

এরই মধ্যে সংস্থাটি অডিট এবং প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম জোরদার করে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরন করেছে। সমম্বিত নিরীক্ষা কার্যক্রম নীবিড় নজরদারির কারনে রোধ করা গেছে কতিপয় অসাধু বন্ডারদের রাজস্ব ফাকির প্রচেষ্টা। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এর এই কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য একটি মহল কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের নিয়ে সম্পূর্ন উদ্দশ্যপ্রনোদিত হয়ে মিথ্যা বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে। কাষ্টমস বন্ড কমিশনারেট উক্ত সংবাদের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এছাড়া অসাধু বন্ডারদের বিরুদ্ধে চলমান জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন।
অপরাধ বিচিত্রা গত দুই যুগ ধরে দেশের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী শিল্পপতি, আমলার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুনামের সাথে প্রকাশনা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ বিচিত্রা এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নীতিগতভাবে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। তারই ধারাবাহিকতায় ইতিপুর্বেও কাস্টমসের অনেক রাগববোয়াল কর্মকর্তার দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রাষ্টের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখেছে। কোন দুর্নীতিবাজের সাথে আপোষ নয় বরং দুর্নীতির মুলোৎপাটন করাই অপরাধ বিচিত্রার উদ্দেশ্য।
তিনটি সংখ্যার মধ্যে মাত্র একটি সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে বাকি দুটি সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবদেন এর প্রতিবাদ না করে বাকি দুটি সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবেদনকে শ্বিকার করে নিয়েছেন কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। একই সাথে যাদের বিরুদ্ধে দুর্র্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তারা কিন্তু নীতিগত ভাবে দূর্বল বিধায় তারা প্রতিবাদ করতে সাহস করেনী বা তারা কেউ প্রতিবাদ করেনী। এ অর্থে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল তারা তা মেনে নিয়েছে। আবার একই সাথে তাদের দুর্নীতির প্রকাশিত প্রতিবদেনের প্রতিবাদ করেছেন কমিশনার নিজে, যদিও তাতে কমিশনারের স্বক্ষর নেই। প্রতিবাদ পত্র পেয়ে উপকমিশনার মশিউর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান কমিশনারের নির্দেশে তিনি পক্ষে এ প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়েছেন এত তার কোন সম্মতি নেই এটি একটি ফরমালিটি মেইনটেইন করা হয়েছে মাত্র এবং আমরা যেন কিছু মনে না করি। এটি শুধু মাত্র একটি ফর্মালিটি করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে প্রতিবাদটি তিনি পাঠাতে চাননি কিন্তু কমিশনারের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র। অপর এক কর্মকর্তা মৌখিক ভাবে প্রতিবাদ করে বলেছেন দুর্নীতিতো সবাই করে, আমরা প্রতিমাসে তিনশ সাংবাদিককে মাসে মাসে টাকা দিই তারাতো কেউ কিছু লেখেনা আপনারা লিখেন কেন। আসেন, আপনারাও টাকা নেন আর কিছু লিখেন না। অর্থাৎ তাদের শ্বিকার করা দুর্নীতির প্রতিবাদ করে কমিশনার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কাজে সহযোগিতা করে নিজেও দুর্নীতি করছেন বলেই প্রমান হচ্ছে। তা না হলে কমিশনার কেন অন্যের দুর্নীতির পক্ষে প্রতিবাদ করে সাপাই গেয়েছেন। এটি সেই গল্পের মতই হয়েছে যেমন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না। অপরাধ বিচিত্রা বলছে ঠাকুর ঘরে কে রে কমিশনার বলছে আমি কলা খাই না। কমিশনার নিজেই বা অন্যের কর্মকান্ডর দায় নিতে গেলেন অভিঞ্জ মহলের প্রশ্ন এখানেই। অনেক কর্পোরেট কোম্পানী অপরাধ বিচিত্রাকে মোবাইলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, অনেকেই প্রশ্ন করেছেন টাকার