উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য আমল

0
513

মনের মানুষকে কাছে পাওয়া /উত্তম জীবনসঙ্গী/তারাতারি বিয়ের জন্য পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী আমল হলো, গোনাহ থেকে বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার করা, কারন গোনাহ থেকে মুক্ত না হলে আল্লাহ তাআলা অনেক সময় রাগ হয়ে মনের আশা পূরণ করে না,অনেকের বিয়ে ও দেরি হয়, এটা আল্লাহর পরীক্ষা।তাই অবশ্যই অবশ্যই গোনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা ,গোনাহ থেকে পবিত্র থাকতে হবে।বিশেষকরে চোখের যিনা,অবৈধ ছ্যাটিং থেকে বিরত থাকতে হবে। আর কাউকে মন থেকে ভালো লেগে গেলে তাকে জীবনসঙ্গী হিসাবে কাছে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে কোন দোস নেই। বরং এটা অনেক ভালো।যদি কল্যানকর হয় তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তা দিবেন। আল্লাহ তার আদরের প্রিয় নেককার বান্দাদেরকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসেন,তাই প্রিয় বান্দাদের জন্য ক্ষতিকর কোন দুআ অনেক সময় সরাসরি কবুল করেন না,কিন্তু দুআটি মিস হবে না বরং এর বদলে হয়ত আরও উত্তম কিছু দিবেন।ইনশা-আল্লাহ। তাই সরাসরি না পেলেও কখনও হতাশ হওয়া যাবে না।দুআ চালিয়েই যেতে হবে। ইবনে মাজাহ হাদিসে বর্ণিত আছে,””দুআই হলো ইবাদত””তাই দুআ চালিয়ে যেতে হবে।কখনও হতাশ হওয়া যাবে না।মুমিন কখনও হতাশ হতে পারে না। ?মনের মানুষকে পেতে/তারাতারি বিয়ের জন্য /উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য নিচের আমলগুলো চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।আল্লাহ ইচ্ছে করলে আল্লাহর কাছে ভালো মনে হলে দুআ কবুল করবেন।ইনশা-আল্লাহ।সবসময় আল্লাহর উপর ভরষা করতে হবে। আমলগুলো হলো, *বেশি বেশি গোনাহ থেকে তওবা ইস্তেগফার করা এবং বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা *সময়মত পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া।বেশি বেশি নফল নামাজ, সালাতুল হাজত নামাজ পড়ে দোয়া করা *তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া,বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনায় আছে,আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে মানুষের দুআ কবুল করার জন্য দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে আসেন, তাই আল্লাহ যখন রাতে নিকটবর্তী আসমানে আসেন টিক সে সময়টিতে তাহাজ্জুদ পড়ে কান্না করে দুআ করা।আর বিশেষকরে,সুন্নত ও নফল, সালাতুল হাজত, তাহাজ্জুদ নামাজের সিজদায় গিয়ে দুআ করা।কারন হলো, প্রিয় নবী করিম (সা.) সহীহ হাদিসে বলেন, ‘বান্দা যখন সিজদারত থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। কাজেই তোমরা এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করবে।’ দলিলঃ(সহিহ মুসলিম শরীফ: ১/৩৫০)। ?নামাজের সিজদায় গিয়ে দোয়া করার জন্য প্রথমে অবশ্যই সিজদার তাসবিহ ”সুবহানা রব্বিয়াল আ’লা, তিনবার বলার পরে তারপর আরবি ভাষায় কুরআন হাদিসের যেকোন দোয়া করা যাবে। ?কু’রআনের সর্বশ্রেষ্ট দোয়াঃএ দোয়ার মাধ্যমে সব কিছু চাওয়া হয়। এ দোয়া পড়লে মনের সকল আশা পূরন হয়।ইনশা-আল্লাহ।বিশেষকরে মনের মানুষকে জীবনসঙ্গী করার জন্য নিচের এই দুআ দোয়াটি পাওয়ারফুল দুআটি হলোঃ ُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِى الْءَاخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার।(দোয়াটি আরবি দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে) অর্থ :হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর। দলিলঃসূরা বাকারাহ:আয়াতঃ২০১ ❇উপরের এই দুআটি বেশি বেশি পড়লে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যানকর জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়❇ ?আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ইউনূছ:এ দোয়াটি পড়লেও সব ধরনের মনের আশা পূরন হয় ও বিপদ মুসিবত দূর হয়।ইনশা-আল্লাহ।দোয়াটি হল: لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ বাংলা উচ্চারনঃ’লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।’।(দোয়াটি আরবি দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে) অর্থাৎ ‘তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি গোনাহগারদের দলভুক্ত। দলিলঃসূরা আম্বিয়া :আয়াত:৮৭ ?মনের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসাবে পাওয়ার আমল/তারাতারি বিয়ের হওয়ার কার্যকরী আমল/নেককার হবু বউ,ও হবু স্বামী /উত্তম জীবনসঙ্গী,হবু নেককার স্বামী ও স্ত্রী এবং ভাল হালাল চাকরি পাওয়ার জন্য কুরআনের অতি গুরুত্বপূর্ণ পাওয়ারফুল দোয়াটি পড়তে পারেন: رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِير উচ্চারণ : ‘রব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন্ খইরিং ফাকির।’ ।(দোয়াটি আরবি দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে) অর্থ : ‘হে আমার প্রভু! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাজিল করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ২৪) ?যাদের চোখ শীতল করা ও চোখ জুড়ানো নেককার হবু বউ ও হবু স্বামী দরকার তারা নিচের দোয়াটি পড়তে পারেন।মেয়েরা পড়লেও ভাল নেককার স্বামী পাবেন।ইনশা-আল্লাহ।আল্লাহ মানুষের অন্তরের খবর রাখেন।।মনের মানুষকে পাওয়ার জন্যও এই আমল করতে হয়। ।দোয়াটি হলঃ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوٰجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا বাংলা উচ্চারণ:রব্বানা হাবলানা মিন আঝওয়াজিনা ওয়াজুর্রিই ইয়াতিনা কু’ররতা আ’ইউনিও ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমা-মা।(দোয়াটি আরবি দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে) অর্থঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর। দলিলঃসূরা ফুরকান:আয়াত :৭৪ ➡➡✅✅উপরে দুআগুলো আরবিতে শিখা উচিত,।কারন হলো,আল্লাহর শিখানো ভাষায় ও প্রিয় নবী (স:) এর শিখানো ভাষায় দুআ করা অনেক উত্তম।আর এতে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।ইনশা-আল্লাহ।তাই একটু কস্ট করে হলেও উপরে দুআ গুলো আরবিতে শিখে নেওয়া উচিত।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here