সাঁথিয়ায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সাঁথিয়া শাখার উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সরজমিন গিয়ে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে নিহত মুক্তি ছোট। সে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। মুক্তির মৃত্যুতে সাঁথিয়ার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। তারা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সাঁথিয়া শাখার উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে দোষীদের শাস্তির দাবিতে বক্তব্য দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আ. লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের পক্ষে বিন তৌফিক সবুজ প্রমুখ। মুক্তির বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি এবং আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। গত ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদের তালা প্রতীকের স্থানীয় ভোট কেন্দ্রের এজেন্ট ছিলাম। সে সময় ওই নির্বাচনী যে মামলা হয়েছিল আমি সে মামলার সাক্ষী থাকায় আমার ও পরিবারের উপর নেমে আসে এ দুর্ভোগ। তিনি ক্ষোভ করে আরো বলেন গত ১২ই আগস্ট সাঁথিয়া থানা পুলিশ আমাকে অভয় দিয়ে বাড়িতে রেখে যায়। ১৯শে আগস্ট দুপুরে সালামবাহিনী ঘরে ও আমার মেয়ে মুক্তির গায়ে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার জানান, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ঘটনায় মুক্তির বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯শে আগস্ট সন্ধ্যায় ৩২ জনকে আসামি করে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। থানা পুলিশ এ মামলার ২৪ জন আসামিকে আটক করলেও প্রধান আসামি নাগডেমরা ইউপির ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাম ও কেসমতের ছেলে জাহিদকে এখনও আটক করতে পারেনি। সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল মজিদ জানান, উভয় পক্ষের মামলায় জামিন হলে ঈদুল আজহার পরে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সমন্বয়ে মীমাংসার কথা বলে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই এ ঘটনা ঘটলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

