হরিজনদের মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা মানুষ এবং এদেশের নাগরিক হিসেবে হরিজনদের সম অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা দিতে হবে।

0
1333

জাত-পাত ও পেশার কারণে এদেশের হরিজনরা  অবিচার, বৈষম্য, নিপীড়ন ও অসম্মানের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। আমাদের সংবিধানে জাত-পাত ও পেশার কারণে কোনো মানুষের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য নিষিদ্ধ। তাই কৃষক-শ্রমিক, হরিজনদের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য চলছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব ও উদাসীন। তাই আমরা মানুষ ও দেশের নাগরিক হিসেবে হরিজনদের সকলের মত সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাই। আজ ২৮ মার্চ মঙ্গলবার রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যলয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হরিজন সম্প্রদায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানায়। হরিজন সংগঠন সহায় এই মানববন্ধন সমাবেশের আয়োজন করে। রংপুর প্রেসক্লাবে জমায়েত হয়ে হরিজনরা মিছিল করে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মীর আনিসুল হক পেয়ারা, রংপুরের সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডাঃ মফিজুল ইসলাম মান্টু, মানবধিকার নেত্রী এ্যাডভোকেট কোহিনুর বেগম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সহায় এর উপদেষ্টা শাহীন রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুরের নেতা পলাশ কান্তি নাগ, রংপুর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ রায়, বাসদ রংপুর জেলার নেতা মিজানুর রহমান। সহায় এর সভাপতি রাজা বাসফোর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সুরেশ বাসফোর, সুজন বাসফোর, সিলিপ বাসফোর, সাজু বাসফোর প্রমুখ হরিজন নেতৃবৃন্দ। হরিজন নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন- রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি, দোকান-পাট, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ প্রতিদিন পরিস্কার করা আমাদের কাজ। অনেক দিন ধরে আমরা এই কাজ-কর্ম করে বেঁচে আছি। বিকল্প কোনো কাজ করার সুযোগ বা অধিকার আমাদের নেই। আমাদের এই কাজ সমাজের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমরা যারা এই কাজ-কর্মে যুক্ত তাদের ঘৃণা করা হয়। সমাজ আমাদের অচ্ছূত বা অস্পৃশ্য করে রাখে। ফলে আমরা সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকি। সকলের সঙ্গে বসবাস, চলাফেরা, মেলামেশা, খানা-পিনা আমরা করতে পারি না। স্কুলে আমরা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হই। হোটেলে বসে আমাদের খাবার অধিকার নেই। এমনকি ফুটপাতের দোকানেও চা-নাস্তা আমাদের খেতে দেওয়া হয় না। মূল জনপদে আমরা থাকতে পারি না। শহরের পেছনে নির্দিষ্ট স্থানে আমাদের থাকতে বাধ্য করা হয়। আমাদের স্পর্শ বা ছোয়া নাকি অপবিত্র। সেই জন্য হরিজনদের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবীসমূহ তুলে ধরা হয়:
* জাত-পাত ও পেশার কারণে হরিজনের প্রতি অবিচার বৈষম্য ও নিপীড়ন করা চলবে না * দেশের নাগরিক হিসাবে প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা দিতে হবে * মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেলামেশার ক্ষেত্রে হরিজনের প্রতি বৈষম্য করা চলবে না * হরিজনদের হোটেলে বসে খাবার অধিকার দিতে হবে * সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হরিজনদের শিক্ষার সমান সুযোগ ও অধিকার দিতে হবে * হরিজনদের সকল ধরণের পেশা, কাজ ও চাকুরি লাভের অধিকার দিতে হবে * হরিজনের নিজস্ব বসতবাড়ি ও সম্পদ লাভের অধিকার দিতে হবে   * পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে চলাফেরায় হরিজনদের অসম্মান করা চলবে না * হরিজনদের সামাজিক নিরাপত্তা দিতে হবে।
মানববন্ধন সমাবেশ শেষে হরিজন সংগঠন সহায় এর পক্ষ থেকে উপরোক্ত দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে নিকট স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
বার্তা প্রেরক
হরিজন সংগঠন সহায়-এর পক্ষ থেকে
রাজা বাসফোর

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here