সর্বপ্রথম একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা জেনে নেওয়া যাক, আর তা হচ্ছে প্রত্যেক ৩/৪ রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের প্রথম ২ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য আরেকটি সূরা মিলানো ওয়াজিব এবং বাকি ১/২ রাকাতে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা [আবশ্যক] আর প্রত্যেক ৩/৪ রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত, নফল এবং বেতের নামাজের প্রতি রাকাতেই সূরা ফাতিহার সাথে অন্য আরেকটি সূরা মিলানো ওয়াজিব। আর নামাজের মধ্যে কোনো ১টি ওয়াজিব ভুলক্রমে বাদ পড়লে কিংবা ওয়াজিব আগে পরে হলে সাহু সিজদা দিয়ে নামাজ পূর্ণ করতে হবে।
১ ) নামাজে দাড়িয়ে আমরা সর্বপ্রথম মনে মনে নিয়ত করি এবং তাকবীরে তাহরীমা “আল্ল-হু আকবার” বলে হাত বাধি যার অর্থ- আল্লাহ্ তা’য়ালা সমস্ত কিছুর চেয়ে বড় এবং মহান!
২ ) এরপর আমরা সানা পড়ে থাকি। সানার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তা’য়ালার প্রশংসা আদায় করি। সানা- “সুবহা-নাকাল্ল-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়াতাবা-র কাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলাহা গয়রুক” অর্থ- হে আল্লাহ ! আপনি পাক-পবিত্র, আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনার নাম বরকতময়, আপনার গৌরব অতি উচ্চ, আপনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নাই।
৩ ) অতঃপর আমরা শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারনা থেকে আশ্রয় প্রার্থণা করি এবং বলি, “আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম” অর্থ- বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৪ ) এরপর আমরা আল্লাহ তা’য়ালার পবিত্র নাম দিয়ে নামাজ আদায় করা শুরু করি এবং বলি, “বিসমিল্লা-হির রহমানির রহীম” অর্থ- পরম করুনাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ তা’য়ালার নামে শুরু করছি।
৫ ) তারপর আমরা সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ শুরু করি এবং এর সাথে আরেকটি সূরা মিলাই। সূরা মিলানোর ক্ষেত্রে কমপক্ষে সূরা কাউসার সমতূল্য ৩ আয়াত পাঠ করা ওয়াজিব।
৬ ) এরপরে আমরা আল্লাহ্ তা’য়ালার উদ্দেশ্যে মাথা নুয়িয়ে রুকু করার মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার প্রশংসা আদায় করি। অর্থাৎ ৩, ৫, ৭ বা তার অধিক সংখ্যকবার বলি, “সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আউযীম” অথবা “সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আউযীম ওয়াবিহামদিহী”। অর্থ- আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি।
৭ ) এরপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমরা বলি, “সামি’য়াল্ল-হুলিমান হামিদাহ” অর্থ- আল্লাহ তা’য়ালা সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা বর্ণনা করেন।
৮ ) তার পরপরই আমরা আবার আল্লাহ তা’য়ালার প্রশংসা আদায় করে বলি, “রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ” অথবা “আল্ল-হুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরন ত্বয়্যিবান মুবা-রকান ফীহ্” অর্থ- হে আল্লাহ! যাবতীয় সকল প্রশংসা কেবল আপনারই জন্য, অগনিত পবিত্রতা এবং বরকতময় প্রশংসা।
৯ ) এরপর আমরা আমাদের সমস্ত শরীরকে নুয়িয়ে মাথাকে মাটিতে সিজদারত অবস্থায় লুটিয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালার নিকট সিজদা করি এবং ৩, ৫ অথবা ৭ বার বলি, “সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা” অর্থ- আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
১০ ) এরপর দুই সিজদার মাঝখানে বসে আমরা বলি, “আল্ল-হুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনী, ওয়াহদ্বীনি, ওয়ার্ জুক্বনী, ওয়া ‘আফিনী” অর্থ- হে আল্লাহ! আপনি আমায় ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহমত নাজিল করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমাকে শান্তি দান করুন
১১ ) তারপর আমরা যথারীতি দ্বিতীয় সিজদা করি এবং সিজদা শেষে দাঁড়িয়ে প্রথম রাকাতের ন্যায় দ্বিতীয় রাকাত আদায় করি।
১২ ) অতঃপর দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে আমরা বৈঠকের ন্যায় বসে শুধুমাত্র তাশাহুদ পাঠ করি এবং শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দুরূদ শরীফ এবং দোয়ায় মাসূরা পাঠ করি।
১৩ ) অতঃপর আমরা উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করি। [আরবী উচ্চারণের ক্ষেত্রে ( – ) এই চিহ্নটি দ্বারা ১ আলিফ টান এবং ( ‘ ) এই চিহ্নটি দ্বারা ‘আইনের উচ্চারণ উদ্দেশ্য।] আমলের নিয়তে এবং দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে লিখাটি কপি করে ছবিটি সেভ করে নিজ নিজ আইডি, স্টোরি এবং গ্রুপগুলোতে পোষ্ট করে দিবেন। এতে করে আপনাদের উছিলায় অনেকেই নামাজের সঠিক নিয়ম কানুন সম্পর্কে জেনে আমল করতে পারবে এবং তা আপনাদের জন্যও সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে গন্য হতে থাকবে ইন শা আল্লাহ।