বিনীময়ে আবার থেমে যাবেন নাকি? অনেক দুর্নীতিবাজ আবার টেলিফোনে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন নিজেদের সাফাই গেয়ে। যা অপরাধ বিচিত্রার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। অনেকের কাছে এ প্রশ্নটি যেভাবে সহজেই উঠতে পারে আবার এর উত্তরও সহজেই মিলে যেতে পারে। কেন কোন স্বার্থে কমিশনার অন্যোর দুর্নীতির দায় নিজের ঘাড়ে নিলেন। অন্য সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারিদের দুর্নীতির বিষয়ে কমিশনারের প্রতিবাদ দেয়াটা রীতিমত হাস্যকর ব্যাপার। কি রহস্য রয়েছে, কমিশনারের এত ইন্টারেষ্ট কেন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের পক্ষে। কেউ এর প্রতিবাদ না করলেও কমিশনার কেন দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে এগিয়ে এলেন, যেখানে কর্মকর্তা কর্মচারিরা নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানী বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাদের থেকে উৎকোচ নিয়েছেন তাদের হাতে পায়ে ধরাধরি করছেন যাতে অপরাধ বিচিত্রায় কোন তথ্য প্রমান না দেয়। অনেক কোম্পানিকে দিয়ে অপরাধ বিচিত্রাকে ফোন করাচ্ছেন যাতে তাদের অপকর্মের প্রতিবেদন আর প্রকাশ করা না হয়। ডেনিম এর কর্মকর্তা অপরাধ বিচিত্রার অফিসিয়াল নাম্বারে ফোন করে অনুরোধ করেছেন তাদের নাম যেন আর পত্রিকায় প্রকাশ করা না হয়। রফিক নামের জনৈক দালালকে উক্ত দুর্নীতিবাজরা কন্ট্রাকও দিয়েছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাগনের নাম বা আর কোন প্রতিবেদন যাতে অপরাধ বিচিত্রায় আর প্রকাশ করা না হয়। কিন্তু অপরাধ বিচিত্রা দির্ঘ দুই যুগ সুনামের সাথে বর্নচোরা, মুখোশপরা, জালিয়াতী, দুর্নীতিবাজ, ভুমিদস্যু, চোরাকারবারী, মাদকের গডফাদার, যে কোন কালোবাজারীদের অপরাধ তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে তার যাত্রা প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে তা এখনো বদ্ধপরিকর। একই সাথে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেও কে কোথায় কত সম্পদেও মালিক, কি ধরনের লাইফ স্টাইল, কোথায় কিভাবে সম্পদেও পাহাড় গড়েছেন তা অনুসন্ধান অব্যাহত রাখেবে। অনুসন্ধান শেষে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ তুলে ধরা হবে।
সেগুনবাগিচাস্থ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা ঘুষ গ্রহনে এখনো বেপরোয়া। ২৮৪টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে প্রায় ২০০ টি পদে জনবল নিয়ে ২৪ টি শাখার সমন্বয়ে ৩৪২/১ সেগুনবাগিচাস্থ এই কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এখানে নেই কোন মানবতা, সহিষ্ণুতা, ভদ্রতা, নম্রতা নেই কোন ওয়ানস্টপ সার্ভিস। রয়েছে শুধু ঘুষের মহোৎসব, দুর্ভোগ, সময়ক্ষেপন, বিড়ম্ভবনা আর হয়রানী। সরেজমিনে না দেখলে কল্পনাই করা দুষ্কর। এই দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করে এটা তাদের পৈত্রিক দপ্তর। যা ইচ্ছা তাই করে যাবে। তাতে কি সবাই মূখ ধূমরে বসে থাকবে?
তাদের সাথে সেতুবন্ধন তৈরী করতে হলে আর্থিক লেনদেন এর সম্পর্ক থাকতে হবে। ব্যবসা বান্ধব, জনবান্ধব, দেশপ্রীতি, রাজস্ব প্রীতি শুধু সরকারের উচ্চমহলকে দেখানোর জন্য। নাগরিক সেবার নামে যে ছকটি ওয়েব সাইটে দেখানো হয়েছে তা শুধুই ভাওতাবাজী। বাস্তবচিত্র খুবই বেদনাদায়কও লোমহর্ষক। এই দপ্তরের ঘুষের লেনদেনের শিকড় অনেক দূর। অদ্যাবধি পর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে এদের বেপরোয়া সাহস দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। এরা সকলে একই সূত্রে গাঁথা। অপরাধীর অপরাধ তদন্ত করতে হয় নিরপরাদ বিভাগীয় ব্যক্রি দিয়ে অথবা বহিরাগত যে কোন স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান দিয়ে, তাহলে সত্যিকার গোপন তথ্য বের হয়ে আসে। এই প্রতিষ্ঠানের অধ:স্তনরা উর্ধ্বতনদের সত্যমিথ্যা সাজিয়ে মাথায় ডুকিয়ে দিয়ে আসতে পারলেই হলোই। সেটাকে সত্যতা যাচাই না করে একই সূত্রে গাথা সম্পর্ক ধরে রাখার নিমিত্তে নানান কৌশল অবলম্বন শুরু করে থাকে।
