স্টাফ রিপোর্টার
স্বেচ্ছাচারিতায় আদমজী ইপিজেডের কর্ম-পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এক নারী কর্মকর্তাকে ঘিরে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিসাব ব্যবস্থাপক ও প্রশাসন প্রধান হিসেবে ইয়াসমিন আক্তার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আদমজী ইপিজেড কার্যালয়ে অশ্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি পদাধিকার বলে আদমজী ইপিজেড মেডিকেল সেন্টার ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য। দাপ্তরিক প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তাকে অগ্রিম অর্থ দেয়া হলে তিনি উৎকোচ নেন। কেউ আপত্তি করলে বহুমাত্রিক হয়রানির শিকার হতে হয় তাকে। অনুমোদিত প্রকৌশল শাখার পেটি ক্যাশ থেকে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় মালামাল কেনেন। অফিসের ফটোকপিয়ারের অপব্যবহার করেন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাপ্যতার চেয়ে অনেক বেশি টাকার ওষুধ হাতিয়ে নেন। বিভিন্ন উপকরণ নেন অফিস থেকে। পারিবারিক প্রয়োজনে অফিসের লিফটিংয়ের গাড়ির যথেচ্ছা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। চলমান অডিটে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আদমজী ইপিজেড থেকে বদলিকৃত যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারির পাওনা থেকেও অর্থ কেটে রাখা হয়। টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারির অগ্রিম এবং বিল-ভাউচার সমন্বয় করা হয় না। কখনো বা ভাউচার গায়েব করে দেয়া হয়। অফিস কর্মচারিদের ব্যক্তিগত কর্মচারির মতো ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কারো ন্যায়সঙ্গত পাওনা নানা অজুহাতে আটকে রাখেন তিনি। সূত্র মতে, ইয়াসমিন আক্তার ১৯৯২ সালে আদমজী ইপিজেডে চাকরি পান। সেই থেকেই তার স্বেচ্ছাচারিতা অধীনস্তরা অতিষ্ট। বছর খানেক তিনি বিভাগের ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন। তার দুর্ব্যবহারে কর্মপরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন জোন অথরিটি (বেপজা) তাকে অন্যত্র বদলি করতে চাইলেও অন্য কোন দফতর তাকে নিতে আপত্তি জানায়। লবিং করে ইয়াসমিন আদমজীতেই আছেন। ইয়াসমিন আক্তার সুকৌশলে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এ পদে টিকে আছেন। তিনি জানান, একক সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তার নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহাব্যবস্থাপকের সম্মতি এবং অনুমোদন বাধ্যতামুলক। তিনি দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্য মুলক। মহল বিশেষ ব্যক্তিস্বার্থে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে বলে দাবি করেন তিনি।

