ঋণের বিষয়ে নবী যে  শিক্ষা  দিয়েছেন

0
575

এক ইহুদি নবিজীকে (সাঃ) ঋণ দেন।একজন অসহায় সাহাবীর (রাঃ) প্রয়োজন মেটানোর জন্য নবীজী (সাঃ) এক ইহুদির নিকট থেকে ঋণ নেন। তিনি (সাঃ) পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। একদিন নবিজী (সাঃ) একটি জানাযা থেকে ফিরছেন। সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী। এসময় ঐ ইহুদি লোকটি নবিজীর (সাঃ) গলার চাদর টেনে ধরে কর্কশ ভাষায় বললো- “ও মুহাম্মদ! আমার কাছ থেকে যে ঋণ নিয়েছিলে, সেই অর্থ কোথায়? আমি তো তোমার পরিবারকে চিনি। ঋণ নিলে তোমাদের আর কোনো খবর থাকে না!” নবিজী (সাঃ) তখন মদীনার রাষ্ট্রপ্রধান। তাঁর কথায় হাজার হাজার সাহাবী (রাঃ) জীবন দিতে প্রস্তুত। তাঁকে (সাঃ) সবার সামনে এতো বড়ো অপমান করা হলো? অথচ ঋণ পরিশোধের ধার্যকৃত তারিখ অনেক বাকি আছে। উমর (রাঃ) এটা সহ্য করতে পারলেন না। তিনি তাঁর বলে উঠলেন- “ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ)! আপনি অনুমতি দিন, তার গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলি?” ইহুদিরা নবিজীকে (সাঃ) নবী বলে স্বীকৃতি না দিক, নিজেদের স্বাক্ষরিত মদীনা সনদের আলোকে প্রেসিডেন্ট ও চিফ জাস্টিস হিসেবে তো স্বীকৃতি দেয়। ইহুদির অমার্জিত আচরণ ও ওয়াদা খেলাফের অপরাধে নবিজী (সাঃ) তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেবার স্বাভাবিক এখতিয়ার রাখেন। কিন্তু তিনি তা না করে উল্টো উমর (রাঃ)কে বলেন: “হে উমর, তোমার কাছ থেকে তো উত্তম ব্যবহার আশা করা যায়। তুমি এভাবে না বলে বরং আমাকে বলতে পারতে- “আপনি তাঁর ঋণ পরিশোধ করুন”; অথবা তাকে বলতে পারতে- “আপনি সুন্দরভাবে ঋণের কথা বলুন”। অসুন্দরের জবাব সুন্দর দ্বারা, নিকৃষ্ট আচরণের জবাব কিভাবে উত্তম দ্বারা দিতে হয় সেটা নবিজী (সাঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) তথা আমাদেরকে শেখালেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উমরকে (রাঃ) নির্দেশ দিলেন- “উমর, যাও তার সাথে এবং তাকে তার ঋণ পরিশোধের পর আরো বিশ সা’ (৩২ কেজি) খেজুর দিও। কারণ, তুমি তাকে ভয় দেখিয়েছো”। উমর (রাঃ) ইহুদিকে সাথে নিয়ে গেলেন। তাকে তার প্রাপ্য ঋণ প্রদান করলেন এবং সাথে আরো ৩২ কেজির অতিরিক্ত খেজুর দিলেন। ইহুদি তো অবাক! একে তো সে সময়ের আগেই পাওনা দাবি করেছে, তার উপর সবার সামনে নবিজীকে (সাঃ) অপমান করেছে। তবুও তার পাওনা পরিশোধের পর আরো ৩২ কেজি খেজুর অতিরিক্ত দিচ্ছেন! সে জিজ্ঞেস করলো, “অতিরিক্ত এগুলো কেনো?” উমর (রাঃ) বললেন, “কারণ, আমি তোমাকে হুমকি দিয়েছি। সেটার কাফফারা হিসেবে নবিজী (সাঃ) এগুলো দিতে বললেন।” ইহুদি বললো, “উমর, তুমি কি জানো আমি কে?” উমর (রাঃ) বললেন, “না, জানি না। তুমি কে?” ইহুদি বললো, “আমি যায়িদ ইবনে সু’নাহ।” তার নাম শুনে উমরের (রাঃ) চক্ষু চড়কগাছ! যায়িদ ইবনে সু’নাহ? মদীনার বিখ্যাত ইহুদি রাবাই (ইহুদিদের আলেম)? উমর (রাঃ) তার নাম জানতেন, কিন্তু তিনিই যে ঐ ব্যক্তি, সেটা তিনি জানতেন না। যায়িদ ইবনে সু’নাহ বললেন, “হ্যাঁ, আমিই সেই ইহুদি রাবাই। আমাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মুহাম্মদের (সাঃ) নবী হবার প্রমাণের যতো ভবিষ্যৎবাণী পাওয়া যায়, সবগুলোই আমি তাঁর মধ্যে পেয়েছি। শুধু দুটো বিষয় পরীক্ষা করা বাকি ছিলো।” সেই দুটো ছিলো: (১) তাঁকে কেউ রাগালে তিনি সহনশীলতা দেখাবেন; এবং (২) কেউ তাঁর কাছে এসে মূর্খের মতো আচরণ করলে তিনি সেই মূর্খের সাথে উত্তম আচরণ করবেন (অর্থাৎ তিনি মন্দের জবাব ভালোর মাধ্যমে দিবেন, নিকৃষ্টের জবাব উত্তমের মাধ্যমে)। এবার যায়িদ ইবনে সু’নাহ বললেন: . “ও উমর, তুমি সাক্ষী থাকো- আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, ইসলামকে আমার ধর্ম হিসেবে এবং মুহাম্মদকে (সাঃ) আমার নবী হিসেবে মেনে নিলাম। আমার অনেক সম্পদ আছে। আমি আমার অর্ধেক সম্পদ ইসলামের তরে দান করে দিলাম”। তথ্যসূত্র: সহীহ ইবনে হিব্বান: ২৮৮, আল-বায়হাকী: ১১০৬৬, মুস্তাদারক

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here