স্টাফ রিপোর্টার:
কথায় বলে সরিষার মধ্যে ভুতের বাস অর্থাৎ একজন অসৎ পুলিশের অনৈতিক কর্মকান্ডের কারনে পুরো পুলিশ বিভাগ দুর্নামের অংশীদার। মাদক ব্যবসা, নারী কেলেংকারী, ঘুষ বানিজ্য, টাকার জন্য নিরীহ মানুষকে হয়রানী ও নির্যতান করা কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার নিয়মিত পেশা হওয়া একদিকে পুরো পুলিশ বাহিনীর সম্মান যেমন ক্ষুন্ন হ”েছ তেমনি সরকারের সুনামও যথেষ্ট নষ্ট হ”েছ। অতি উৎসাহি অসৎ পুলিশের কারনে সরকার ও পুলিশের উর্ধ্বতন মহল অহরহ পড়ছে মহা বিপাকে। মাত্র কিছু দিন আগে ডিআইজি মিজান, এসপি বাবুল আকতার কেলেংকারী বর্তমান জনবান্ধব সরকারকে বিব্রতকর অব¯’ায় ফেলে দিয়েছিল। নারায়নগঞ্জের এক এসআইর নিকট থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা দেশব্যাপি গনমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছিল। যদিও বিচারের কাঠগড়া থেকে ছাড় পায়নি কেউ। তবুও পুলিশের পোষাক গায়ে দিয়ে অসৎ লোক গুলো করে চলছে নানা অপকর্ম।
বাংলা প্রবাদ বাক্যে শোনা যায়, দশদিন চোরের একদিন সাধুর। ঠিক তাই ক্ষমতা অপব্যবহারকারী ছানির হাসান খানের বেপরোয়া অপকর্মের চাল চিত্র সবার সামনে উঠে এসেছে। মাদক ব্যবসা, নারী কেলেংকারী, গ্রেপ্তার বানিজ্য, অসহায় মানুষকে হয়রানী, ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য, চাঁদাবাজি সহ এমন কোন অপকর্ম নেই, যা পুলিশ অফিসার ছানির হাসান খান করে নাই। পুলিশ জনগনের বন্ধু, কিš‘ ছানির হাসান খান জনগনের আতংক। নারী কেলেংকারী সহ ঘুষ বানিজ্যের প্রতিবাদ করে ছানির হাসান খানের স্ত্রী শিল্পী ও পুত্র ইমরান এখন মরন আতংকে দিন গুনছে। সানির কাছ থেকে মৃত্যুর পরয়ানা মাথায় নিয়ে তার স্ত্রী শিল্পী চার বছরের শিশু পুত্র ইমরানকে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। না পারছে প্রতিবাদ করতে, না পা”েছ কারোর সহযোগিতা। দুর্ধর্ষ ভয়ংকর পুলিশ অফিসার ছানির হাসান খানের নানা অপকর্মের চিত্র নিয়ে অপরাধ বিচিত্রার এবারের প্রতিবেদন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও রহস্যজনক ভাবে ঘুরে ফিরে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় তাকে দায়িত্ব নেয়। ছানির হাসান খান দম্ভোক্তি করে বলেন, তার হাত অনেক লম্বা। তার ভাবসাবে মনে হয়, তিনি পুলিশের উধ্বর্তন মহলকেও তোয়াক্কা করেন না। থানায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের রুক্ষ্ম মেজাজে ধমক বলেন,“যান! আমি ওই আসামি ধরবো না, আমি ধরতে বাধ্য নই, আপনার কথা মতো কাজ করবো না, পারলে ডিসিকে বলেন। তবে মজার ব্যাপার হলো কোন থানায়ই সে ৬ মাসের বেশী টিকে না। তাকে টাকা না দিলে কোন কাজ হবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেই সে সব সময় ব্যতিব্যস্ত সময় কাটায়। তার থানা এলাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মাসোয়ারা গ্রহনের কারনে সে তার উধ্বর্তন কর্মকর্তার সাথে বিতর্কেও জড়িয়েছে একাধিকবার। নানা অপকর্মের কারনে ইতোমধ্যে তিনি কয়েকবার বরখাস্তও হয়েছেন বলে জন মুখে শোনা যায়। সর্বশেষে বদলী হয়ে তিনি এখন ঢাকার এসবিতে দায়িত্ব পালন করেও বিভিন্ন অপকর্মে ব্যস্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আদালতের নির্দেশও মানতে চান না। চাহিদা মাফিক ঘুষ পেলেই ওয়ারেন্টের আসামীও তিনি আটক করা থেকে বিরত থাকেন। এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি। তার দম্ভ একটা, তিনি বিশাল লম্বা হাতের অধিকারী এমনকি একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাকি তাকে সবসময় সাপোর্ট করে। মিরপুর থানায় থাকাকালীন সে থানা ভবনের সন্নিকটে আলোচিত মাফিয়া ও অসংখ্য মামলার আসামী শীর্ষ অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক একটি বাড়ি দখল করে দিয়ে ২৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহন করে। একারণে উক্ত সন্ত্রাসী প্রতি মাসে তাকে এখনো চাঁদা প্রদান করে। একজন দারোগার কাজে ও তার আচরনে থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাগন খুশি হওয়ার কথা থাকলেও কোন থানার ওসিই তার কাজে খুশি নয়। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়া, চোরা কারবারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া এবং সিনিয়রদের সম্মান না দেয়ার মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এসআই ছানির হাসান খানের নামের পাশে। সুত্র জানা যায়, মিরপুর থানায় দায়িত্ব থাকা কালে ডাকাতি মামলার সুত্র ধরে আসামী কাদেরের বাড়িতে অভিযানে গিয়ে এসআই ছানির তাকে না পেয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তার বাড়ির মালামাল ক্রোক করে।’ ১টি কম্পিউটার, ১টি টিভি, ১ সেট সোফা ও ১টি খাট সাক্ষীদের সম্মুখে ক্রোক করেন।’ তবে আসামীকে হাতে পেয়ে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যার কারনে সময়ে ঐ থানার ওসির সাথে সানির অনেক বাকবিতন্ডতা হয়। তাছাড়া মিরপুরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত ছাত্র শফিকুল ইসলামের কফিনবন্দী লাশ উদ্ধার হয় সাভারের জয়েনবাড়ির মকবুল মার্কেটের পেছনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে। এর আগে বনানী এলাকায় অপহরণকারীদের দেওয়া হয় মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা, অপহরণ ও পরে হত্যার পুরো পরিকল্পনায় ছিলেন এসআই ছানির হাসান খান সুত্র জানায়। তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এসআই ছানিরকে মিরপুর থানা থেকে বরখাস্ত করা হলেও অদৃশ্য শক্তির জোড়ে সে কামরাঙ্গীচর থানায় পোষ্টিং নিয়ে চলে আসে। সুত্র জানায় কামরাঙ্গীচর থানায় দায়িত্বে থাকা কালীন এসআই ছানির অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। এতে অন্যান্য অফিসারদের চক্ষুশুলে পরিনত হয়। কামরাঙ্গীচর থানাধীন অন্তত ৮০ জন মাদকব্যবসায়ীকে বোতল বন্দি করে তাদের নিকট থেকে মাসিক ৩ লাখ টাকার বেশী মাসোয়ারা আদায় করতো। তাছাড়া কামরাঙ্গীচর এলাকায় বিভিন্ন কুটির শিল্পের অসংখ্য ব্যবসায়ী রয়েছে । যাদেরকে সময়ে অসময়ে হুমকি দমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে নিতো। ঢালাই কারখানার মালিক জাহিদ জানান, ছানির হাসান দারোগার মতো খারাপ পুলিশ আমার জীবনে আর একটাও দেখি নাই। সে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
নারী লোভী এসআই
ছানির হাসান খান:
এসআই ছানির হাসান খান কিশোর বয়স থেকেই পরনারীর প্রতি চরমভাবে আসক্ত। সুন্দরী নারী দেখলে তার মাথা ঠিক থাকে না। কিš‘ পুলিশে চাকরী পাওয়ার পর থেকে আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠে। কোন নারীকে তার মনে ধরলে তাকে যে কোন কিছুর বিনিময়ে ভোগ করতো বলে শোনা যায়। কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কখনো মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে, আবার কখনো বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো চাকুরী দেয়ার নাম করে তাদের দেহ ভোগ করতো। পুলিশ হওয়ার সুবাধে সে এসব অপকর্ম করে বার বারই পার পেয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনি”ছুক এক অপরুপা গার্মেন্টস কন্যা জানায়, একদিন কাজে যাওয়া পথে এসআই সানির তার পথরোধ করে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে কৌশলে সব কিছু জেনে নেয়। এভাবে প্রতিনিয়তই তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে সে তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে ঔ নারী রাজী না হওয়াতে সে তাকে ইয়াবা মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে তার সাথে অনৈতিক কাজ করে। ওই নারী বলেন, আমি গরীব মানুষ তাই প্রতিবাদ করতে পারিনি। আর আইনের আশ্রয় নিলে সে আমাকে প্রানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। তাই আমার সাথে যা ঘটেছে তা আমি ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছি। একই ভাবে ছানির নজর পড়ে কামরাঙ্গীচরের মডেল