পেশা বাঁচাতে কর্ণফুলী নদীতে অনশন করছেন ৩০০ সাম্পান মাঝি

0
559

সাম্পান মাঝিদের বলা হয় কর্ণফুলীর প্রাণপুরুষ। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একতরফা সিদ্ধান্তে বংশ পরম্পরায় শত বছর ধরে চলে আসা সেই পেশা আজ হুমকির মুখে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নির্দেশ সত্ত্বেও জন্মগত পেশাদার সাম্পান মাঝিদের ঘাট ইজারা না দেয়ার প্রতিবাদে নিজেদের সাম্পান নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে দিনব্যাপী অনশন করছেন আটটি সংগঠনের তিনশ মাঝি।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ছয়টা থেকে নগরের সদরঘাটে নিজেদের সাম্পান নিয়ে অনশন শুরু করেছেন মাঝিরা। চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।

কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী। তিনি জানান, গত পহেলা বৈশাখ পেশাগত সাম্পান মাঝি থেকে ঘাট কেড়ে নিয়ে পাটনিজীবী (সাম্পান মাঝি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ইজারা দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম। পরে ঘাটহারা মাঝিরা অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রশাসন-২ শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে পেশাদার জন্মগত পাটনিজীবী সমিতিকে ঘাট ইজারা দেয়ার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন ঘাট মাঝিদের ইজারা দেয়ার অনুরোধ জানালেও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এই বিষয়ে পুনরায় আইনি মতামতের জন্য নির্দেশনাটি চসিক আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠান। এরপর গত ছয় মাসেও মাঝিদের ঘাট ফিরিয়ে দেয়নি চসিক।

করোনার কারণে সাম্পান মাঝিরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। তার ওপর নিজেদের ঘাট হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো সাম্পান মাঝি।

পেয়ার আলী বলেন, ‘সাম্পান আমাদের বাপ-দাদা তিন পুরুষের পেশা। ২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে মাঝিদের ঘাটছাড়া করেছে চসিক। আামদের দেয়ালে পিট ঠেকে যাওয়ায় দিনব্যাপী অনশন করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এমনিতেই অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কর্ণফুলীর সাম্পান চিরতরে হারিয়ে যাবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here