বায়তুল মোকাররমে স্বর্ণ চোরাচালান ও মুদ্রা পাচার বাণিজ্য নেপথ্যে রূপসাগর ও আনন্দ জুয়েলার্স মূল হোতা হাজী মোহাম্মদ উল্লাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে

0
634

সফিউর রহমান সফিক:
ঢাকা শহরের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র বায়তুল মোকাররম মাকের্টের নীচতলার রূপসাগর এন্ড নিউ আনন্দ জুয়েলার্সের কর্নধার হাজী মোহাম্মদ উল্লাহ নামক ব্যক্তি, বিপুল অংকের সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালানি বাণিজ্য করলেও অদৃশ্য কারণে এখনও ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। জুয়েলারী দোকানের আড়ালে বহুদিন থেকে হাজী মোহাম্মদ উল্লাহ চোরাই সোনা ও সোনা চোরাচালানী, মুদ্রা পাচার ব্যবসার করছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রও অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ সোনা চোরাচালানী ব্যবসা করে মোহাম্মদ উল্লাহ এখন কোটি কোটি টাকার ধন সম্পদের মালিক। নামে-বে নামে রয়েছে তার বিপুল ধন সম্পত্তি গাড়ি, বাড়ি, ফ্লাট।

Advertisement

নাম মাত্র জুয়েলার্স ব্যবসার মাধ্যমে এককালের ফুট পাতের লেদার সুটকেসের ব্রোকার কি যাদুর বদৌলতে এত ধন-সম্পদের মালিক হল এই বিষয়ে দুদুক ও শুল্ক গোয়েন্দার দৃষ্টি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল ঐ দুটি সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানান, বেশ কিছুদিন আগে অবৈধ সোনার ব্যবসার অভিযোগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাজী মোহাম্মদ উল্লাহ তার ক’জন সহযোগীসহ পুলিশের হাতে চোরাই সোনা-ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়। ঐ মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে অতপর জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনরায় শুরু করছেন আগের সেই পুরানো ব্যবসা। চোরাই-ডাকাতির সোনার ব্যবসার মামলাটি এখনও কোর্টে বিচারাধীন। এদিকে সূত্রে আরো জানা গেছে মোহাম্মদ উল্লাহর মত কয়েকটি চক্র দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেরা এবং বাহকের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ র্স্বণ আনছে। এরপর চোরাইপথে আনা স্বর্ণ পাচার করছে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে। ঐ ব্যাক্তি অবৈধ সোনা চোরাচালানী এবং চুরি,ডাকাতি,লুণ্ঠন ও ছিনতাইকৃত সোনা-গহনার ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকাও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে। সূত্রে আরো জানা যায় বায়তুল মোকাররম ও তার আশ পাশের এলাকায় হাজী মোহাম্মদ উল্লাহর মত অনেক ব্যবসায়ী রয়েছে যারা জুয়েলারী ও অন্য ব্যবসার দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ করছে স্বর্ণ চোরাচালানী ও মুদ্রা পাচার বাণিজ্য। শুধু তাই নয়, ঐ চক্র প্রতিদিন দেশি-বিদেশী কোটি কোটি টাকার বিদেশী মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করছে বিদেশে। সরকার স্বর্ণ চোরাচালান ও মুদ্রা পাচার বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না মোহাম্মদ উল্লাহর মত চোরাকারবারীদের অবৈধ ব্যবসা। প্রশাসনের অসৎ কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় চক্রটি করছে স্বর্ণ চোরাচালানী ও মুদ্রা পাচার বাণিজ্য যার কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে স্বর্ণ চোরাচালানী গং-রা। এদিকে আরো জানা গেছে, মোহাম্মদ উল্লাহ প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যাক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে চোরাই সোনা ব্যবসার পাশা পাশি করছে অবৈধ বানিজ্য। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার অবৈধ ব্যবসার ব্যপারে তার মন্তব্য জানতে চাইলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে কথা বলে ফোন বন্ধ করে দেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here