সুনামগঞ্জ সীমান্তে ২টন চোরাই কয়লা উদ্ধার

0
608

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২মে.টন চোরাই কয়লা উদ্ধার করেছে বিজিবি। কিন্তু সোর্স পরিচয়ধারী চোরাই কয়লার মালিকদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে হয়নি কোন মামলা। যার কারণে সোর্সরা দাপটের সাথে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নতুন করে কিভাবে আবার কয়লা পাচাঁর করা যায় তার পরিকল্পনা করছে বলে জানাগেছে।
এলাকাবাসী জানায়- আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে চারাগাঁও ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লালঘাট গ্রামের বিশিস্ট চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী শহিদুল্লার বাড়ির চারপাশে লুকিয়ে রাখা প্রায় ২মে.টন চোরাই উদ্ধার করেছে।

Advertisement

গত শনিবার রাত ৭টায় বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয়ধারী রমজান মিয়া,শফিকুল ইসলাম ভৈরব,লেংড়া জামাল,ইয়াবা কালাম মিয়া ও জিয়াউর রহমান জিয়া তাদের সিন্ডিকেডের চিহ্নিত চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী শহিদুল্লা,খোকন মিয়া,বাবুল মিয়া,জসিম মিয়া,হারুন মিয়া,জানু মিয়া ও লেংড়া বাবুলকে নিয়ে শতশত লোক দিয়ে লামাকাটা,জংগলবাড়ি,বাঁশতলা,লালঘাট ও লাকমা এলাকা দিয়ে পৃথক ভাবে ভারত থেকে কয়লা ও মাদক পাচাঁর করে যার যার বাড়িঘরের ভিতরে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। ওই সময় বিজিবি সদস্যরা লালঘাটের ১১৯৬পিলার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ বস্তা কয়লা জব্দ করে চারাগাঁও ক্যাম্পে ফিরে যায়।

পরে রাত ৮টায় চোরাই কয়লার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে লালঘাট গ্রামের রাস্তায় উপরের উল্লেখিত সোর্স ও চোরাই কয়লা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা বৃদ্ধি করে বিজিবি। একারণে গত কয়েকদিন যাবত ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়লা পাচাঁর বন্ধ রয়েছে। তাই সোর্স ও চোরাচালানীদের বাড়িঘর ও তার আশেপাশে লুকিয়ে রাখা পাচাঁরকৃত চোরাই কয়লা ও মাদক অন্য কোথাও সড়াতে পারেনি। কিন্তু গত ৪ মাসে সীমান্তের লামাকাটা,জংগলবাড়ি,বাঁশতলা,লালঘাট,লাকমা ও টেকেরঘাট এলাকা দিয়ে উপরের উল্লেখিত সোর্স পরিচয়ধারী চিহ্নিত চোরাই কয়লা ব্যবসায়ীরা প্রায় কোটি টাকার কয়লা ও মাদক পাঁচার করে নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলা সদরের মনতলা নিয়ে বিক্রি করেছে বলে জানাগেছে।

তাই বিজিবির সৎ ও দায়িত্ব পরায়ন কর্মকর্তাদের এই সীমান্ত এলাকার দায়িত্ব দিলে বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয়ধারীরাসহ চিহ্নিত চোরাই কয়লা ও মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করা বিজিবির পক্ষেই সম্ভব হবে বলে দুই শুল্কস্টেশনের বৈধ কয়লা ব্যবসায়ীরা জানান।
তবে অভিযান চালিয়ে কয়লা উদ্ধারের ব্যাপারে চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মালেকের সরকারি মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করার পর ফোন রিসিভ না করার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


উল্লেখ, চোরাই কয়লা নিয়ে সম্প্রতি চারাগাঁও ক্যাম্পের জংগলবাড়ি গ্রামে সংঘর্ষে ২মহিলাসহ ১২জন আহত হয় এবং লাউড়গড় সীমান্ত দিয়ে পাচাঁরকৃত চোরাই কয়লা নিয়ে বিজিবি ও চোরাচালানীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ ১১ রাউন্ড গুলি বর্ষন করা হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় নারী,শিশু ও বিজিবি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ গং দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু চারাগাঁও সীমান্তের চোরাই কয়লা নিয়ে পরপর ২বার সংঘর্ষ হওয়ার পরও বিজিবি অধিনায়কের সোর্স পরিচয়ধারী ও চিহ্নিত চোরাচালানদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here