পরিশোধন ছাড়াই তরল বর্জ্য বাইরে ফেলার অভিযোগ

0
849

ঢাকার আশুলিয়ার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট (সিইটিপি) থেকে পরিশোধন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ তরল বর্জ্য বাইরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিইটিপি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষের (বেপজার) সঙ্গে স¤পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের বর্জ্য পরিশোধনকারী কো¤পানি ফ্লাগশিপ ইকোসিস্টেম প্রাইভেট লিমিটেড ২০১২ সালে ডিইপিজেড এলাকার পুরাতন জোনে সিইটিপি স্থাপন করে। বর্তমানে এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫৮টি শিল্প কারখানার প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন করা হচ্ছে। সিইটিপি কর্তৃপক্ষ প্রতি ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধন করে সংশ্লিষ্ট কারখানা থেকে ৩১ দশমিক ৬০ টাকা হারে বিল আদায় করছে। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মাসিক গড় আয় প্রায়
দেড় কোটি টাকা। আর ব্যয় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা। এ বিপুল পরিমাণ খরচ বাঁচাতেই পরিশোধন ছাড়াই তরল বর্জ্য বাইরে ফেলা হচ্ছিল। খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট দল ১১ আগস্ট সিইটিপি পরিদর্শনে যায়। ওই দলে নেতৃত্ব দেন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট পরিচালক মো. আলমগীর। সে সময় অপরিশোধিত তরল বর্জ্য বাইরে ফেলার প্রমাণ পায় দলটি। মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই কারণে সিইটিপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিম সিলভারম্যানকে অধিদপ্তরে তলব করে ৩৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জিম সিলভারম্যান বলেন, পরিশোধন ছাড়া তরল বর্জ্য বাইরে ফেলার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ১১ আগস্ট সিইটিপি পরিদর্শনে গিয়ে দলটি এমন কোনো প্রমাণ পায়নি। তবে তিনি এর আগে জরিমানা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। গত মঙ্গলবার ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুস সোবাহানের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে
পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট দল ১১ আগস্ট সিইটিপি পরিদর্শন করে কিছু ত্রুটি পেয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্টের সদ্য সাবেক (১৬ আগস্ট অধিদপ্তরের গবেষণাগারে বদলি করা হয়) পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, অধিক মুনাফার জন্য পরিশোধন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ তরল বর্জ্য বাইরে ফেলা হচ্ছিল। এর প্রভাবে ডিইপিজেড এলাকার আশপাশের জলাধারসহ পার্শ্ববর্তী বংশী নদীর জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব কারণে সিইটিপি কর্তৃপক্ষকে গত বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তারা অধিদপ্তরের শুনানিতে অংশ না নিয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল আবেদন করেছেন। বিষয়: বিশাল বাংলা আশুলিয়া ঢাকা বিভাগ পরিবেশ

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here