মাধবী ইয়াসমিন রুমা ঃ
চট্টগ্রামের আলোচিত প্রতারক নুরুল আবছার আনসারীর প্রতারণা লাগামহীন ঘোড়ার মতো দূর্বার গতিতে চলছে। দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতারণার শিকার হচ্ছে চট্টগ্রামের নিরীহ জন-সাধারণ। প্রতারক নুরুল আবছার আনসারী চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার চাপাছড়ি এলাকার মাষ্টার মর্তুজা আলীর পুত্র। সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আবছার আনসারী নিজেকে কখনো জজ কোর্টের উকিল, কখনো বা সাংবাদিক, হোমিও ডাক্তার, মানবাধিকার কর্মী, আবার কখনো আইন সহায়তা কেন্দ্র অশোক এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সহজ-সরল মানুষকে ধোঁকা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে চলছেন। তার রয়েছে দুটি মোটর সাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার। শুধু তাই নয় তার গ্রামের বাড়ি চাপাছড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতও হয়েছে বিশাল অট্টালিকা। সূত্রটি জানায়, বিগত ৭ মাস পূর্বে চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার ওর্নি নামের এক মেয়েকে সাপ্তাহিক সিটিজি নিউজ নামক পত্রিকার রিপোর্টার বানাবে বলে প্রথম দফায় ৩৫ হাজার টাকা নেয়। দ্বিতীয় দফায় গত ৭ মার্চ কার্ড দেবে বলে পূণরায় ৫ হাজার টাকা নেয়। সরল মনে ওর্নি তাকে মোট ৪০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও ওর্নিকে কোনো কার্ড না দিয়ে প্রতারক নুরুল আবছার আনসারী বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। অবশেষে ওর্নি গত ৩ অক্টোবর প্রতারক নুরুল আবছার আনসারীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও লায়লা আকতার নামের একজনকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রিয়াজ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মামলার জামিনে জজ সাহেবকে দেয়ার নাম করে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। আবুল কালাম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে আইন সহায়তা নামক মানবাধিকারের কথা বলে ২ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এভাবে প্রতারক নুরুল আবছার আনসারী দীর্ঘদিন যাবত জজ কোর্ট, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে তদবিরের নামে এলাকার সহজ-সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে চলেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, চট্টগ্রামের অসহায় নিরীহ জনসাধারণকে তার প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে প্রতারক নুরুল আবছার আনসারী কখনো চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে তার ভগ্নিপতি পরিচয় দেন। পাশাপাশি এড. মুসুদুল আলম বাবুল তার আত্মীয়, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী তার নানা, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার তার বন্ধু, পুলিশ কমিশনারের সাথে সখ্যতা আছে বলেও প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে যাচ্ছে। তার প্রতারণায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার নিরীহ মানুষ। উক্ত নুরুল আবছার আনসারীকে টাউট মুবিন ও মুন্নির সহযোগী হিসেবেও সবাই চেনে। এছাড়াও তার রয়েছে ৩জন স্ত্রী। একজন স্ত্রী থাকেন বহদ্দর হাট খাজা রোডে, একজন থাকেন চান্দগাঁও বারইপাড়ায়, আর একজন স্ত্রী চাপাছড়ি গ্রামের বাড়িতে রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনুর বেগম বিগত ২০১৪ সালে বাঁশখালী থানায় যৌতুকের জন্য নুরুল আবছার আনসারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতারক নুরুল আবছার আনসারীর অব্যাহত প্রতারণার বিরুদ্ধে গত ২১ জুন তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল আবছার আনসারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহলসহ এলাকার সচেতন মহল তদন্ত পূর্বক প্রতারক নুরুল আবছার আনসারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তবে নুরুল আবছার আনসারীর ব্যাপারে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধান চলছে।
আলোচিত প্রতারক নুরুল আবছার আনসারীর অব্যাহত প্রতারণায় অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী
Advertisement
Advertisement

