তামাক ব্যবসায়ী থেকে শীর্ষ ভূমিদস্যু এম এ হাসেম

0
3880

অপরাধ বিচিত্রা ঃ
বহুল আলোচিত ভূমিদস্যু পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম। যার জীবনটাই দুর্নীতি আর অবৈধভাবে টাকা আয়ের চাপ পড়ে আছে। অন্যায়, প্রতারণা আর ভূমিদস্যুতায় তিনি হয়েছেন কোটিপতি। যদিও এর আগে তিনি ছিলেন একজন তামাক ব্যবসায়ী। তবে কোটি পতি হওয়া সত্ত্বে তিনি পরিবর্তন করতে পারে নি তার আগের রুপ অথবা কর্মকান্ড। আগের ন্যায় এখন আর করতে হয় তামাক ব্যবসা। বর্তমানে তিনি নিরীহ সাধারন মানুষের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তারই লালিত পালিত বাহিনী দিয়ে করে আসছে ভূমিদস্যুতা। অন্যান্য ব্যবসার অন্তরালে তিনি সাধারন মানুষের জমি জমা জবর দখল করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সূত্রে জানা যায়, বেসরকারী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম একসময়ের তামাক ব্যবসায়ী হলেও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি এবং ভূমিদস্যু। স্বাধীনতার আগে তামাক ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর পণ্য আমদানির ব্যবসায় নাম লেখান। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাননি ভূমিদস্যু এম এ হাসেম। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুস¤পর্ক গড়ে তিন দশকে গড়ে তোলেন পারটেক্স গ্রুপের একের পর এক প্রতিষ্ঠান। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভূমিদস্যু এম এ হাসেম যোগ দেন বিএনপিতে। এরপর তাঁর ব্যবসার আরও স্ফীতি ঘটে। বিলাসবহুল গাড়ি, জমি দখলসহ নানা ঘটনায় তিনি হয়ে ওঠেন আলোচিত। দেশে জরুরী অবস্থা জারির পর সন্দেহভাজন দুর্নীতিগ্রস্তদের যে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয় তাতে এম এ হাসেমের নাম ছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পারটেক্স গ্রুপের অধীনে মোট ২০টি কো¤পানি পরিচালিত হচ্ছে। এসব কো¤পানির তালিকায় স্টার পার্টিকেল বোর্ড মিলস, ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক বাংলাদেশ, ড্যানিশ ফুড প্রোডাক্টস, ড্যানিশ মিল্ক বাংলাদেশ, আম্বার কটন মিলস, আম্বার পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, পারটেক্স বেভারেজ, পারটেক্স ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্যানিশ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, পারটেক্স প্লাস্টিক, রুবেল স্টিল মিলস, পারটেক্স রিয়েল এস্টেট, স্টার ভেজিটেবল ওয়েল মিলস, স্টার কোকোনাট মিলস, ঢাকা কম লিমিটেড, করভি মেরিটাইম কো¤পানি, ফটোরোমা লিমিটেড, ফিরোটেকনিক লিমিটেড, হাসেম করপোরেশন ও পারটেক্স লিমিটেড। এসব কো¤পানিতে হাজার কোটি টাকার পুঁজি লগ্নি রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য ওই সূত্রটি জানায়, পারটেক্স গ্রুপের বেশ কিছু কো¤পানির মালিকানায় এম এ হাসেম আর নেই। এগুলো তাঁর দুই ছেলে আজিজ আল কায়সার ও রুবেল আজিজের মালিকানায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে এসব কো¤পানির মালিক ও পরিচালক।

Advertisement

sasa20140902115117 এম এ হাসেম শুধু পারটেক্স হোল্ডিংয়ের মালিকানায় থাকা কো¤পানিগুলোর মালিক। যদিও এসব পৃথক্করণের সব আনুষ্ঠানিকতা এখনো শেষ হয়নি। যৌথ মূলধনী কো¤পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এম এ হাসেমের প্রথম কো¤পানি ছিল হাসেম ট্রেডিং করপোরেশন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই কো¤পানি তেল, আটা, গম, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অন্যতম আমদানিকারক। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল করার অভিযোগ উঠেছে। আশির দশকের শুরুতে সামরিক সরকার যখন ঢালাওভাবে শিল্পায়নের নীতি গ্রহণ করে তখন এম এ হাসেম গড়ে তোলেন স্টার পার্টিকেল বোর্ড। ১৯৮৩ সালে এটি শিল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সামরিক সরকারের আমলে ভূমিদস্যু এম এ হাসেম গড়ে তোলেন পারটেক্স লিমিটেড, স্টার ভেজিটেবল অয়েল ও রুবেল স্টিল মিলস। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি স¤পর্ক গড়ে তোলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সঙ্গে। আম্বার কটন মিলস, আম্বার পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, পারটেক্স বেভারেজ, পারটেক্স রিয়েল এস্টেট, ড্যানিশ মিল্কের মতো কো¤পানি গড়ে তোলেন ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সময়ে। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি এতটা দ্রুতগতিতে না এগোলেও থেমে থাকেননি। ঢাকা কম, ড্যানিশ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ও পারটেক্স প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ গড়ে তোলেন এ সময়। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভূমিদস্যু এম এ হাসেম যোগ দেন বিএনপিতে। বিপুল অর্থ খরচ করে নোয়াখালী-২ (বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী) আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন। সাংসদ হয়ে ভূমিদস্যু এম এ হাসেম নতুন করে ব্যবসা খোলার পাশাপাশি নজর দেন জমি সংগ্রহের ওপর। তখন নোয়াখালীর উপকূলীয় চরাঞ্চলে ২০০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। চৌমুহনীতে নিজ নামে মেডিকেল কলেজ করার অজুহাতে ২৫ একর জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ আছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় ৪৭ একর বনের জায়গা বেআইনি দখলের অভিযোগ আছে ভূমিদস্যু এম এ হাসেমের বিরুদ্ধে। ২০০৩ সালে বনের জায়গা ঘিরে পারটেক্স গ্রুপের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৪ সাল থেকে বন বিভাগ এই জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ভালুকার হবিরবাড়ী বিটের কর্মকর্তা ২০০৪ সালের ৪ জানুয়ারি ভালুকা থানায় জবরদখলের অভিযোগে থানায় জিডি হয় ভূমিদস্যু এম এ হাসেম এর বিরুদ্ধে। একই মাসের ২৬ তারিখে আরও একটি জিডি করা হয়। পরের বছর ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মামলা দায়ের করে বন বিভাগ। মামলায় ভূমিদস্যু এম এ হাসেম প্রধান আসামি করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পর্যন্ত একাধিক অভিযোগ জমা রয়েছে।(চলবে)

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here