আমাদের প্রকাশিত সংবাদটিকে কটাক্ষ করে অতিরিক্ত কমিশনারের পিএ হিমেল, যুগ্ম কমিশনারের পিএ রবিউল, উপ-কমিশনারদের সিপাহী, আরেক অতিরিক্ত কমিশনারের পিএ সালাউদ্দিন সরকারসহ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট দপ্তরের অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করে অপবাধ বিচিত্রা কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উচ্চমহলের নজরে এনে আপনাদের কুকর্ম, অপকর্ম এবং কান্ডকীর্তিগুলো প্রকাশ করে মূখোশ উন্মোচ্চন করা যাবেতো, তাতেই আমাদের সার্থকতা। বিচারের কাটগড়ায় নিয়ে আসার প্রচ্ছনকারী/নেপথ্যকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি। এ ম্যাগাজিন হাতে হাতে পৌছে দেওয়ার ম্যাগাজিন না। যদি তাই ভেবে থাকেন তাহলে বোকার রাজ্যে বাস করছেন বলতে হয়। যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষের মহোৎসব, দুর্ভোগ, সময়ক্ষেপন, অসাধু সাধু বেশে রয়েছে, ভন্ডপীর পীর সেজেছে এবং সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার গতিপথে বাঁধা হয়ে ঁদাড়িয়েছে, পাশাপাশি মিথ্যাকে সত্য বলে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও রপ্তানীবান্ধবকে উপেক্ষা করার চেষ্টায় লিপ্ত সেখানেই অপরাধ বিচিত্রা আপনার পিছু ছাড়বে না।
যাহোক, আমাদের গত দুটি সংখ্যায় ৩৪২/১ সেগুনবাগিচাস্থ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ঘুষ গ্রহন বেপরোয়া শীর্ষক প্রতিবেদনটি বন্ড কমিশনার মহোদয়ের নজরে এসেছে। যার প্রমাণ নথি নং ২(২০) ৪৫/জন প্রশা:/বিবিধ নথি/২০১৮/৪৬২৭ তাং ২৪/০৫/২০১৮ ইং তারিখে প্রেরিত একটি প্রতিবাদলিপি। কমিশনার মহোদয়ের পক্ষে স্বাক্ষরিত মোঃ মশিউর রহমান, উপ-কমিশনার।
প্রতিবাদ : প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। পাশাপাশি সুদক্ষ কর্মকর্তাদের নিরীক্ষা ও প্রিভেনটিভ কার্যক্রম জোরদারের ফলে অসাধু বন্ডারদের রাজস্ব ফাঁকির প্রচেষ্টা নসাৎ করে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবী ।
প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ মোঃ মশিউর রহমান, উপ-কমিশনার। আপনার সম্পর্কে বলার ভাষা আমাদের নেই। আপনি এমনিতেই অতিজ্ঞানী দাবীদার যা আপনার দপ্তর থেকে শুরু করে সর্বমহলে সমাদৃত। এত জ্ঞানী বলে নিজেকে জাহির করেন অথচ আমাদের প্রকাশিত সংবাদটির তারিখটিও ঠিকভাবে উল্লেখ করতে পারেননি। আপনি দপ্তরের গুরুতপূর্ন একটি পদে থেকে আপনার এই উদাসীর্নতা সহজ ভাবে মেনে নেওয়া যায়? আপনার এই উদাসীর্নতা যেন ৬৬৩৫ টি বন্ডার প্রতিষ্ঠানের উপর প্রভাব না পড়ে। সেদিকে নিজেকে মনোনিবেশ করুন।
কমিশনার মহোদয় বরাবরই একজন ভদ্রলোক এবং অত্যন্ত বিচক্ষন লোক তাতে কোন সন্দেহ নেই। অতিরিক্ত কমিশনার মিয়া আবু ওবায়দা ও শান্তশিষ্ট এবং জানেওআলা লোক। যদিও অতীতে কিছু দুর্নাম ছিল,বর্তমানে তা নেই বললেই চলে।
যুগ্ম কমিশনার খাইরুল কবির মিয়া অনেক ফাইল অযথা কয়ারি দিয়ে অনেক অর্থ হাতিয়েছে যা এ মুহুর্ত্বে প্রকাশ করলে অনেক প্রতিষ্ঠান আপনাদের কালো তালিকায় পড়ে যাবে।
অতি বিনয় এবং সম্মানের সাথে দ্বিমত পোষন করে বলতে হয়, মোঃ মশিউর রহমান, উপ-কমিশনার স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেছেন, আপনার দপ্তরের দক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে আপনারা অডিট ও প্রিভেনটিভ পরিচালনা করে অনেক সুফল পেয়েছেন। আমি বলব তাতে ঘুষ লেনদেন এখন পর্দার অন্তরালে চলাচল করছে। যার প্রমান সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সরকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিদিষ্ট সময়ে সরবরাহ যাচাই পরিদর্শনে না গিয়ে শুক্রবার বন্ধের দিন দুজনে পরিদর্শনে গিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কমার্শিয়ালের নিকট ৩ লাখ টাকা উৎকোচ দাবী করলে তারা অপারগতা প্রকাশ করলে ধরিয়ে দেওয়া হয় কারন দর্শানো নোটিশসহ প্রায় ২৩ লাখ টাকার দাবীনামা। প্রতিষ্ঠানটি এখনো বন্ধ রয়েছে। যার পত্র নং ৩৬৯৯ তাং ০৮/০৫/২০১৮ ইং। কোটি টাকা ঋনের বোঝা নিয়ে এখন দিশে হারা। আপনারাতো ব্যবসাবান্ধব না, আপনারা কমিশনার মহোদয়কে ভুল বুঝিয়ে আপনাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ হাসিল করছেন মাত্র। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগের কপি আমাদের হাতে রয়েছে। কেন তাদের অভিযোগ পত্রটি সম্পুর্নভাবে দামাচাপা পড়ে গেল? এধরনের অনেক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ব্যবসা করতে পারবে না বলেও হুমকী দেওয়া হয়েছে। তাও আমাদের অজানা নয়।
