উৎসমুখ বন্ধ না হলে মাদক নির্মূল করা দুরূহ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার। তিনি বলেন, ‘চরণ ঢাকব, না ধরণী ঢাকব।’ যেখান থেকে উৎস সে উৎসমুখ যদি বন্ধ না হয় তাহলে এ মাদককে নির্মূল করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। শনিবার সকালে নগরের লালদিঘী পাড়ে মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় গত একমাসে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ ইয়াবা ও নয় কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা ধ্বংস করা হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল বাহার বলেন, ‘১০টি উৎস দিয়ে হয়ত এই মাদকটি আসে। এটি ১০ হাজার বা ৫০ হাজার জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। ৫০ হাজার জায়গায় ৫০ হাজার মানুষকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত দুরূহ। এ কারণে আমরা উৎস মুখটাকে যদি বন্ধ করতে পারি, তাহলে মাদক নির্মূল করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।’ চট্টগ্রাম নগরে ‘১৪৫টি মাদকের স্পটের’ অধিকাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এগুলো যেন পুনরায় কেউ ব্যবহার করতে না পারে এবং আড্ডা হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে সেজন্য পুলিশ সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে। কোন ভাবেই যেন এই মহানগরীতে আর মাদকের ব্যবসা এবং সেবন কার্যক্রম পরিচালিত হতে না পারে। কয়েক দিন অভিযানের ফলে যে পরিস্থিতি এসেছে এ পরিস্থিতি থেকে আরো উন্নতি ঘটাবার জন্য সচেষ্ট থাকবো। কোনভাবেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ মাদকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইকবাল বাহার বলেন, ‘গত বছর আমার আটজন সদস্যকে আমি চাকরিচ্যুত করেছি, জেলে দিয়েছি। আমি মনে করি, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। সেকারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের যদি সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে তাকেও আইনে সোপর্দ করা হবে। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে নগরবাসীকে সহযোগিতার আহবান জানিয়ে ইকবাল বাহার বলেন, ‘সবাই একাট্টা হলে এ দেশ ও জাতিকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

