ফিলিস্তিন মুক্তকামী সংগঠন হামাস বিগত কয়েক দশক ধরে বর্বর ইসরায়েলিদের পুন্জিভূত নির্যাতনের প্রতিশোধের প্রথম পদক্ষেপ গত ৭ অক্টোবর (শনিবার) বিশ্ব সন্ত্রাস ও জংগীবাদের মাস্টার মাইন্ড,মুসলিম বিশ্বে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্হার দাম্ভিকতা ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে এক অকল্পনীয় শক্তির জানান দিলে ইসরায়েলি জংগী বাহিনীও গাজা উপত্যকায় পাল্টা ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে।এর ফলে দুই ভূখণ্ডের গত কয়েক দশকের চলমান উত্তেজনা আবার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।ইসরায়েলি বর্বরতা অকস্মাৎ ছড়িয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশ সমূহে। চলমান এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্বকে মূলতঃ দুই ব্লকে বিভক্ত করে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের যার যার অবস্থান স্পষ্ট করে বক্তব্য-বিবৃতি প্রদান করেছে। সরাসরি কেউ বর্বর ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, আবার কেউ স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়েছে। আবার কারও বক্তব্যে ফুটে উঠেছে ‘নিরপেক্ষ অবস্থানের’ কথা।কেউ আবার নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরনে ইসরায়েলের পক্ষাবলম্ভনের বিষয়ও উঠে এসেছে।
সে বিষয় ভিত্তি করেই আজকে আমাদের এই প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রার বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ মোশাররাফ খান।
ইরান
জংগীবাদের মাস্টার মাইন্ড ইসরায়েলে স্বাধীনতাকামি হামাসের হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতা কামী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের প্রতি তাদের পূর্ন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।তবে এই স্বাধীনতাকামি হামাসের হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা ইরান স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
গত শনিবার স্বাধীনতাকামি হামসের হামলার পর ইরানের টেলিভিশনে সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি বলেছেন, “এই বিপর্যয়ের জন্য ইহুদিবাদী শাসকদের নিজস্ব কর্মকাণ্ড দায়ী।”সুত্র-বিবিসি
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলী খামিনী বলেছেন “যারা ইহুদিবাদী শাসকদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছে আমরা তাদের হাতে চুম্বন করি।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সে দেশের জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রপ্রচারিত বক্তব্যে হামাসের চলমান এ স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘ফিলিস্তিনি সেনা ও সব ফিলিস্তিনি দলের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এ দিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দোল্লাহিয়ান চলমান এই আন্দোলনকে জিহাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গত শনিবার তিনি তার নিজের এক্স একাউন্ট থেকে এক টুইট বার্তায় ‘বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অপরাধ আর হত্যার যথাযথ প্রতিশোধ ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অপরদিকে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, গত ১১ই মে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে টেলিফোনে চলমান সংকট নিয়ে কথোপকথন হয়। এই কথোপকথনের ‘ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে আলোচনা হয়। তেহরানের জাতীয় গণমাধ্যমেও এই খবর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ঐতিহাসিক বর্বর ও জংগী ইহুদি দখলদার ইসরাইলদের অকৃত্রিম মিত্র শক্তি। বিগত শনিবার স্বাধীনতাকামী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রতি তাদের সুদৃঢ় ও বন্ধু প্রতিম সম্পর্ক অটুট রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার হামলার পরপরই প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে ইসরায়েলের প্রতি তাদের এই সহযোগীতার প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , ইসরায়েলের সমর্থনে বিমান বহনকারী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও মিসাইল ক্রুজার যুদ্ধবিমান ও চারটি মিসাইল বিধ্বংসী যান ইসরায়েলের কাছে ভুমধ্যসাগরে পাঠিয়েছে।ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে আরও অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেছে হোয়াইট হাউজ।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তাদের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন গোলাবারুদ সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
এদিকে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,ইসরায়েলের পাল্টা হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউজে মি. বাইডেন বলেন, ইসরায়েলের নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আছে, এটাই শেষ কথা। তিনি জোরালোভাবে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র “ইসরায়েলের পাশে দাঁড়াবে” এবং যা কিছু প্রয়োজন তা দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বৃহস্পতিবার ইসরায়েলে সফর করেছেন। মি. ব্লিঙ্কেনের পরিষ্কার বার্তা হল, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে রয়েছে- সেটা আজ, আগামীকাল এবং ভবিষ্যতেও।
বিবিসির প্রতিবেদটিতে আরো বলা হয়েছে, তবে মি. ব্লিঙ্কেন কোন যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাননি। বরং তিনি হামাসের বিরুদ্ধে জোরদার এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন।
রাশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে বার বার সংঘটিত সহিংসতা ও ধ্বংস লীলার পেছনে মার্কিন নৈতিকতাহীন নীতিকে দুষছে মস্কো।মতামতের দিক থেকে চীন ও রাশিয়া একই অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেছেন কুটনৈতিক মহল। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ রাশিয়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর তাগিদ দিয়ে বলেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ফিলিস্তিন ঐ অন্চলের মানুষের জম্মগত অধিকার।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মঙ্গলবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সাথে আলাপকালে বলেছেন যে, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে সহিংসতার বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতির ব্যর্থতার একটি উজ্জল উদাহরণ।
মার্কিন এই নীতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রাপ্য কোন অধিকারের তোয়াক্কা করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের স্বার্থকে অর্থাৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করছে।
তার মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে যথার্থ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

