যন্ত্রণার গোঙানি মুখ দিয়ে তেমন বেরুচ্ছে না। চোখ দুটিও বন্ধ। পৃথিবীর আলোয় থেকেও যেন কোমায় তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১২-২০১৩ সেশনের ছাত্র রবিউল আলম (২৫)। প্রতিদিনের মতো তিনি গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বইখাতা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহরের দুই নম্বর গেট স্টেশন থেকে শাটল ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাচ্ছিলেন।
কিন্তু হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে পা-পিছলে নিচে পড়ে যান তিনি। পা দুটি পড়ে রেলবিটের ওপর। অমনি চলমান ট্রেনের চাকায় পা দুটি কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার। আর এ সময় পুরো স্টেশনজুড়ে কী চিৎকার। কান্নায় ভেঙে পড়েন সহপাঠীদের অনেকে। তবুও ধরাধরি করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ততক্ষণে অজ্ঞান হয়ে পড়েন রবিউল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার এমন বিবরণ দেন সহপাঠীরা। এমন সময় চোখের জল টলটল করছিল তাদের অনেকের। কারও চোখে-মুখে অজানা আশঙ্কার ছাপ। এরমধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুর রহমান রবিউলের দুর্ভাগ্যের কথা বলে নিজের মুষ্টিবদ্ধ হাত সজোরে মারছেন বাতাসে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, শাটল ট্রেনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য রবিউল প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ষোলশহর রেলস্টেশনে যান। ছাত্রদের মধ্যে কার আগে কে ট্রেনে উঠবেন- এ প্রতিযোগিতায় একপর্যায়ে রবিউল ছিটকে পড়েন। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার দুই পায়ের হাঁটু থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সকাল ৮টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রবিউল চমেক হাসপাতালের ২৮নং নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রবিউল প্রায় অচেতন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিউরো সার্জারিতে পাঠানো হবে।