তারকা নিলীমা শিল্পী ওরফে শিল্পী আক্তারের উপর। প্রথমে প্রেম পরে বিয়ে। শুরু হয় আরেক ইতিহাস। ছয় মাস প্রেমের পরে ২৯ আগষ্ট-২০১৩ সালে শুধুমাত্র কৌশল করে শিল্পীকে বিয়ে করে এই নারী লোভী এসআই ছানির। বাংলা ছবির মতো বিয়ের সময় কোন যৌতুক দাবী করে না মুখোশধারী ছানির। বিয়ের দিন বেশী আত্মীয় স্বজনের উপ¯ি’তিও পছন্দ করে না ছানির হাসান খান এবং সানির পরিবার সম্পর্কে খোজ খবর নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখে শিল্পীর পরিবারকে। বিয়ের পর দুই বছর তাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটে। এরই মধ্যে সানির পুলিশের চাকুরীর পাশাপাশি ব্যবসা করার কথা বলে শিল্পীর নিকট থেকে থেকে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং ব্যবসা তার নিজে নামে না করে তার বড় ভাই রুবেলের নামে পরিচালনা করে। দ্বিতীয় বছর থেকে ছানির টাকা চাওয়ার মাত্রাটা একটু বেড়ে যায় এবং সেই সাথে শিল্পী জানতে পারে তার মেঝু ভাসুর রুবেলের স্ত্রী ফারজানা মাসুদ কুহুর সাথে ছানির অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে শুরু হয় শিল্পী ও ছানির মধ্যে পারিবারিক কলহ। কিš‘ এরই মধ্যে শিল্পী ও ছানির ঘরে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান ইমরান। তবে স্ত্রীর প্রতি ছানির নির্যাতনের মাত্রাও দিন দিন বাড়তেই থাকে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সানি তাকে বাবার বাড়ী বিক্রি করে আরো ১০ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। শিল্পী তার কথা মতো টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় সে তাকে প্রচন্ড মারধর করে। এরপর থেকে সে তাকে কথায় কথায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কিš‘ শিল্পী সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ছানির সকল অত্যাচার মুখ বুঝে সহ্য করে। ভাবির সাথে ছানির অবৈধ সম্পর্কে বাধা দিয়ে এবং যৌতুকের দাবী করা টাকা দিতে না পারায় ছানির গত দেড় বছর যাবৎ স্ত্রী ও বা”চার কোন ভরণ পোষণের খরচ দি”েছ না, এমনকি উভয়ের নামের রেশন নিজেই উত্তোলন করে ভাবির সংসারে নিয়ে যায়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী-২০১৮ ইং তারিখ হতে সে শিল্পীর বাসায়ও যায় না। শিল্পী ফোন করলে সে বলে ফোন দিবি না, আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবি, নইলে তোকে প্রানে মেরে ফেলবো। আর তোর ছেলেকেও মেরে ফেলবো। তোর পরিবারের সবাইকে ইয়াবা দিয়ে ধরে আনবো। রাস্তায় গণপিটুনী দিয়ে মেরে ফেলবো। শিল্পী একদিন ছানির ও ভাবির অবৈধ সম্পর্ক হাতে নাতে ধরে ফেলে। এরপর ছানির সহ তার শাশুরি ও ভাসুর রুবেলের স্ত্রী ফারজানা মাসুদ কুহু মিলে তাকে অনেক মারধর করে। এতে শিল্পীর বুকে বড় ধরনের আঘাত লাগে। ফলে তারার ব্রেষ্ট ইনফেকশন হলে ধানমন্ডির পুপলার হাসপাতালে অপারেশন করাতে হয়। কিš‘ এসময় ছানির তাকে দেখতে পর্যন্ত যায়নি। এমনকি স্বামী হিসেবে তার অপারেশনের খরচও দেয় নাই। ছেলেটাকে পর্যন্ত দেখতে যায় না এবং খোজ খবরও নেয় না। সে শিল্পীকে বলে তুই মরলে আমার রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শিল্পীর কাছ থেকে সে ডিভোর্স নেয়া জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। শিল্পী ছানিকে ডিভোর্স না দিলে সে তাকে প্রানে মেরে ফেলবে বলে অনবরত হুমকি দিয়ে যা”েছ। তাই শিল্পী ও তার সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় বিভিন্ন আত্মীয়ের আশ্রয়ে দিন কাটা”েছ এবং বা”চাকে স্কুলে দিতে পারছে না। উল্লেখ্য সানরি হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পী গত ১৮/২/২০১৮ তারিখে এসি সালাউদ্দিন স্যারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করে কোন প্রকারের সহযোগিতা পায়নি এবং সানির নির্যাতনের স্বীকার হয়ে গত ২৪/০৩/২০১৮ ইং তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করি। জিডি নং-৮৪৪। ছানির সম্পর্কে অনুসন্ধান চলছে। চলবে….

