‘হাসিনার দুঃখ বিএনপির কেউ তার দলে আসেননি’

0
697

রিপোর্টার নানা: যদি আওয়ামী লীগ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে তাহলে এদেশের অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) ভিন্নমত, বিরোধী রাজনৈতিক দলকে স্তব্ধ করতে চায়। রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে চায়। রবিবার (৭ মে) বিকেলে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ) এর উদ্যোগে এ কর্মী সভার আয়োজন করা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী) দুঃখ-কষ্ট ভয় ওখানেই যে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এতো নির্যাতন নিপীড়নের পরও বিএনপির কেউ দল ছেড়ে তার দলে আসেনি। শুধু তাই নয়, সরকারের নির্যাতনে যাদেরকে হত্যা, গুম, খুন, গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের পরিবারও তাঁর কাছে (শেখ হাসিনার ) মাথা নত করেননি। একটি কথা পরিস্কার করে বলে দিতে চাই- বিএনপি (আমরা) শত প্রতিকূলতার মাঝেও কারো কাছে মাথা নত করেনি এবং করবে না। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাথা নত করতে পারে না। অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠছে, সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেবে। বিএনপির ভিশন ২০৩০ কে আওয়ামী লীগ নেতারা ধাপ্পাবাজী বলে মন্তব্য করায় মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে ক্ষমতায় আসে আর আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি সেই সেনা সমর্থিত সরকারের সঙ্গে আতাত করে এখন পর্যন্ত অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। তারাই (আওয়ামী লীগ) প্রতি পদে ধাপ্পাবাজী করে। এবং মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বারবার ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাওয়া ভবন তৈরি হবে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন মানে লুণ্ঠন,লুটপাট। আজকে একদিকে তারা (আওয়ামী লীগ) অতীতের ন্যায় আবারও লুটপাট সমিতিতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকছেন। গোটা দেশকে অন্ধকারে পরিণত হরা হয়েছে। সংসদ বলতে কিছু নেই। সেখানে বিরোধীদল নেই। যারা আছেন তারা গৃহপালিত বিরোধীদল। কারণ সেই তথাকথিত বিরোধীদল থেকে আবার সরকারের মন্ত্রী সভায়ও রয়েছে। হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের নতুন জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অযথা বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করবেন না। বিএনপি যদি কোথাও না থাকে তাহলে সকল কর্মকান্ডে এত বিএনপি ভীতি কেন? এদিকে আজকে তথাকথিত বিরোধী দল ৫৮টি দল নিয়ে একটি নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ তারা নিজেরাই কি না, এখনও মহাজোট সরকারের শরীক হিসেবে রয়েছেন। তাছাড়া জোটকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুধু মাত্র দুইটা দলের নিবন্ধন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়েও পালাবার পথ পাওয়া যাবে না বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য দেওয়া বক্তব্যের জবাবে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাই হবে, আওয়ামী লীগ পালাবার পথ পাবে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা (বিএনপি) নির্বাচন করতে চাই। বিএনপি নির্বাচমুর্খী দল। কিন্তু এখন আইন তৈরি করে, সংবিধান কাটা ছেড়া করে বলছেন- সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। বিএনপি এত আহম্মক দল নয় যে, নির্বাচনে নিজেরা শুধু এক তরফা খেলতে পারবেন, সুযোগ সুবিধা পাবেন সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবে?  বরং বিএনপি যাতে নির্বাচনে না যেতে পারে সেই চেষ্টা হলে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। দলের নেতাকর্ম দের উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদেরকে এক দিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন অন্যদিকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। দলের কর্মী বৃদ্ধি করতে হবে। রাজনৈতিক পরিধি সম্প্রারণ করতে হবে। ‘‘এই সরকার বিএনপিকে ভয় পায় বলেই বিএনপির চলমান সাংগঠনিক কর্মসূচিতে কোথাও কর্মী সভা করতে সময় বেধে দিচ্ছেন আবার কোথাও বাধা বাধা দেওয়া হচ্ছে। বদ্ধ ঘরের ভেতরেরও কর্মী সভা করতে দিচ্ছে না। ’’ আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, দলের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ) সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদল ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক গোলাম মৌলা শাহীন, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর (পূর্ব) সভাপতি এনামুল হক প্রমুখ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here