মাজহারুল ইসলাম রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ঃ
রৌমারী’র ৩নং বন্দবেড় ইউনিয়নে টি-আর, কাবিটা ও বিশেষ বরাদ্দের প্রায় অর্ধকোটি টাকা লুট-পাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকার সারাদেশের ন্যায় রৌমারী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে টি-আর, কাবিটার ৩২৬টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। উপজেলার বন্ঠন অনুযায়ী বন্দবেড় ইউনিয়নে ৩০টি প্রকল্পে ৪৭লাখ ৩৬ হাজার ২৪৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান উক্ত বরাদ্দের টাকা মনগড়া ভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রকল্প দাখিলের মাধ্যমে কোথায় আংশিক আবার কোথাও কোন প্রকার কাজ নাকরে এসব অর্থ নয়-ছয় করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাবিটা ২য় পর্যায়ে প্রকল্প নং ৬, জন্তির কান্দা ডিসি রাস্তার পুর্ব পাশ্বে শহিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুণ নির্মাণ ৩লাখ ৭ হাজার ৫১৮ টাকা। কাবিটা ২য় পর্যায় সাধারণ কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত বাঘমারা সামসুলের বাড়ি হতে সোনাভরি নদী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ৮২ হাজার টাকা। চর-বন্দবেড় ঈদগাহ মাঠ সংস্কার ও সোলার প্যানেল স্থাপন ২লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৮ টাকা, কাবিটা প্রথম পর্যায়, বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টারে সোলার প্যানের স্থাপন ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৭৫ টাকা। বাগুয়ারচর ব্রীজ হতে ঈদ-গাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ৮২ হাজার টাকা। বাইটকামারী জামে-মসজিদ সংস্কার ৮২ হাজার টাকা। দক্ষিণ খঞ্জনমারা আনছেরের বাড়ি হতে মহির মাষ্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ৩ লাখ ৬২ হাজার ৬৭৫ টাকা। বন্দবেড় বাগুয়ারচর মোখলেচের বাড়ি হতে কাসেম মাষ্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ৩ লাখ ২ হাজার টাকা। চর-বন্দবেড় ক্লিনিকে মাটি ও সোলার প্যানেল স্থাপণ ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ টাকা। একই অর্থবছরে একই জায়গায় চর-বন্দবেড় ক্লিনিক সংস্কার ২ লাখ টাকা। তবে চর-বন্দবেড় ক্লিনিকটি সরকারী ভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে মেরামত করা হয়েছিল। কি করে একই জায়গায় প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে তাহা সমুলে লোপাট করে। এসব যেন দেখার কেউ নেউ। এছাড়া বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের ইডিজিটাল সেন্টারে সোলার প্যানেল স্থাপণ ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৭৫ টাকা। বন্দবেড় ইউনিয়ন এ পাঠাগার ও আসবাবপত্র ক্রয় ২ লাখ টাকা। তথ্য সেবা কেন্দ্রে ফটোস্টার্ট মেশিন ও লেজার প্রিন্টার ক্রয়। এসুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন, কাবিটা প্রকল্পের ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ টাকা ও এলজি এসপির ২লাখ টাকা যাহা কৌশলে পকেটস্থ করেন।
এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফাউজুল কবির এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোন কোন প্রকল্পে কাজ হয়নি বিষয়টি আমাকে লিখিত ভাবে অবগত করলে তাহা খতিয়ে দেখা হবে। এনিয়ে রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(ভার) সিরাজুদ্দৌলা বলেন , আমি মূলত চিলমারী উপজেলার দায়িত্বে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রৌমারী দিয়েছে। আমার সময় না থাকায় রৌমারী যেতে পারিনা। তবে রৌমারীতে দলাদলি বেশী, তাই সেখানে না গিয়ে রৌমারী পিআইও অফিস থেকে ফাইল নিয়ে আসলে আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি।