কোন ব্যবসায়ীই অসাধু নয়। বন্ডারদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পরিহার করে আপনার দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতি, ঘুষ, অশালীন আচরন এবং সময়ক্ষেপনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করুন দেখবেন এই দপ্তরের সুনাম দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ভূতের মূখে রাম নাম শোভা পায় না। আপনার দপ্তরের সাধু ও অসাধুদের তালিকা আমার হাতে রয়েছে। এরই মধ্যে একজনের নাম ও আমাদের ২১ মে সংখ্যায় প্রকাশও করেছি।
আপনার দপ্তরের লোকবল যদি সাধু হতো তাহলে কিভাবে ফকির গ্রুপের ফাইল আটকিয়ে ১৭ লাখ টাকা ঘুষদাবীর দায়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তারেককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলো। বিষয়টি রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সাহেব পুরোপুরি ওয়াকিবহাল রয়েছেন। সূতরাং উদুর পিন্ডি বদুর গাড়ে না দেওয়াই শ্রেয়। আপনি কি চান সবাই এধরনের অভিযোগ নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের শরনাপন্ন হোন?
আমাদের বিচিত্রায় যাদেরকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আপনি ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছেন। কি জন্য নিয়েছেন আপনিই ভাল জানেন। জানিনা কমিশনার মহোদয় বিষয়টি জানেন কিনা! এ যদি অবস্থা হয় তাহলে তারাতো অসাধু উপায় অবলম্ভন করবেই। যে মুরগী বেশী ডাকাডাকি করে সে কিন্ত ডিম দেয় না, সে অন্যের ডিম দেওয়া নষ্ট করে। এত জ্ঞানপাপী হওয়া ভালো না।
আপনি বলেছেন, আপনার দপ্তরের দক্ষ এবং সাধু জনবল দিয়ে অডিট এবং প্রিভেনটিভ কার্যক্রম জোরদার করে রেকর্ড পরিমান রাজস্ব আদায় করেছেন। কথাটির সাথে আমরা দ্বিমত পোষন করছি, কারন আপনার অডিট এবং প্রিভেনটিভ টীমের প্রতিনিধিদের সাথে সমাঝোতা না হওয়াতে আপনারা তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দাঁড় করিয়ে দাবীনামা তৈরী করে কারন দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে আদায়কৃত টাকাকে রাজস্ব আয় বলে? রাজস্ব আয়ের সংজ্ঞা এধরনের নয়। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের চাকা বন্ধ করে দিয়ে আপনার সুনাম এবং পারফরমেন্স বৃদ্ধি করার জন্য জরিমানা আদায়কে রাজস্ব আয় বলে?, এটা কাম্য নয়।
দুর্নীতির দায়ে আপনার দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যার স্মারক নং দুদক/বি:অনু:ও তদন্ত-২/৬১-২০১৬/৫০১৪ তাং১৩/০২/২০১৮ ইং। তারপরও আপনি ছাপাই গাইছেন আপনার দপ্তরের লোক সাধু, বন্ডাররা অসাধু। পুলিশ উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে কোন লোককে থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ না পেলে তাদের মুদ্রিত একটি ফিরিস্তি ফরম রয়েছে, তাদিয়ে অভিযোগ ঁদাড় করিয়ে ঐব্যক্তিকে আটকিয়ে রাখে তেমনি আপনারাও তাই করে থাকেন।
সবশেষে বলবো শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না করে অকপটে সত্যকে স্বীকার করুন,অনেক তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। সেবার মাধ্যমে দপ্তরটির বিভিন্ন অভিযোগ মুছে ফেলুন এবং আপনার দপ্তরের অসাধুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করুন, তাতেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে ঁেপৗছা সম্ভব। আমরা অপরাধের বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here