এরশাদের নেতৃত্বে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ রয়েছে ৫৮টি রাজনৈতিক দল * ‘আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করব এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব’

0
1474

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ইংরেজিতে এর নাম ইউনাইটেড

Advertisement

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (ইউএনএ)। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নতুন এ জোটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নয়া এ জোট দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে। একসঙ্গে সরকার গঠন করবে এবং দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে। এরশাদ আরও বলেন, জোটে দুটি নিবন্ধিত দলসহ মোট ৫৮টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। নিবন্ধিত দল দুটি হচ্ছে জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। এছাড়াও ইসলামী মহাজোটে আছে ৩৪টি ইসলামী দল, আর বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সে (বিএনএ) আছে ২২টি দল।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে সংখ্যার বিচারে এ জোটই এখন দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হচ্ছেন এ জোটের চেয়ারম্যান। পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জোটের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন জোটের ঘোষণা দিয়ে এরশাদ বলেন, ‘রাজনৈতিক নীতি ও আদর্শের দিক থেকে আমরা সবাই স্বাধীনতার চেতনা, ইসলামী মূল্যবোধ তথা সব ধর্মের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আদর্শের অনুসারী এবং ধারক ও বাহক। আমাদের অঙ্গীকার আছে, এই জোটে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির জায়গা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জোট গঠনের জন্য আমরা দুইভাবে শরিক নির্বাচনের নীতি গ্রহণ করেছি। যেসব দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত তারা সরাসরি জোটের শরিক হিসেবে থাকবে। যেসব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে কিংবা নিবন্ধিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে- তাদের সমন্বয়ে মোর্চা বা জোট গঠন করে সেই জোটকে শরিক হিসেবে বৃহত্তর জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

সাবেক এ রাষ্ট্রপতি এ সময় দাবি করেন, জোটের বাইরে থাকা আরও দুটি নিবন্ধিত দলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তারাও জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষে আমি, ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মান্নান, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাছের ওয়াহেদ এবং বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী নতুন জোটের ঘোষণাপত্রে সই করেন।

এরশাদ বলেছেন, ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স তিনটি ‘মৌলিক আদর্শের’ ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত- ১. ইসলামী মূল্যবোধ তথা সব ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সমান মর্যাদা প্রদর্শন, ২. স্বাধীনতার চেতনা এবং ৩. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনবোধ নিশ্চিত করা। জোটের অন্তর্ভুক্ত দলের ক্ষেত্রে যে কোনো নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি উন্মুক্ত থাকবে।

জোটের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এ জোট নির্বাচনী ফল মেনে নেবে। ফল যা-ই হোক না কেন, জোট বহাল থাকবে। জোটের স্থায়িত্বের জন্য রাজনৈতিক বিপদে-আপদে, সুদিনে-দুর্দিনে শরিকরা একে-অপরের পাশে থাকবে। স্বার্থের কারণে কোনো দল জোট ছেড়ে যাবে না- এ অঙ্গীকার থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘দেশ ও জাতির প্রয়োজনে এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে আজ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি। অনেকে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছেন। জোট গঠনের পর আরও কেউ অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে বিবেচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করব এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। আমরা জোটগতভাবে জাতীয়সহ সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, ‘মহান আল্লাহপাকের ওপর সর্বোচ্চ বিশ্বাস, আস্থা ও ভরসা রেখে আমরা নিজ নিজ দল ও জোটের পক্ষে নিন্ম স্বাক্ষরকারীরা দেশ ও জাতির স্বার্থে জাতীয় পর্যায়ে একটি জোট গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে- জোটগতভাবে জাতীয় নির্বাচনসহ সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জোটগতভাবে সরকার গঠন করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের ধারা প্রবর্তন করে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

এ সময় নতুন জোট গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, ‘বর্তমানে সংসদীয় গণতান্ত্রিক বিশ্বে জোটগত রাজনৈতিক প্রবণতা বিরাজ করছে। বাংলাদেশেও এ ধারা অব্যাহত আছে। জোটের রাজনীতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনের সুযোগ থাকে, যা সংঘাতের রাজনীতির বিপরীতে সম্প্রীতির রাজনীতি প্রবর্তন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এমএম মান্নান, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক এবং বিএনএ চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায়, এম ফয়সল চিশতি, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, ফখরুল ঈমাম এমপি, মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, আবুল কাসেম, নূর ই হাসনা চৌধুরী লিলি এমপি এ সময় সেখানে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, নুরুল ইসলাম নুরু, আলমগীর শিকদার লোটন, আরিফ খান, দিদারুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক ভুইয়া, জোট গঠন প্রক্রিয়ার যুগ্ম সমন্বয়কারী এসএম মুশফিকুর রহমান, শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফউজ্জামান, মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হোসাইন মৌসুমী, ছাত্রসমাজের সভাপতি সৈয়দ ইফতেখার আহসান হাসান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু প্রমুখ। জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষনেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জোটের আত্মপ্র্রকাশে শোডাউন : নয়া জোটের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করেছেন জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি। বেলা ১১টার দিকে বাবলার নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর কদমতলি থেকে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে ও শেখ মাসুক রহমানের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর বিশাল মিছিল প্রেস ক্লাব এলাকায় আসে। এ সময় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মহানগর দক্ষিণ এবং উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব এলাকায় জড়ো হন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

জাতীয় ছাত্রসমাজ ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি গঠন : মো. ইয়াসিন মিসবাহকে সভাপতি, এডি শরিফুল ইসলাম চৌধুরীকে (অর্ণব) সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় ছাত্রসমাজ ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইব্রাহিম খলিল, ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলী নোমান। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান হাসান এ কমিটি অনুমোদন করেছেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here