দেবীদ্বার প্রতিনিধিঃ- দেবীদ্বারে ইউপি চেয়ারম্যান জসিম চক্রে চলে অবৈধ ড্রেজার মেশিন, ধ্বংসের মুখে সবুজ মাঠ ও ফসলি জমি। এই শিরোনামে দৈনিক কুমিল্লার ডাক পএিকা ও সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা ম্যাগাজিনসহ একাধিক দৈনিক পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরেই অবৈধ ড্রেজার মেশিন বিরোধী অভিযানে নামেন উপজেলা প্রশাসন।
৭ অক্টোবর (শনিবার) বিকেলে উপজেলার ১১ নং রাজামেহার ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সবুজ মাঠ ও ফসলি জমিতে চলমান অবৈধ ডেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় এই অভিযান পরিচালনা করেন দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি টিম নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রায়হানুল ইসলাম।
অভিযানে জসীম উদ্দীন চেয়ারম্যান চক্রের ১০ টি ড্রেজারের মধ্যে ড্রেজার সপু’র ২টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করতে না পারলেও ৩ টি পাইপ ও ১ টি সেকশান পাইপ ও ড্রেজার মালিক বুটিয়াকান্দির বিল্লাল হোসেনের ২টি ড্রেজার মেশিন, ভল্লবপুর গ্রামের ময়নাল হোসেনের ২টি ড্রেজার মেশিন,মরিচা নোয়াপাড়ার হান্নান মিয়ার ১টি ড্রেজার মেশিনসহ মোট ৫টি পাইপসহ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
অন্য দিকে, এসিল্যান্ডের ড্রেজার মেশিন বিরোধী অভিযানের খবর পেয়ে অন্য ড্রেজার মেশিন মালিকরা তড়িঘড়ি করে তাদের ড্রেজার মেশিন ও পাইপ গুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলে।
স্হানীয়রা ভুক্তভোগীরা অভিযানে অবৈধ ডেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এবং আরো অনেক ড্রেজার মেশিন বাকি আছে অভিযান শেষে চলে গেলে আবারো ভূমি খেকো এই চক্ররা বালু উওোলন করে সবুজ মাঠ, কৃষি ও ফসলি জমি গুলো ধ্বংস করতে না পারে সেদিকে নজর রাখার জন্য এসিল্যান্ডের প্রতি অনুরোধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান, আমি এই চক্রের সাথে যোগ না দেওয়ার অপরাধে এসিল্যান্ড কে দিয়ে এক সাপ্তাহ পর পর দুইবার আমার ড্রেজার ভাঙচুর করিয়েছিল। তখন সপু চক্রের ড্রেজার মেশিন গুলো চলমান থাকলেও ভাঙচুর করেনি। কিন্তু একাধিক সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশের পর আজ এই চক্রের কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ভেঙেছে। অভিযানের খবর পেয়ে আরো কয়েকটি ড্রেজার মেশিন সরিয়ে ফেলেছে।
প্রসঙ্গত; ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (নায়েব) মোঃ রুহুল আমিন, মতিন মেম্বার (ছিটার মতিন), ইব্রাহীম পাঠান সপু মিয়া, (ড্রেজার সপু) জুয়ারী আশিকসহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের দোকানের ডিজেল তেলে অন্তত ১০ টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন চালিয়ে খাল-বিল, সবুজ মাঠ, ফসলি জমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন করে শত শত একর ফসলি জমি অবৈধ ভাবে কেটে বিনাস করে আসছিল।
অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রায়হানুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়,ফসলি জমি ও সবুজ মাঠ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

